Inqilab Logo

বুধবার, ১৭ আগস্ট ২০২২, ০২ ভাদ্র ১৪২৯, ১৮ মুহাররম ১৪৪৪
শিরোনাম

হুমকিতে বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন

মিজানুর রহমান তোতা | প্রকাশের সময় : ১৩ মার্চ, ২০২১, ২:৩৪ পিএম

প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও জীববৈচিত্র্যে ভরপুর বিশ্বঐতিহ্য সুন্দরবন মারাত্মক হুমকিতে। বঙ্গোপসাগরের সাথে যুক্ত সুন্দরবনের নদ-নদীতে পানির প্রবল নেই। নদ-নদী হয়ে পড়েছে নিথর। সরেজমিন সুন্দরবন ঘুরে দেখা গেছে, স্রোতহীন নদ-নদীর কারণে সুন্দরবনের গাছপালা নিস্তেজ হয়ে যাচ্ছে। পানির প্রবল তোড় নেই। পাড়ে ছলাৎ ছলাৎ ঢেউ নেই। পর্যাপ্ত পানির অভাবে সুন্দরবনের সুন্দরী বৃক্ষরাজি ক্রমাগত বিপন্ন হয়ে পড়ছে। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও বিজ্ঞানীদের তথ্যমতে, সমুদ্রের জোয়ার-ভাটার ওপর নির্ভর সুন্দরবনের জীববৈচিত্র। উজানে পানি প্রবাহ কমে যাওয়া ও পলি বৃদ্ধি, গভীরতা হ্রাসে সুন্দরবনের অধিকাংশ নদ-নদী জৌলুস হারিয়েছে।

সুন্দরবন এলাকায় নিয়মিত যাতায়াতকারিরা, বন কর্মকর্তা ও পরিবেশবিসহ সংশ্লিষ্টদের কথা, সুন্দরবনের বনভূমি এখন বিপদের সন্মুখীন। উদ্ভিদ জীব-বৈচিত্র, পরিবেশ ও উপকূলীয় অঞ্চল চরম হুমকিতে পড়েছে। আর এসব নদ-নদীতে ছিল হরেকরকম মাছের সমাহার। মৎস্যসম্পদের অফুরন্ত ভান্ডার সুন্দরবনের নদ-নদী।

নদী ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞ এবং সংশ্লিষ্ট মহল থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়েছে, ভারত আন্তর্জাতিক আইন লংঘন করে অভিন্ন নদীর পানি প্রত্যাহার সুন্দরবনের মূল ৬ টি নদী শিবসা, পশুর, খোলপেটুয়া, কালিন্দি, বলেশ্বর, মালঞ্চ দিয়ে নদ-নদীর পানি বঙ্গোপসাগরে পড়ার স্বাভাবিক ধারা হয়েছে অস্বাভাবিক। রায়মঙ্গল ও আড়পাঙ্গাসিয়া নদীসহ ছোট-বড় অসংখ্য খাল ও নালা রয়েছে সুন্দরবনে। স্রোতহীন নদ-নদীর পানি একরকম চুইয়ে পড়ার মতো অবস্থার কারণে লবণাক্ততা গ্রাস করছে নতুন নতুন এলাকা। ভূমি গঠনেরও পরিবর্তন ঘটছে।

সুন্দরবনে বনজ ও জলজ প্রাণী এবং নানা প্রজাতির পাখির কলতান দিনে দিনে কমছে। সুন্দরী. গেওয়া, শাল, কেওড়া, বাইন, কাকড়া, পশুর, ধন্দুল ও গোলপাতাসহ উপকুলীয় সবুজ বেষ্টনী গ্রীন বেল্টও হচ্ছে ক্ষতিগ্রস্ত। সমানতালে পলি পড়ে ভরাট হয়ে যাচ্ছে বন ও লোকালয় সংলগ্ন শাখা-প্রশাখার অধিকাংশ নদ ও খাল। এতে একদিকে যেমন নদী মাছ শূন্য হয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে জীবন-জীবিকা হারিয়ে বেকার। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সুন্দরবনের রয়েল বেঙ্গল টাইগার, হরিণ, সাপ, শুকর, বানর, কাঠবিড়ালি, বাজপাখি ও শকুনসহ বিভিন্ন পশু-পাখিও চরম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

সূত্রমতে, সমুদ্র হয়ে উঠছে উত্তপ্ত। মাকড়াসার জালের মতো ছোট-বড় অসংখ্য নদ-নদীতে বৈষ্টিত সুন্দরবন। ৪শ’৫০টির বেশি ছোট-বড় নদী রয়েছে এই বনকে ঘিরে। ভারত আন্তর্জাতিক আইন অমান্য করে গায়ের জোরে উজান থেকে অভিন্ন নদ-নদীর পানি না দেওয়ায় মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বিশ্বঐতিহ্য সুন্দরবন। বঙ্গোপসাগরের কূল ঘেঁষে প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা সুন্দরবন পৃৃথিবীর অনন্য সম্পদ ।

এক গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, “হিমালয়ের প্রাকৃতিক পরিবেশের অবনতি বা “গ্রিন হাউস” এর কারণে সমুদ্রের উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। উপকূল বরাবর সুন্দরবনের গঠন প্রকৃতি বহুমাত্রিক উপাদানে প্রভাবিত। যাদের মধ্যে রয়েছে, স্রোতের গতি, ব্যষ্টিক ও সমষ্টিক স্রোত চক্র এবং সমুদ্র উপকূলবর্তী দীর্ঘ সমুদ্রতটের স্রোত। মিষ্টি পানির প্রবাহ হ্রাস, বনের অভ্যন্তরে নদ-নদীতে পলির আধিক্য, পুষ্টি সরবরাহ হ্রাস, লবণাক্ততা বৃদ্ধি, স্বাভাবিক জোয়ার-ভাটা বাঁধাগ্রস্ত এবং জলাবদ্ধতা, জলোচ্ছ্বাসসহ নানাবিধ প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে বিশ্বঐতিহ্য সুন্দরবন রীতিমতো হুমকিতে।

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমে বঙ্গোপসাগরের কোলে অবস্থিত সুন্দরবন। ভারতের ২৪ পরগনার দক্ষিণ ভাগও সুন্দরবন। পশ্চিমে ভাগীরথি নদীর মোহনা থেকে পূর্বে মেঘনার মোহনা পর্যন্ত সুন্দরবন বিস্তৃত। সংশ্লিষ্ট সুত্রমতে, ৬ হাজার ১৭ বর্গকিলোমিটার বিস্তৃত সুন্দরবনের ৪হাজার ১৪৩ বর্গকিলোমিটার ভূ-ভাগ আর ১ হাজার ৮৭৪ বর্গকিলোমিটার জলভাগ।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ