Inqilab Logo

ঢাকা রোববার, ১৮ এপ্রিল ২০২১, ৫ বৈশাখ ১৪২৮, ০৫ রমজান ১৪৪২ হিজরী
শিরোনাম

বিশ্বে মৃত্যু ২৫ লাখ ৮০ হাজার ৮০০

বাংলাদেশে মৃত্যু ৮৪৪১ জন

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ৬ মার্চ, ২০২১, ১২:০০ এএম

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত আরো ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে ভাইরাসটিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৮ হাজার ৪৪১ জন। এ সময়ে নতুন করে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন ৬৩৫ জন। ফলে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৪৯ হাজার ১৮৪ জন। তবে এই সময়ে নতুন করে ভাইরাসটি থেকে মুক্ত হয়েছেন ৬৭৬ জন। এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন ৫ লাখ ১ হাজার ১৪৪ জন। গতকাল শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো করোনাবিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ১৩ হাজার ৮৭৯ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্য থেকে ১৩ হাজার ৭১০টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় রোগী শনাক্তের হার ৪ দশমিক ৬৩ শতাংশ। এ পর্যন্ত মোট নমুনা পরীক্ষা হয়েছে- ৪১ লাখ ১৯ হাজার ৩০১টি।

গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ৬ জনের মধ্যে পুরুষ ৪ এবং নারী ২ জন। এর মধ্যে সবাই হাসপাতালে মারা গেছেন। এ পর্যন্ত মোট মারা যাওয়া ৮ হাজার ৪৪১ জনের মধ্যে পুরুষ ৬ হাজার ৩৮১ জন, বাকি ২ হাজার ৬০ জন নারী। বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মারা যাওয়াদের মধ্যে ৪ জনই ষাটোর্ধ্ব। এছাড়া ৫১-৬০ বছরে মধ্যে ১ ও ২১-৩০ বছরের মধ্যে একজন রয়েছেন।

২০২০ সালের ৮ মার্চ দেশে প্রথম তিনজনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়। এর ঠিক ১০ দিন পর দেশে ভাইরাসটিতে প্রথম মৃত্যু হয়। প্রথম মৃত্যুর তিন দিন পর করোনায় দ্বিতীয় মৃত্যু হয় ২১ মার্চ। এরপর ২৩, ২৪ ও ২৫ মার্চ টানা তিন দিনে তিনজনের মৃত্যু হলেও মার্চ মাসে ভাইরাসটিতে আর কোনো প্রাণহানি ঘটেনি।
ওই বছরের ১ এপ্রিল মৃত্যু হয় আরেকজনের। মৃত্যুশূন্য ছিল ২ ও ৩ এপ্রিল। ৪ এপ্রিল প্রথমবারের মতো দেশে ২ জনের মৃত্যু হয়। এরপর থেকে প্রতিদিনই মৃত্যু ঘটেছে। তবে গত বছরের ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত ১০ জনের নিচে থাকলেও, ১৬ এপ্রিল প্রথমবারের মতো করোনায় দুই সংখ্যার মৃত্যু দেখে বাংলাদেশ। ১৭ এপ্রিল ছাড়িয়ে যায় মানুষের কল্পনাকেও, ওইদিন দেশে করোনায় ১৫ জনের প্রাণহানি হয়।

এরপর ১০ মে ১৪ জনের মৃত্যুর পর ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত, মাঝের সময়ে করোনায় সিঙ্গেল ডিজিটের কোনো মৃত্যু হয়নি। ভাইরাসটিতে প্রথম ২০-এর অধিক মৃত্যু হয় ১৮ মে, সেদিন দেশে ২১ জনের প্রাণহানি ঘটে। ৩১ মে প্রথমবারের মতো দেশে ৪০ জনের মৃত্যু হয় এ ভাইরাসে। ৫০ ছাড়ায় ১৬ মে, সেদিন মৃত্যু হয় ৫৩ জনের। ৩০ জুন দেশের মানুষ করোনায় একদিনে সর্বোচ্চ প্রাণহানি ঘটে, সেদিন এ ভাইরাসপ্রাণ কেড়ে নেয় ৬৪ জন।
মূলত ২৯ মে থেকে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত করোনায় মৃত্যু একদিনের জন্যও ২০ জনের নিচে নামেনি। প্রায় ৪ মাস ১০ দিন পর ৯ অক্টোবর করোনায় মৃত্যু ২০-এর নিচে নেমে আসে, সেদিন দেশে ১৭ জনের মৃত্যু হয়।

এদিকে বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসে মৃত্যু ও শনাক্তের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। এখন পর্যন্ত এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ১১ কোটি ৬২ লাখ ৮ হাজার ৯০ জন। মারা গেছেন ২৫ লাখ ৮০ হাজার ৮০০ জন। এ মহামারি থেকে বিশ্বব্যাপী সুস্থ হয়েছে ৯ কোটি ১৮ লাখ ৭৮ হাজার ৩২৪ জন। গতকাল শুক্রবার (৫ মার্চ) বাংলাদেশ সময় সকাল ৯টায় আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যানভিত্তিক ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটার থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
বিশ্বে করোনায় আক্রান্ত হয়ে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। দেশটিতে এখন পর্যন্ত করোনায় ৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৩৬ জন মারা গেছেন। বিশ্বে সর্বোচ্চ শনাক্তের সংখ্যাও এই দেশটিতে। এখন পর্যন্ত সেখানে ২ কোটি ৯৫ লাখ ২৬ হাজার ৮৬ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন। দেশটিতে করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ২ কোটি ৯৩ হাজার ৪৪২ জন।

করোনা শনাক্তের দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ভারত। দেশটিতে এখন পর্যন্ত করোনা শনাক্তের সংখ্যা ১ কোটি ১১ লাখ ৭৩ হাজার ৫৭২ জন। তাদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ১ লাখ ৫৭ হাজার ৫৮৪ জনের। মৃত্যু বিবেচনায় দেশটি বিশ্বে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে। ভারতে করোনা থেকে সুস্থ হয়েছে ১ কোটি ৮ লাখ ৩৮ হাজার ২১ জন।

করোনাভাইরাস শনাক্তের দিক থেকে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ব্রাজিল। ল্যাটিন আমেরিকার এই দেশটিতে এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ১ কোটি ৭ লাখ ৯৬ হাজার ৫০৬ জন। তাদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ২ লাখ ৬১ হাজার ১৮৮ জনের। মৃত্যুর দিক থেকে দেশটি বিশ্বে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। এছাড়া দেশটিতে সুস্থ হয়েছে ৯৬ লাখ ৩৭ হাজার ২০ জন।

করোনাভাইরাসে ক্ষতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় রাশিয়ার অবস্থান চতুর্থ। দেশটিতে এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন- ৪২ লাখ ৯০ হাজার ১৩৫ জন, মারা গেছেন ৮৭ হাজার ৮২৩ জন। আর সুস্থ হয়েছেন ৩৮ লাখ ৬৯ হাজার ৮৫৭ জন।

আক্রান্ত বিবেচনায় পঞ্চম অবস্থানে থাকা যুক্তরাজ্যে এখন পর্যন্ত শনাক্ত হয়েছে- ৪২ লাখ ১ হাজার ৩৫৮ জন, মারা গেছেন ১ লাখ ২৪ হাজার ২৫ জন। সুস্থ হয়েছেন ৩০ লাখ ৯৬ হাজার ৫৬৪ জন সুস্থ হয়েছেন। তালিকায় ফ্রান্স ষষ্ঠ, স্পেন সপ্তম, ইতালি অষ্টম, তুরস্ক নবম ও জার্মানি দশম স্থানে রয়েছে। আর বাংলাদেশের অবস্থান ৩৩তম।

২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের উহানে প্রথম করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। দেশটিতে করোনায় প্রথম রোগীর মৃত্যু হয় ২০২০ সালের ৯ জানুয়ারি। ওই বছরের ১৩ জানুয়ারি চীনের বাইরে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় থাইল্যান্ডে। পরে ধীরে ধীরে তা বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: করোনাভাইরাস


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ