Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৭ ফাল্গুন ১৪২৫, ১৩ জামাদিউস সানি ১৪৪০ হিজরী।

চাকরি নিয়ে বিএসএমএমইউ’র ১১০ চিকিৎসককে আপিলের অনুমতি সুপ্রিম কোর্টের

প্রকাশের সময় : ৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬, ১২:০০ এএম

স্টাফ রিপোর্টার : চাকরি নিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১০ চিকিৎসককে আপিলের অনুমতি দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। লিভ টু আপিল খারিজ করে পূর্বের আদেশ পুনর্বিবেচনা চেয়ে চিকিৎসকদের করা আবেদনের প্রেক্ষিতে গতকাল রোববার প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে ৫ বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এই আদেশ দেন। আবেদন মঞ্জুরের পাশাপাশি আবেদনকারী চিকিৎসকদের চার সপ্তাহ ও মেডিকেল কর্তৃপক্ষকে ছয় সপ্তাহের মধ্যে আপিলের সার-সংক্ষেপ জমা দিতে বলা হয়েছে। উভয় পক্ষের সার-সংক্ষেপ জমা দেওয়ার পর যে কোনো পক্ষকে শুনানির জন্য আবেদন করতে পারবে।
আদালতে আবেদনকারী চিকিৎসকদের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ড. কামাল হোসেন, ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ ও এ এম আমিন উদ্দিন। অপরদিকে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।
এর আগে গত ২৯ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১০ চিকিৎসকের মধ্যে যোগ্যদের কিভাবে চাকরিতে রাখা যায়, তা জানাতে নির্দেশ দেন আপিল বিভাগ। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেলকে বিষয়টি ৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে অবহিত করতে বলা হয়েছিল।
মামলার বিবরণীতে জানা যায়, ২০০৬ সালের ২৬ মে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০তম সিন্ডিকেটে ২০০ জন মেডিকেল অফিসারের পদ সৃষ্টি করা হয়। সেই ধারাবাহিকতায় ১৮ অক্টোবর কিছু সংখ্যক চিকিৎসক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেয়। সেই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি চ্যালেঞ্জ করে স্বাচিপের তৎকালীন মহাসচিব ইকবাল আর্সলান হাইকোর্টে একটি রিট করেন। ২০০৬ সালের জানুয়ারিতে আদালত এই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি স্থগিত করে। পরে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের জন্য আবেদন করে। সেই আবেদনের ভিত্তিতে আদালত নিয়োগ সংশোধন সাপেক্ষে হাইকোর্ট স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে নেন। আদালতের আদেশে বলা হয়, নিয়োগকৃত চিকিৎসকের পরিমাণ যেন দুই শ’ এর বেশি না হয়।
পরবর্তীতে ২০০৬ সালের ১ মার্চ ১৯৪ শিক্ষককে নিয়োগ দেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। যারা পরদিন কাজে যোগ দেন। ২০০৮ সালে সিন্ডিকেটে ১৭৪ জনকে চাকরিতে স্থায়ী করা হয়। ওই স্থায়ীকরণের সময় রিটকারী ইকবালও সিন্ডিকেট সদস্য ছিলেন বলে জানান আবেদনকারী চিকিৎসকরা। তাদের চাকরি স্থায়ীকরণের পর চিকিৎসকদের অজান্তেই রুল ২০১০ সালের ১৪ ডিসেম্বর এ সংক্রান্ত রিটের প্রেক্ষিতে জারি করা রুল শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে হাইকোর্ট ওই চিকিৎসকদের নিয়োগ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি অবৈধ ঘোষণা করেন। পরে এই মামলায় পক্ষভুক্ত হয়ে ১৭০ জন চিকিৎসক চেম্বার জজ আদালতে হাইকোর্টের রায় স্থগিত চান। চেম্বার বিচারপতি হাইকোর্টের রায় স্থগিত করে লিভ টু আপিল করতে বলেন। ২০১১ সালে লিভ টু আপিল করেন চিকিৎসকরা। সেই আপিল চলতি বছর ২২ ফেব্রুয়ারি খারিজ হয়। গত ১২ জুলাই লিভ টু আপিল ধখারিজ করে দেওয়া রায়ের অনুলিপি প্রকাশিত হয়। এরপর আপিলের খারিজের আদেশের বিরুদ্ধে ১১০ চিকিৎসক রিভিউ আবেদন করেন। সেই রিভিউ আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত তাদের নিয়মিত আপিলের অনুমতি দিলেন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ