Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৯ মার্চ ২০১৯, ০৫ চৈত্র ১৪২৫, ১১ রজব ১৪৪০ হিজরী।

ব্রাজিলের নতুন নায়ক জেসুস

প্রকাশের সময় : ৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৬, ১২:০০ এএম

স্পোর্টস ডেস্ক : ৩৩ বছর ধরে যে গেরো খুলতে পারেনি ব্রাজিল, সেই গেরো অক্ষুণœ থাকল ম্যাচের ৭০ মিনিট পর্যন্তও। তাহলে কি ইকুয়েডরের ভৌগোলিক ধাঁধার জট খুলতে পারবে না ব্রাজিল? না, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে বেশি উচ্চতা, বৈরী পরিবেশ, নিশ্বাসে সমস্যা সবকিছুই যেন উড়ে গেল এক জাদুতেই। নেইমারের পেনাল্টি কিকই খুলে দিল সেই জট। পরে আরো দুই গোল করে ঐতিয্যবাহী হলুদ জার্সিতে অভিষেকটাও রাঙিয়ে রাখলেন গ্যাব্রিয়েল জেসুস।
অলিম্পিকে আলো ছড়ানো জেসুস গোল দুটি করেন ৫ মিনিটের ব্যবধানে। তবে এজন্য ভাগ্যেরও সহায়তা ছিল। নেইমারের গোলের ৬ মিনিট পরই ১০ জনের দলে পরিনত হয় ইকুয়েডর। শেষ সময়ে যখন তারা গোলের জন্য মরিয়া ঠিক তখন মার্সেলোর বাড়ানো বল দুর্দান্ত ব্যাক-হিলে লক্ষ্যে পাঠিয়ে দেন। যোগ করা সময়ে নেইমারের বাড়ানো বলে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন সদ্য ম্যানচেস্টার সিটিতে নাম লেখানো ১৯ বছর বয়সী স্ট্রাইকার। ব্রাজিলও যেন পেয়ে গেলো তাদের সেই বহু প্রতিক্ষিত ‘পারফেক্ট নাম্বার নাইন’।
আর্জেন্টিনার মত ব্রাজিলেও এটা ছিল নবযাত্রা। নতুন কোচ তিতের অধীনে প্রথম ম্যাচেই নেইমাররা যেন এই বার্তাই দিলেনÑ এগিয়ে যেতে তারা প্রস্তুত। এই একটিমাত্র জয়ই তাদের বাড়তি প্রেরণা জোগাচ্ছে। জয়টাও ছিল গুরুরত্বপূর্ণ। বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে পয়েন্ট তালিকার ৫ নম্বরে থাকাটা তো ৫ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের সাজে না। এই জয়ের পরেও অবশ্য ৫ নম্বরেই আছে তারা। তবে শীর্ষে থাকা আর্জেন্টিনার (১৪) সাথে তাদের পয়েন্ট ব্যবধান মাত্র ২।
ম্যাচ শেষে কোচ তিতে প্রশংসায় ভাসালের জেসুস-নেইমারকে, ‘গাব্রিয়েলকে (জেসুস) নিয়ে কুকা, মার্সেলো (অলিভেইরা) আর অসভালদো (দে অলিভেইরা) কাজ করেছে। এটা আমাকে অনেক সাহায্য করেছে, আমি তাদের সঙ্গে কথা বলেছিলাম। তাদের জন্যেই এই জয়।’ পেনাল্টির মাধ্যমে প্রতিপক্ষের গোলমুখ খুলে দেওয়া  বার্সেলোনা ফরোয়ার্ড নেইমারকে নিয়ে তিতে বলেন, ‘পুরো দলই ভালো খেলেছে এবং সে-ও (নেইমার) ভালো খেলেছে।’
পয়েন্ট তালিকায় দলগুলোর মধ্যে কম ব্যবধান থাকায় লাতিন আমেরিকা অঞ্চলের ফুটবলীয় লড়াইকে আরো যেন সৌন্দর্যম-িত করেছে। ৭ ম্যাচ শেষে শীর্ষ ৬ দলের পয়েন্ট ব্যবধান মাত্র ২। উরুগুয়েকে (১৩) হারিয়ে শীর্ষে উঠে এসেছে আর্জেন্টিনা। দুয়ে থাকা উরুগুয়ের সাথে তিন ও চার নম্বর দল কলম্বিয়া ও ইকুয়েডরের পয়েন্টও সমান ১৩। গোল ব্যবধান এক্ষেত্রে পজিশন নির্ধারক। ব্রাজিলের সমান ১২ পয়েন্ট প্যারাগুয়েরও। কোপা আমেরিকা চ্যাম্পিয়ন চিলি ১০ পয়েন্ট নিয়ে ৭ নম্বরে। এই অঞ্চল থেকে শীর্ষ ৪ দল সরাসরি ও পঞ্চম স্থানে থাকা দল প্লে-অফের মাধ্যমে সুযোগ পাবে বিশ্বকাপের মূলপর্বে।

একনজরে ফল
বলিভিয়া ২-০ পেরু
কলম্বিয়া ২-০ ভেনিজুয়েলা
ইকুয়েডর ০-৩ ব্রাজিল
আর্জেন্টিনা ১-০ উরুগুয়ে
প্যারাগুয়ে ২-১ চিলি



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন