Inqilab Logo

বুধবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২২, ০৫ মাঘ ১৪২৮, ১৫ জামাদিউস সানি ১৪৪৩ হিজরী

কোম্পানীগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধাকে মারধর

বিচার না হলে কঠোর কর্মসূচির হুশিয়ারি

নোয়াখালী ব্যুরো : | প্রকাশের সময় : ১০ মার্চ, ২০২১, ১২:০০ এএম

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা খিজির হায়াত খানের ওপর মেয়র আবদুল কাদের মির্জার লোকজন কর্তৃক মারধরের প্রতিবাদে মানববন্ধন সমাবেশ করেছে মুক্তিযোদ্ধারা। এদিকে সংবাদ সম্মেলন করে মেয়র মির্জা দাবি করেন সবই সাজানো।
গতকাল জেলা শহর মাইজদীর টাউনহল মোড়ে এ কর্মসূচি পালন করে জেলা মুক্তিযোদ্ধারা। আহত বীর মুক্তিযোদ্ধা খিজির হায়াত খানকে সকালে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যারয়ে নেয়া হয়েছে। জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোজাম্মেল হক মিলনের সভাপতিত্বে মানববন্ধন-সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সাবেক জেলা কমান্ডার মিজানুর রহমান, মুক্তিযোদ্ধা মিয়া মোহাম্মদ শাহজাহান, আবুল কাশেমসহ অনেকে। এসময় উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা আনিস হায়দার, গোফরান মাস্টার, এরফানুল হক সরকার, আব্দুল হক প্রমুখ।
মানববন্ধন ও সমাবেশে বক্তারা বলেন, আবদুল কাদের মির্জা একের পর অপকর্ম করে যাচ্ছেন। যিনি যুদ্ধকালীন সময়ে কোম্পানীগঞ্জের একজন ডিপুটি কমান্ডার ছিলেন সেই বীর মুক্তিযোদ্ধা খিজির হায়াত খানের গায়েও তিনি হাত তোলেন। যা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায়না। এর সঠিক বিচার না হলে সারা দেশের মুক্তিযোদ্ধারা একযোগে কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করবে বলেও হুশিয়ারি দেন তারা।
এদিকে, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করে ছোট ভাই বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা বলেছেন, অপরাজনীতি ও সকল অপকর্মের হোতা নোয়াখালীর এমপি একরাম এবং ফেনীর এমপি নিজাম হাজারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হলে আমাদের নেতা ওবায়দুল কাদের আর নেই। ‘ওবায়দুল কাদের সাহেব আমি রাজাকারের সন্তান না’। আপনি পদ-পদবির জন্য সব মেনে নিতে পারেন, কিন্তু আমি মেনে নেব না। ৪২ বছর ওবায়দুল কাদেরের রাজনীতি টিকিয়ে রেখেছি। আর এখন যাদেরকে আমি জাসদ থেকে এনে নেতা বানিয়েছি, উপজেলা চেয়ারম্যান, ইউপি চেয়ারম্যান বানিয়েছি তারা নাকি এখন ওবায়দুল কাদেরের মূল স্রোতধারার লোক সেজেছে। মঙ্গলবার সকালে বসুরহাট পৌরসভার বটতলায় এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন মেয়র মির্জা।
কাদের মির্জা বলেন, গত সোমবার সন্ধ্যায় বসুরহাটের ক্ষুব্দ ব্যবসায়ী ও দলীয় নেতাকর্মীদের রোষানল থেকে বাঁচানোর জন্য রূপালী চত্বরে একটি সিমেন্টের দোকানে বসে থাকা জাসদের খিজির হায়াতকে আমি অটোরিকশা তুলে দিয়েছি চলে যাবার জন্য। আর এখন অপপ্রচার করা হচ্ছে আমি খিজির হায়াত খানের ওপর হামলা করেছি।
এগুলো তাদের সাজানো। আমি মুজিব শতবর্ষ পালনের জন্য মেলা ও সাংস্কৃতিক মঞ্চ করেছি। জাসদ থেকে যে খিজির হায়াত কে এনে আওয়ামী লীগের সভাপতি, জাসদের নুর নবী চৌধুরী দলের সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান, মিজানুর রহমান বাদলকে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান করেছি তারা এবং আমার ভাগ্নে রাহাত ও মঞ্জুর নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা সোমবার রাতে অস্ত্রধারীরা সে মঞ্চ এবং মেলা ভেঙে গুড়িয়ে দিয়েছে।
কাদের মির্জা আরো বলেন, সাংবাদিক মুজাক্কির হত্যার ঘটনায় দু’জনকে গ্রেফতার করা হলেও একজনকে টাকা নিয়ে ছেড়ে দিয়েছে। এ হত্যাকান্ডকে কেউ কেউ ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার ষড়যন্ত্র করছে। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা ঘটনার মত জজ মিয়াদেরকে সাংবাদিক মুজাক্কির হত্যাকান্ডে আটকানোর ষড়যন্ত্র চলছে। সাংবাদিক মুজাক্কির হত্যার ঘটনা গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআই, ডিজিএফআই দিয়ে তদন্ত করতে হবে। তা না হলে ঢাকা থেকে বিচার বিভাগীয় তদন্তের ব্যবস্থা করতে হবে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: কর্মসূচি


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ