Inqilab Logo

ঢাকা সোমবার, ১৯ এপ্রিল ২০২১, ০৬ বৈশাখ ১৪২৮, ০৬ রমজান ১৪৪২ হিজরী

উদাসীনতায় ধ্বংসের পথে

ছাতকবাজার রেলওয়ে বিভাগ ঝিমিয়ে আছে কংক্রিট স্লিপার প্ল্যান্ট

কাজি রেজাউল করিম রেজা, ছাতক (সুনামগঞ্জ) থেকে : | প্রকাশের সময় : ৪ মার্চ, ২০২১, ১২:০১ এএম

নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত ঐতিহ্যবাহী ছাতকবাজার রেলওয়ে বিভাগ। এ বিভাগটির অধীনে রয়েছে ছাতক-সিলেট রেলপথ, ছাতক-ভোলাগঞ্জ রজ্জুপথ(রোপওয়ে) ও দেশের সরকারি একমাত্র কংক্রিট স্লিপার প্ল্যান্ট।
এক সময়ের লাভজনক বিভাগটি এখন লোকসানে পরিণত হচ্ছে। আলো থেকে অন্ধকারে নেমে আসার কারণে সরকার যেভাবে হারাচ্ছে রাজস্ব তেমনি ছাতকবাসী হারাতে বসেছে ঐতিহ্যের ঠিকানা। জনবল সঙ্কট, কিছু কর্মকর্তাদের অনিয়ম-দুর্নীতিসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় বিভাগটি ধ্বংসের পথে। কবে আলোর মুখ দেখবে এমনটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে এ অঞ্চলের মানুষের মাঝে।
জানা যায়, ছাতকবাজার রেলস্টেশন থেকে প্রতিদিন চারটি ট্রেন সিলেটে যাতায়াত করতো। এগুলোর সাথে মালামাল পরিবহনের জন্য ৪টি বগিতে সিমেন্ট, পাথর, চুনাপাথর, তেজপাতা ও কমলা লেবুসহ বিভিন্ন ধরনের কাঁচামাল কম খরচে পরিবহন করা হতো। এছাড়া এক সময় সুনামগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে নদী পথে লঞ্চ ও ইঞ্জিন চালিত নৌকা যোগে লোকজন ছাতকে এসে জড়ো হয়ে রাতযাপন করে পরদিন সকালে এখান থেকে ট্রেন যোগে সিলেটসহ সারা দেশে যাতায়াত করতেন। তেমনি সিলেট থেকে ট্রেন যোগে ছাতকবাজার হয়ে সুনামগঞ্জ জেলাবাসীর যাতায়াতের এক মাত্র প্রধান মাধ্যম ছিল এ ঐতিহ্যবাহী ট্রেন পথ। কিছু কর্মকর্তাদের অনিয়ম-দুর্নীতিসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় বিভাগটি আজ ধ্বংসের পথে।
২০২০ সালের ২৩ মার্চ করোনা ভাইরাসের কারণে সারা দেশের সাথে এ রেলপথে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। দেশে করোনার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও এ পথে ট্রেন চলাচল শুরু হয়নি। অথচ সারা দেশে ট্রেন চলছে। ট্রেনের ইঞ্জিন সঙ্কট দেখিয়ে ১১ মাস পার হলেও প্রাচীনতম এ রেলপথে ট্রেন চালু হচ্ছে না। যাত্রীরাও ট্রেনের সেবা পাচ্ছেন না। ট্রেন পরিবহনে স্বল্প ভাড়ার পরিবর্তে এ অঞ্চলের মানুষ সড়ক পথে গুনতে হচ্ছে অধিক ভাড়া। সরকারও রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। কবে এ রেলপথে ট্রেন আবারও চালু হবে এমন প্রশ্নের উত্তর মিলছে না কর্তৃপক্ষের কাছে। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, ছাতকবাজার থেকে সুনামগঞ্জ পর্যন্ত নতুন রেলপথ চালুর পরিকল্পনাটি হাটছে অন্য পথে। ছাতকবাজার থেকে নতুন রেলপথ স্থাপনের পরিকল্পনাটি থাকলেও রহস্যজনক কারণে এটি গোবিন্দগঞ্জ পয়েন্ট এলাকা থেকে রেলপথের কাজ শুরু হবে। তবে এ তথ্যটি তাদের কাছে নেই বলে ছাতকবাজার রেলওয়ের বিভাগের সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এমন পরিকল্পনা হলে ঐতিহ্যবাহী ছাতকবাজার রেলওয়ে বিভাগটি পুরোদমে মরা বিভাগে পরিণত হবে। ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় বিভাগের সকল কার্যক্রম প্রায় ঝিমিয়ে পড়েছে।
ছাতকবাজার রেলওয়ে বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী অফিস সূত্রে জানা যায়, ৯৪ একর জায়গা রয়েছে রেলওয়ে বিভাগের। ৯৯টি সরকারি বাসা-বাড়ির মধ্যে ছাতকবাজারসহ বিভিন্ন স্থানের কর্মরত সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারির জন্য বরাদ্দ রয়েছে ৫৪টি। অবৈধ বাসা-বাড়ির তালিকায় আছে ১০টি। অন্যান্য বাসা-বাড়িতে বসবাসের উপযোগী নয়। এ দফতরে মঞ্জুরীকৃত ১৫৩টি পদের মধ্যে ৩৪টিতে লোক আছে। দীর্ঘদিন ধরে শুন্য পদ রয়েছে ১১৯টি। এদিকে, ১৯৬৪-১৯৭০ সালে নির্মিত হয় ছাতক-ভোলাগঞ্জ ১৯ কিলোমিটার রোপওয়ে (রজ্জুপথ)। ভোলাগঞ্জে রেলওয়ের নিজস্ব খনি থেকে রেললাইনে ব্যবহৃত পাথরের চাহিদা মেটাতে ১২০টি ট্রেসেল (এক ধরণের খুঁটি)’র উপর ভর করে পাথর পরিবহনের জন্য এ রজ্জুপথটি স্থাপিত হয়। রজ্জুপথে পাথর পরিবহনের জন্য ৪২৫টি বাকেট (পাথর ধারণের পাত্র) ছিল। এ বাকেটে চড়ে রজ্জুপথে ছাতক-ভোলাগঞ্জ যাতায়াত করতেন সংশ্লিষ্টরা।
দাবিগুলোর মধ্যে হলো, কংক্রিট স্লিপার চালু করত মেগা প্রকল্প হাতে নেয়া, ছাতকবাজার রেলওয়ে স্টেশন রিমডেলিংসহ লোকাল ট্রেনের সংখ্যা বৃদ্ধি, লোকবল নিয়োগ ও পদায়ন। ছাতকবাজার রেলওয়ে থানা ও রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর ফাঁড়ি স্থাপন এবং ছাতকবাজার-সুনামগঞ্জ রেললাইন দ্রুত বাস্তবায়ন, সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে রোপলাইন (রজ্জুপথ) রেল পর্যটন হিসেবে ব্যবহারের উদ্যোগসহ রেলওয়ের জায়গায় সকল অবৈধ স্থাপনা দ্রুত উচ্ছেদের ব্যবস্থা গ্রহণ।
ছাতকবাজার রেলওয়ে বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী কাজী মো. হাবিবুল্যাহ জানান, কবে ট্রেন চলাচল শুরু হবে এ বিষয়টি তার জানা নেই। কর্তৃপক্ষ চাইলে বন্ধ হওয়া রোপওয়ে (রজ্জুপথ) মেরামতের পর পুনরায় চালু করা সম্ভব। এছাড়া এ রজ্জুপথটি রেল পর্যটন হিসেবে ব্যবহার করা হলে রাজস্ব বৃদ্ধি পাবে। কংক্রিট স্লিপার প্ল্যাান্ট তিনি ডুয়েল গেজ করার জন্য প্রস্তাবনা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়েছেন। অনুমতি পেলে তিনি কংক্রিট স্লিপার উৎপাদনে আলো দেখাতে চান। বন্ধ হওয়া ছাতক-ভোলাগঞ্জ রজ্জুপথ ও ছাতক-সিলেট রেলপথ দ্রুত চালু করে কংক্রিট স্লিপার প্লান্টকে আধুনিকায়নসহ ছাতক থেকে সুনামগঞ্জ নতুন রেলপথের কাজ বাস্তবায়িত হলে ঐতিহ্যের ঠিকানা ফিরে আসবে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: রেলওয়ে-বিভাগ
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ