Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২২ এপ্রিল ২০২১, ০৯ বৈশাখ ১৪২৮, ০৯ রমজান ১৪৪২ হিজরী
শিরোনাম

মুচকি হাসি মুমিনের ভূষণ

তোফায়েল আহমেদ রামীম | প্রকাশের সময় : ৫ মার্চ, ২০২১, ১২:০৪ এএম

ইসলামের দৃষ্টিতে মুচকি হাসির গুরুত্ব অপরসীম, মানুষের মধ্যে পারস্পারিক সম্পর্ক বৃদ্ধিতে হাসি এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। হাসি মানব চরিত্রের একটি বৈশিষ্ট্য, মানুষের অন্তরের অভ্যন্তরীণ উৎফুল্লতা প্রকাশ করার একটি মাধ্যম, হাসি সৌন্দর্যের প্রতীকও বটে। কখনো কখনো হাসি ভুলিয়ে দেয় আমাদের মনের সকল যাতনা, যারা হাসতে জানে তাদেরকে সবাই ভালোবাসে। হাসির দ্বারা পরস্পরের মধ্যে খুব সহজে আন্তরিকতা ও বন্ধুত্বের বীজ বপন হয়, একটুখানি হাসির পরশে শত্রুও বন্ধুত্বে রূপ নেয়।
নিজের মুখের হাসি অপরের জন্যও আনন্দ বয়ে আনে, হাসি দুশ্চিন্তাগ্রস্ত মানুষের দুঃখের বোঝা হালকা করতে সহায়ক ভূমিকা রাখে। কারণ হাসি মানুষের হৃদয়ের চাপা ব্যথা দূরীভূত করে, জীনব চলার পথে, কাজে কর্মে বহু মানুষের সাথে আমাদের সাক্ষাৎ হয়, তখন মুখ মলিন না রেখে হাসি মুখে তাদের সাথে কথা বলাই শ্রেয়। সিগমুন্ড ফ্রয়েড বলেন, হাসি আমাদের মনের উদ্বেগ দূর করে, রাগ আর দুঃখ দূর করে, তাই হাসির গুরুত্ব অনেক। প্রকারভেদে হাসির বহুমাত্রিক উপকারিকা রয়েছে। যেমন - হাসি মানসিক চাপ দূর করে, ব্যথা জ্বালা কমায়, রোগ প্রতিরোধ করে, চিন্তা ভাবনা সতেজ ও শানিত করে। সম্পর্কের বিকাশও উন্নতি করে, আত্নবিশ্বাস বাড়িয়ে ইতিবাচক ভাবতে শেখায়। নরওয়েতে এক গবেষণায় দেখা গেছে, হাসি মানুষকে দীর্ঘায়ু করে। তাছাড়া, রাসূল (সাঃ) এর অনুপম আদর্শের মধ্যে অন্যতম একটি মহৎ আদর্শ হলো তিনি হাজার দুঃখের মাঝেও মুচকি হাসতেন। অট্টাহাসি কখনো দিতেন না, অট্টাহাসি অভদ্রতা ও অহংকারের পরিচায়ক। আর মুচকি হাসি রাসুল (সাঃ) এর সুন্নাত। মুচকি হাসি মুমিন বান্দার সৌন্দর্য প্রদর্শন করে।
সাধারণত হাসি তিন প্রকার : ১। তাবাসসুম-- মৃদু বা মুচকি হাসি, এ হাসিতে দাঁতও দেখা যায় না, শব্দও হয় না। নবী (সাঃ) সর্বদা মুচকি হাসি হাসতেন, এ হাসিই উম্মতের জন্য সুন্নাত। ২। দিহক-- এ হাসিতে দাঁত দেখা যায় কিন্তু শব্দ হয়না, এভাবে হাসা জায়েজ আছে তবে না হাসাই উত্তম। ৩। কহকহা-- এ হাসি হলো অট্টাহাসি, এটি নির্লজ্জ লোকদের হাসি এবং এতে চেহারার আকৃতি পরিবর্ত ঘটে। তাই ইসলামে অট্টাহাসি হারাম ঘোষণা করা হয়েছে। কারণ এতে অন্তর মরে যায়, এছাড়াও নামাযে উচ্চস্বরে হাসলে অজু ও নামায উভয় নষ্ট হয়ে যায়।
প্রিয় নবী (সাঃ) সর্বদা হাস্যোজ্জল ছিলেন, তাকে কখনোই কেই অকারণে মুখ মলিন করে থাকতে দেখননি। হাসি সম্পর্কে রাসূল (সাঃ) এর কয়েকটি হাদিস নিম্নে উল্লেখ করা হলো। ১। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে হারিস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি এমন কাউকেই দেখিনি যিনি রাসূল (সাঃ) এর থেকে অধিক হাসি মুখে থাকতেন। ( তিরমিজি)। ২। হযতর আবু জর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সাঃ) বলেছেন, তোমার ভাইয়ের প্রতি তোমার হাসিও তোমার জন্য সদকা। (তিরমিজি)। ৩। রাসূল (সাঃ) বলেন, প্রতিটি ভালো কাজ সদকা, আর গুরুত্বপূর্ণ একটি ভালো কাজ হলো অন্য ভাইয়ের সঙ্গে হাসিমুখে সাক্ষাৎ করা। (তিরমিজি-১৯৭০)।
অতএব উপরের হাদিস পর্যালোচন করলে বুঝা যায় যে, হাসির দ্বারা আল্লাহ ও রাসূল (সাঃ) এর সন্তুষ্টি অর্জন করা যায়। মুচকি হাসির মাধ্যমেই আমাদের মধ্যে গড়ে উঠা হিংসার দেওয়ালের পতন হয়, এবং আমরা একে অপরের কাছাকাছি আসতে পারি।
আমাদের প্রিয় নবী (সাঃ) সবসময় মুচকি হাসতেন, মুচকি হাসি ছিলো তার চিরাচরিত ভূষণ। প্রতিটি হাদিসগ্রন্হে তার হাসির ব্যাপারে আলোচনা এসেছে। বস্তুত হাসির মতো সাধারণ একটি আমলে আল্লাহ তায়ালা এত বড় পুরষ্কার দিবেন, ভাবতেই অবাক লাগে। হাসি মুখে কথা বলার দ্বারা মুমিন বান্দা খুশি হয় সাথে আল্লাহও খুশি হয়, এর বিনিময়ে আল্লাহ বান্দাকে কিয়ামতের দিন আনন্দিত ও খুশি করবেন। তাই আসুন আমরা মুচকি হাসির অভ্যাস গড়ে তুলি, রাসূল (সাঃ) এর সুন্নাতকে সমাজে সমুন্নত রাখি।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: মুমিনের-ভূষণ
আরও পড়ুন