Inqilab Logo

শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৩ আশ্বিন ১৪২৮, ১০ সফর ১৪৪৩ হিজরী
শিরোনাম

১৬ বছর পর নেই মেসি-রোনালদো!

স্পোর্টস ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ১২ মার্চ, ২০২১, ১২:০৬ এএম

উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে টিকে থাকতে গড়তে হবে প্রত্যাবর্তনের নতুন ইতিহাস। প্রতিপক্ষ সেই পিএসজি, যাদের বিপক্ষে চার বছর আগে ঘুরে দাঁড়ানোর অবিশ্বাস্য এক গল্প লিখেছিল বার্সেলোনা। তবে এবার আর পেরে উঠলো না কাতালান শিবিরি। জাল অক্ষত রেখে করতে হবে চার গোল- প্রায় অসম্ভব সমীকরণটা আরও কঠিন হয়ে পড়ে কিলিয়ান এমবাপের সফল স্পট কিকে। সুযোগ নষ্টের ভিড়ে অসাধারণ এক গোল করেন লিওনেল মেসি; তবে তা শুধু ব্যবধানই কমায়। বার্সেলোনাকে রুখে দিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার-ফাইনালে উঠেছে পিএসজি। গতপরশু রাতে প্যারিসে শেষ ষোলোর ফিরতি লেগের ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হয়েছে। প্রথম লেগে ৪-১ গোলে জয়ী পিএসজি দুই লেগ মিলিয়ে ৫-২ ব্যবধানে এগিয়ে পা রাখল পরের ধাপে।
মেসিকে ঘিরে আরও একবার অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের স্বপ্ন দেখেছিল বার্সেলোনা। ব্যবধান অনেক বড় হলেও যতগুলো সুযোগ তারা পেয়েছিল, তার অর্ধেকও কাজে লাগাতে পারলে লড়াইটা হতো জমজমাট। কিন্তু উসমান দেম্বেলের পাশাপাশি সুযোগ নষ্টের মিছিলে যোগ দেন মেসিও। বল নিয়ন্ত্রণে রেখে প্রতিপক্ষের মাঠে পুরো ম্যাচে রাজত্ব করে বার্সা। রোনাল্ড কোমানের দল রীতিমতো কাঁপিয়ে দেয় পিএসজিকে। সেগুলো হাতছাড়া না করলে রোমাঞ্চকর একটি লড়াইয়ের দেখা মিলত নিঃসন্দেহে। কিন্তু সুযোগ নষ্টের মহড়ায় উসমান দেম্বেলের সঙ্গে যোগ দেন মেসিও। ফলে ১৪ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠতে বার্সেলোনার ব্যর্থতা আটকানো যায়নি।
প্রথমার্ধেই পিএসজির গোলমুখে ১৬টি শট নেয় স্প্যানিশ পরাশক্তি বার্সা। যার মধ্যে লক্ষ্যে ছিল নয়টি। সবমিলিয়ে তদের নেওয়া ২১ শটের দশটি ছিল লক্ষ্যে। বিপরীতে, প্রতিপক্ষের আক্রমণের ঝড় সামাল দিতে হিমশিম খাওয়া পিএসজি নিজেরা তেমন বিপজ্জনক হয়ে ওঠেনি। তাদের নেওয়া মাত্র সাতটি শটের তিনটি ছিল লক্ষ্যে। তবে ব্যবধান কমানোর সুযোগও মিস করেন পেনাল্টি থেকে গোল করতে না পেরে। এ নিয়ে টানা দ্বিতীয় মৌসুম চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালের আগেই নেই বার্সেলোনা। ২০০৬-০৭ মৌসুমের পর এই প্রথম কোয়ার্টার ফাইনালে যেতেও ব্যর্থ। আর ১৪ বছরের মধ্যে এই প্রথম চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার-ফাইনালে উঠতে ব্যর্থ হলো বার্সেলোনা। আর ড্র ম্যাচে জয়ের আনন্দে মাঠ ছাড়ে প্রতিযোগিতার গতবারের রানার্সআপ পিএসজি।
পিএসজি কোচ মরিসিও পচেত্তিনো স্বীকার করেছেন ম্যাচে, বিশেষ করে প্রথমার্ধে পিএসজিকে ২০১৭ সালের সেই দুঃস্বপ্ন তাড়া করে ফিরছিল। মানসিক দিক দিয়ে সেটি চাপও তৈরি করেছিল, ‘প্রথমার্ধে আমরা ভালোই ভুগেছি। মানসিক দিক দিয়েও ওই সময়টা বড় এক পরীক্ষা হয়ে উঠেছিল আমাদের জন্য। আমি জানতাম, অতীতে যা ঘটেছিল, সেটি এই ম্যাচে বারবার ফিরে আসবে। সেটি হয়েছেও। তবে দ্বিতীয়ার্ধে আমরা নিজেদের গুছিয়ে নিয়েছিলাম। আমরা অনেকটা প্রতিদ্ব›িদ্বতাপ‚র্ণ ছিলাম এই অর্ধে।’
ইউরোপ সেরার মঞ্চ থেকে বিদায়ের পরও বার্সেলোনা কোচ রোনাল্ড কোমান ইতিবাচক থাকার আপ্রাণ চেষ্টা করে গেছেন। তিনি গত মৌসুমে বায়ার্নের কাছে ৮-২ গোলে হারের দুঃস্বপ্নের কথা ভেবেই হয়তো সান্ত¡না খুঁজে নিয়েছেন। সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন সে কথাই, ‘এবার চ্যাম্পিয়নস লিগ থেকে যেভাবে বিদায় নিলাম, সেটি গতবারের চেয়ে অনেকটাই অন্য রকম। এই মৌসুমে আমরা নিজেদের সর্বোচ্চটা দিয়ে খেলছি। মৌসুমের বাকি সময়টাও ঠিক এভাবেই খেলে যেতে হবে।’
গতবার বায়ার্ন মিউনিখের কাছে ফাইনালে ১-০ গোলে হেরে স্বপ্নভঙ্গ ঘটা ফরাসি জায়ান্টদের স্বপ্নটা এবার টিকে রইল। আগের রাতেই দুই লেগ মিলিয়ে গোল ব্যবধানে পোর্তোর বিপক্ষে পিছিয়ে পড়ে বিদায় হয়ে গেছে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর জুভেন্টাসের। এদিন বিদায় নিলেন মেসিও। এবারের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ কি তাহলে একটা যুগেরও অবসান ঘটতে দেখছে? ২০০৫ সালের পর, অর্থাৎ ১৬ বছর পর এই প্রথম ইউরোপের সেরা ক্লাব প্রতিযোগিতার শেষ আটে নেই মেসি কিংবা রোনালদোর কেউই।
এদিকে, সময়টা বেশ খারাপই যাচ্ছিলো লিভারপুলের। এক মৌসুম আগেও রেকর্ড গড়ে ৩০ বছর পর ইংলিশ লিগ শিরোপা জয় যেন আকাশে উড়ছিল দলটি। তারাই কি-না এবার জিততেই ভুলে গেছিলো! ঘরোয়া লিগে পয়েন্ট টেবিলে অবস্খান অষ্টম স্থানে। লিগ শিরোপা হাতছাড়া প্রায় নিশ্চিত। এফএ কাপ থেকেও বিদায় নিয়েছে দলটি। সব হারানো অ্যানফিল্ড শিবিরি ঘুরে দাঁড়ালো আসল সময়। দুর্দান্ত এক জয়ে টিকে রইলো উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে।
তবে সেটিও এলো অনেক কষ্টের পর। প্রথমার্ধে বেশ কিছু সুযোগ নষ্ট করা লিভারপুল সাফল্য পেল বিরতির পর। পাঁচ মিনিটের মধ্যে করল দুই গোল। লাইপজিগকে আবার হারিয়ে ইউরোপ সেরার সঞ্চের কোয়ার্টার-ফাইনালে উঠল ইয়ুর্গেন ক্লপের দল। বুদাপেস্টের পুসকাস অ্যারেনায় শেষ ষোলোর ফিরতি লেগে ২-০ ব্যবধানে জিতেছে ইংলিশ চ্যাম্পিয়নরা। একটি করে গোল করেন আক্রমণভাগের দুই তারকা মোহামেদ সালাহ ও সাদিও মানে।
৭০তম মিনিটে জোতার পাস ধরে ডি-বক্সে জায়গা বানিয়ে বাঁ পায়ের নিচু শটে দলকে এগিয়ে নেন সালাহ। আর ৭৪তম মিনিটে ডান দিক থেকে দিভোক ওরিগির ক্রসে কাছ থেকে প্রথম স্পর্শে ঠিকানা খুঁজে নেন মানে। দুই লেগ মিলিয়ে ৪-০ গোলে এগিয়ে পরের রাউন্ডে জায়গা করে নিল লিভারপুল। প্রথম লেগেও একটি করে গোল করেছিলেন সালাহ ও মানে।
ম্যাচটি হওয়ার কথা ছিল লিভারপুলের মাঠ অ্যানফিল্ডে। কিন্তু কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে ভ্রমণের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধের কারণে বুদাপেস্টে সরিয়ে নেওয়া হয়। একই কারণে প্রথম লেগের ম্যাচও হয়েছিল এই মাঠে।
ঘরোয়া ফুটবলে টানা বাজে পারফরম্যান্সে লিভারপুলের লিগ শিরোপা ধরে রাখার আশা শেষই বলা যায়। ইউরোপের মঞ্চে সেই দলেরই আবার ভিন্ন রূপ; তিন বছরে দ্বিতীয় চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের স্বপ্নে এগিয়ে চলেছে তারা। গতবারের সেমি-ফাইনালিস্টদের বিপক্ষে দুই লেগেই জয়ে তাদের আত্মবিশ্বাস নিশ্চিতভাবেই বাড়ল বহুগুণে।

এক নজরে ফল
পিএসজি ১-১ বার্সেলোনা
দুই লেগ মিলিয়ে ৫-২
লিভারপুল ২-০ লাইপজিগ
দুই লেগ মিলিয়ে ৪-০



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: মেসি-রোনালদো


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ