Inqilab Logo

ঢাকা শনিবার, ১৭ এপ্রিল ২০২১, ৪ বৈশাখ ১৪২৮, ০৪ রমজান ১৪৪২ হিজরী

মানবসেবাতেই আগ্রহী জেনিফার গেটস

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ৪ মার্চ, ২০২১, ৫:৫০ পিএম

বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ধনী বিল গেটসের বড় মেয়ে জেনিফার গেটস নিজের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের চেয়ে মানবসেবায় কাজ করতেই বেশি আগ্রহী। তিনি বলেন, আমি বিশাল সুযোগ-সুবিধা নিয়ে জন্মগ্রহণ করেছি। আমি মনে করি, এই সুযোগ ও শেখার বিষয়টি কাজে লাগিয়ে আমার আগ্রহের বিষয়গুলো সন্ধান করার ও পৃথিবীটাকে আরও ভালো জায়গা করে তোলার আশা করি।

বিল গেটস ও মেলিন্ডার তিন সন্তান। এর মধ্যে বড় কন্যা জেনিফার ক্যাথেরিন গেটস। এরপর ররি জন গেটস ও ফিবি অ্যাডেল। ২৪ বছর বয়সী জেনিফার বিল গেটস ইতিমধ্যে নিজের ক্যারিয়ারের পথে হাঁটতে শুরু করেছেন। বিল গেটসের সন্তানেরা যে বিশ্বসেরা প্রযুক্তি নিয়ে বেড়ে উঠবেন, এমনটাই হওয়ার কথা ছিল। তবে ব্যাপারটা ঠিক উল্টো। বিল গেটসের মোট সম্পদ ১০৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার হলেও সন্তানেরা তা থেকে খুব সামান্যই পাবেন। বিল গেটস দাতব্য কাজেই তার সম্পদ ব্যয় করবেন। এ জন্য সন্তানদের আগে থেকেই নিজের পায়ে দাঁড়ানোর জন্য বলে দিয়েছেন তিনি। ক্যাথেরিন ইতিমধ্যে তার লক্ষ্যের পথে এগিয়ে চলেছেন। জেনিফার তৈরি করে ফেলেছেন নিজের পরিচয়। তিনি একজন দক্ষ অশ্বারোহী।

যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ তারকা ছেলেমেয়েদের অনেকেরই ঘোড়ায় চড়ার শখ দেখা যায়। এর মধ্যে অ্যাপলের প্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জবসের মেয়ে ইভ জবস, মাইকেল ব্লুমবার্গের মেয়ে জর্জিনা, ব্রুস স্প্রিংসটিনের মেয়ে জেসিকা, স্টিভেন স্পিলবার্গের মেয়ে ডেসট্রি অশ্বারোহী হিসেবে নাম করেছেন। তবে সবার সঙ্গে প্রতিযোগিতায় জেনিফারই এগিয়ে। তার বাগদানও হয়েছে আরেক পেশাদার তারকা অশ্বারোহী মিসরের নায়েল নাসারের সঙ্গে।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সাইডলাইনস ম্যাগাজিনকে এক সাক্ষাৎকার দেন জেনিফার। সেখানে তিনি তার বেড়ে ওঠার গল্প তুলে ধরেন। জেনিফার বলেছেন, গেটস ও মেলিন্ডা দম্পতির বড় মেয়ে হওয়া সৌভাগ্যের বিষয়। ছোটবেলা থেকে নানা সুযোগ-সুবিধার মধ্যেই বেড়ে উঠেছেন তিনি। ২০১৮ সালে স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জেনিফার তার স্নাতক সম্পন্ন করেছেন। তিনি পড়েছেন ‘হিউম্যান বায়োলজি’ বিষয়ে। পরে তিনি নিউইয়র্ক সিটির মেডিকেল স্কুলেও পড়েছেন।

অবশ্য জেনিফারের বাবা বিল গেটস সন্তানের দেখাশোনার ক্ষেত্রে অত্যন্ত রক্ষণশীল। প্রযুক্তিবিষয়ক জেনিফার এখন শিশুরোগ নিয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছেন। মাউন্ট সিনাইয়ের আইক্যান স্কুল অব মেডিসিনের প্রথম বর্ষ শেষ হয়েছে তার। তবে তার মূল আগ্রহ ঘোড়দৌড়ে। মাত্র ছয় বছর বয়স থেকেই তিনি ঘোড়ায় চড়া শুরু করেন। বাবা বিল গেটসও তাকে এ ব্যাপারে উৎসাহ দেন। মিয়ামি হেরাল্ডের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মেয়ের শখ মেটাতে বিল গেটস ৩ কোটি ৭০ লাখ ডলার খরচ করে ফ্লোরিডায় সম্পত্তিও কিনেছেন। বিল গেটসের প্রতিষ্ঠা করা শো জাম্পিং টিম প্যারিস প্যানথার্সের অশ্বারোহী ও ব্যবস্থাপক জেনিফার ও নাসার। ২০১৯ সালে গ্লোবাল চ্যাম্পিয়নস লিগের নবম স্থানে ছিল এ টিম।

ওয়েবসাইট এন্ট্রাপ্রেনিউরের তথ্য অনুযায়ী, ছোটবেলা থেকে মোবাইল স্ক্রিন ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ জারি করে রেখেছিলেন বিল গেটস। ১৪ বছর বয়স পর্যন্ত তাদের হাতে ফোন তুলে দেয়া হয়নি। ফোর্বসের তথ্য অনুযায়ী, বিল গেটস ছোটবেলা থেকেই তার সন্তানদের নিজেদের পথ বেছে নিতে বলেছেন। ২০১১ সালে ডেইলি মেইলকে তিনি বলেছিলেন, তার সম্পদের খুব সামান্যই পাবে তার সন্তানেরা। তথ্যসূত্র: বিজনেস ইনসাইডার



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: যুক্তরাষ্ট্র

১৩ এপ্রিল, ২০২১

আরও
আরও পড়ুন