Inqilab Logo

ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ এপ্রিল ২০২১, ০৭ বৈশাখ ১৪২৮, ০৭ রমজান ১৪৪২ হিজরী

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত

| প্রকাশের সময় : ৩ মার্চ, ২০২১, ১২:০১ এএম

করোনার কারণে এক বছর ধরে বন্ধ থাকা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। কয়েক মাস আগে জাতিসংঘের শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থার পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, শিশুরা আরো এক বছর স্কুল বন্ধ থাকার ধকল পোহাতে পারবে না। বছরের শুরুতেই ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক হেনরিয়েটা ফোর দেশগুলোকে স্কুল-কলেজ খুলে দেয়ার আহবান জানিয়েছিলেন। উল্লেখ্য, পশ্চিমা দেশগুলোর কোথাও কোথাও করোনার সেকেন্ড ওয়েভের কারণে নতুন করে লকডাউন, শাটডাউনের সম্মুখীন হলেও বাংলাদেশে সে অবস্থা নেই। জনসচেতনতা এবং সরকারের নানামুখী উদ্যোগের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ করোনাভাইরাস মোকাবেলায় বেশ সাফল্য দেখাতে সক্ষম হয়েছে। এ প্রেক্ষিতে, দেশের গার্মেন্টস শিল্পসহ নানা খাতে মন্দা দেখা দিলেও দেশের অর্থনীতির প্রায় সব সেক্টর চালু করা হয়েছে। তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। বছরজুড়ে স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে যে বিরূপ প্রভাব দেখা দিয়েছে তা প্রায় প্রতিটি পরিবার ও সমাজে স্থায়ী প্রভাব সৃষ্টি করছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। এসব বিবেচনায় অনতিবিলম্বে স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত সমর্থনযোগ্য। তবে সরকার এখন বিদ্যালয় খোলার যে সময় নির্ধারণ করেছে, তা যথাযথ কিনা বিবেচনার দাবী রাখে।

বিদ্যালয় খুলে দিতে ইউনিসেফের পক্ষ থেকে আহবান জানানোর দুই মাস পর সরকার আগামী ৩০ মার্চ স্কুল-কলেজ খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিস্ময়ের ব্যাপার হচ্ছে, বিশ্ববিদ্যালয় ও পাবলিক সার্ভিস কমিশনের স্থগিত পরীক্ষা শুরু হলেও হঠাৎ করেই তা পুনরায় বন্ধ ঘোষণা করেছে সরকার। এ নিয়ে দেশের সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্ররা বিক্ষোভ করছে। সব মিলিয়ে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা এক জটিল অবস্থায় নিপতিত হয়েছে। স্কুল-কলেজ খোলার সিদ্ধান্ত নিলেও বিশ্ববিদ্যালয় খোলার সময় আরো দুই মাস পিছিয়ে দেয়ার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তার চেয়েও বাস্তব প্রশ্ন হচ্ছে, স্কুল-কলেজ চালুর সরকার ঘোষিত টাইমিং নিয়ে। শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন রক্ষার পাশাপাশি এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসতে হলে আমাদেরকে সামগ্রিক বাস্তবতাও মনে রাখতে হবে। এপ্রিলের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে পবিত্র রমজান মাস শুরু হবে। ৩০ মার্চ স্কুল কলেজ খুলে ঈদুল ফিতরের আগ পর্যন্ত রমজান মাস জুড়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালু রাখার নানাবিধ সমস্যা সংকটের বিষয়গুলোকে অগ্রাহ্য করার কোনো সুযোগ নেই। একদিকে গ্রীষ্মের প্রচন্ড গরমসহ বিরূপ আবহাওয়া, শিক্ষক-অভিভাবক এবং শিক্ষার্থীরা রোজা পালন করে শিক্ষা কার্যক্রম কতটা নির্বিঘ্নে ও প্রসন্ন চিত্তে পালন করতে পারবে তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে।

দেশের অর্থনীতির প্রায় সব সেক্টরই চালু আছে, মানুষের জীবনযাত্রাও প্রায় স্বাভাবিক। এহেন বাস্তবতায় যথাশীঘ্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো খুলে দেয়া সময়ের দাবি। তবে রমজান মাস ও গ্রীষ্মের বিরূপ আবহাওয়ায় স্কুল-কলেজ খোলা রাখার সিদ্ধান্ত কতটা যৌক্তিক ও বাস্তবসম্মত তা বিবেচনায় রাখতে হবে। ঐতিহ্যগতভাবেই রোজায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছুটি থাকে। এ সময়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা রাখা নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এমনিতেই রাজধানীর বর্তমান যানজট অসহনীয় অবস্থায় রয়েছে। চলাফেরা অত্যন্ত কঠিন ও সময়সাপেক্ষ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রমজান ও ঈদের বাজার কেন্দ্র করে রাজধানীসহ বিভাগীয় শহরগুলোতে মানুষের ব্যস্ততা, অর্থনৈতিক কার্যক্রম, গণপরিবহনের চাপ ও যানজট বেড়ে যেতে দেখা যায়। এ সময়ে সব স্কুল-কলেজ খুলে দেয়া হলে পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ হয়ে উঠবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এহেন বাস্তবতা সামনে রেখে মার্চের প্রথম দিকেই স্কুল-কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দিয়ে রমজানের দ্বিতীয় সপ্তাহের আগেই ঈদ ও গ্রীষ্মের জন্য বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হলে তা যুক্তিযুক্ত ও গ্রহণযোগ্য হতো। তা না করে এমন সময় নির্ধারণ করা হয়েছে যা যথাযথ সিদ্ধান্ত যেমন হয়নি, তেমনি অভিভাবকরাও বিপাকে পড়েছে। আমরা মনে করি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার বিষয়টি যথাযথ হওয়া উচিত। রোজা রেখে গরম আবহাওয়া ও প্রচন্ড যানজটে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের যাতায়াত অত্যন্ত কষ্টদায়ক হয়ে উঠবে। এ অবস্থায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নেয়া বাঞ্ছনীয়। উল্লেখ করা প্রয়েঅজন, করোনাকালীন বাস্তবতায় দেশের অধিকাংশ মানুষের আয় রোজগার কমে গেছে। বছরজুড়ে স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকায় বেসরকারি স্কুল-কলেজ শিক্ষকরাও অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছেন। একশ্রেণীর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নামমাত্র অনলাইন ক্লাস চালু রেখে পুরো টিউশন ফি আদায়ের জন্য চাপ সৃষ্টি করছে। এমতাবস্থায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার ঘোষিত তারিখসহ সামগ্রিক বিষয়গুলো নিয়ে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে পুনর্মূল্যায়ণ ও সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি রাখে।

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: শিক্ষা


আরও
আরও পড়ুন