Inqilab Logo

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২০, ১৩ কার্তিক ১৪২৭, ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪২ হিজরী

মানবতাবিরোধী অপরাধ এক ধনকুবের পতন

প্রকাশের সময় : ৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৬, ১২:০০ এএম

ইনকিলাব ডেস্ক
পতন হয়েছে যুদ্ধাপরাধী এক ধন কুবের। নামে বেনামে হাজার কোটি টাকার বেশি সম্পদের মালিক মীর কাসেম। ব্যাংক, হাসপাতাল, কৃষি ব্যবসা, গণমাধ্যম, বিশ্ববিদ্যালয়, ওষুধ শিল্পসহ বিভিন্ন খাতে বিস্তার করেন তার ব্যবসা।
১৬টি প্রতিষ্ঠানে ৩০ হাজারের বেশি শেয়ার রয়েছে তার নিজ ও তার পরিবারের নামে। ঢাকার মিরপুরের রয়েছে বহুতল বাড়ি। তার তত্ত্বাবধানে থাকা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক ঋণের পরিমাণ ২০৫ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। এসব ব্যবসা থেকে বিপুল আয়ের বড় একটি অংশ তিনি ব্যয় করতেন জামায়াতের রাজনীতির পেছনে। তবে এসব প্রতিষ্ঠানের বেশির ভাগ সম্পদই বিভিন্ন কোম্পানি, ট্রাস্ট ও বেসরকারি সংস্থার নামে রয়েছে। বৈধভাবে আয়কর রিটার্নে তার সম্পদের পরিমাণ দেখানো হয়েছে ৩ কোটি ৩৪ লাখ টাকা।
মোহাম্মদপুরে একতা সোসাইটির ৫ কাঠা জমি ও মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে সাড়ে ১২ শতক জমি রয়েছে। তিনি ধানমন্ডির বহুতল ভবন কেয়ারি প্লাজার ১৭৮ দশমিক ৬৯ বর্গমিটারের মালিক। বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে মোট ৩০ হাজার শেয়ার রয়েছে তার নিজ ও পরিবারের নামে।
ইসলামী ব্যাংকের ২ হাজার ১১৩টি শেয়ার, কেয়ারি লিমিটেডের ১৪ হাজার শেয়ার, কেয়ারি টেলিকমের ১০ হাজার, কেয়ারি টু্যুরস অ্যান্ড সার্ভিসের ১ হাজার শেয়ার, কেয়ারি ঝর্নার ২০টি, কেয়ারি তাজের ৫টি, কেয়ারি সানের ৫টি, কেয়ারি স্প্রিংয়ের ২০টি, সেভেল স্কাইয়ের ১০০, মীর আলী লিমিটেডের ২৫টি এবং দিগন্ত মাল্টিমিডিয়া লিমিটেডের ১০০টি শেয়ার রয়েছে মীর কাসেম আলীর নামে।
তিনি কেয়ারি লিমিটেডের চেয়ারম্যান, ইবনে সিনা ট্রাস্টের সদস্য (প্রশাসন), ইবনে সিনা হাসপাতালের পরিচালক, ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালস ইন্ডাস্ট্রি পরিচালক, এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্রাস্টের সদস্য ও ফুয়াদ আল খতিব চ্যারিটি ফাউন্ডেশনের সদস্য।
তার তত্ত্বাবধানে থাকা কেয়ারি লিমিটেডের নামে ব্যাংক ঋণ ৬০ কোটি ৯৩ লাখ, ইবনে সিনা ট্রাস্টের নামে ৫০ কোটি, ইবনে সিনা হাসপাতালের ৬ কোটি ৩৪ লাখ, ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালসের ২০ কোটি, দিগন্ত মিডিয়া করপোরেশনের নামে ৪১ কোটি ৩৫ লাখ, এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিয়ালের ২৩ কোটি ৭৫ লাখ এবং ফুয়াদ আল খতিবের নামে ২ কোটি ৯৬ লাখ টাকার ঋণ রয়েছে।
সূত্র জানায়, দেশ স্বাধীনের পর মুক্তিযোদ্ধাদের ভয়ে মীর কাসেম পালিয়ে যান লন্ডনে। সেখান থেকে সউদী আরবে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধে মুসলমানদের ক্ষয়ক্ষতি, মসজিদ-মাদরাসা ভাঙার বর্ণনা আর পাকিস্তানে আটকেপড়া বাংলাদেশী মুসলমানদের মানবেতর জীবনের কথা বলে তাদের জীবনমান উন্নয়নের জন্য বিপুল অর্থ জোগাড় করেন তিনি।
পরে ওই অর্থ মসজিদ-মাদরাসা পুনঃনির্মাণ কিংবা ক্ষতিগ্রস্তদের কল্যাণে ব্যয় না করে নিজেই ভোগ করতে থাকেন। গড়ে তোলেন এনজিও। বঙ্গবন্ধুর হত্যাকা-ের পর দেশে ফিরে আসা মীর কাসেম মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর অর্থনৈতিক সাহায্যপুষ্ট রাবেতা আল-আলম আল-ইসলামী নামের এনজিওর কান্ট্রি ডিরেক্টর হন। সেই এনজিওর অর্থে তিনি একের পর এক গড়ে তোলেন ব্যবসায়িক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান।
সেই থেকে জামায়াতের সাংগঠনিক ব্যয় নির্বাহে সবচেয়ে বেশি অর্থের জোগানদাতা মীর কাসেম। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ঠেকাতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে লবিষ্ট নিয়োগ ও আর্থিক লেনদেনের নেতৃত্বেও ছিলেন মীর কাসেম আলী। যুক্তরাষ্ট্রের একটি লবিষ্ট ফার্মকে আড়াই কোটি ডলার দিয়েছেন। স্থানীয় মুদ্রায় যা প্রায় ২শ’ কোটি টাকা।
জানা যায়, যুদ্ধাপরাধের বিচার ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি-নির্ধারকদের মধ্যে প্রচারণা চালানোর জন্য ২০১০ সালের ১০ মে আমেরিকান কনসালটেন্সি ফার্ম কেসিডি অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটের সঙ্গে চুক্তি করেন মীর কাসেম আলী। চুক্তিপত্রে জামায়াতের পক্ষে মীর কাসেম আলী নিজে এবং লবিষ্ট ফার্মের পক্ষে জেনারেল কাউন্সেল জে. ক্যামেরুজ স্বাক্ষর করেন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: মানবতাবিরোধী অপরাধ এক ধনকুবের পতন
আরও পড়ুন