Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২২ এপ্রিল ২০২১, ০৯ বৈশাখ ১৪২৮, ০৯ রমজান ১৪৪২ হিজরী

প্রশ্ন : জ্ঞান-বিজ্ঞানের এনসাইক্লোপিডিয়া বলতে কাকে বোঝানো হয়?

| প্রকাশের সময় : ১৮ মার্চ, ২০২১, ১২:০২ এএম

উত্তর : বিশ্ব নন্দিত গবেষক ও দার্শনিক আ’লা হযরত ইমাম আহমদ রেযা খান (রাহমাতুল্লাহি আলাইহি) ছিলেন যুগশ্রেষ্ঠ কলম সম্রাট। যে বিষয়ের উপর তিনি কলম ধরেছেন সে বিষয়ে দ্বিতীয় কারোও কলম ধরার সাহস হয়নি। তিনি তাঁর সুচিন্তিত মতামত, জ্ঞানগর্ভ চিন্তাধারা ও ক্ষুরধার লিখনির মাধ্যমে ভারত উপমহাদেশে ইসলামী জ্ঞান-বিজ্ঞানের অঙ্গনে এক নব জাগরণ সৃষ্টি করেছেন, যার জীবন্ত প্রমাণ বহন করছে তাঁর রচিত সহস্রাধিক গ্রন্থ-পুস্তক। তিনি শুধুমাত্র গবেষণা, ফতোয়া ও পুস্তকাদি রচনায় আত্মনিয়োগ করেননি; বরং সমকালীন বিশ্বের ঘটনা প্রবাহ ও চলমান রাজনৈতিক, সমাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় বিভিন্ন বিষয়ে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করতেন। তাঁর এই জ্ঞানগর্ভ চিন্তাধারা ও ক্ষুরধার লিখনি দেখে আধুনিক দার্শনিকরা তাঁকে জ্ঞান-বিজ্ঞানের ‘‘এনসাইক্লোপিডিয়া’’ তথা বিশ্বকোষ বলে অভিহিত করেছেন।

উপমহাদেশে যখন ইংরেজ শাসকদের লেজুড়বৃত্তি করে কিছু লিখক নিজেদের লেখায় মুসলমানদের হৃদয় থেকে নবীর ভালোবাসা, সাহাবাদের মহত্ত্ব, আহলে বায়ত তথা নবী পরিবারের প্রতি ভালোবাসা, ও বুজুর্গ আওলিয়ায়ে কেরামগণের অবদানের স্মৃতি গুলো নিভিয়ে দিয়ে তাদের ভ্রান্ত মতবাদকে প্রতিষ্ঠা করার অপচেষ্টা করছিল তখনই ইমাম আলা হযরত রহমাতুল্লাহি আলাইহি কলম ধরলেন পবিত্র কুরআনুল করিমের সঠিক তরজুমা (অনুবাদ) কর্মে। ১৩৩০ হিজরিতে শুরু করে মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে মুসলিম মিল্লাতকে উপহার দিলেন কুরআনে কারীমের অসাধারণ অনুবাদ গ্রন্থ “তরজুমায়ে কানযুল ঈমান”। তিনি শরীয়তের গন্ডির মধ্যে থেকে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি ভক্তি, শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও অনুরাগ দেখিয়ে অতুলনীয় ভাষা শৈলী ও ছন্দের যাদু প্রদর্শন করে নাত-কাব্য রচনা করে সাহিত্য জগতেও অবদান রেখেছেন । তিনি উর্দু, আরবী এবং ফারসি প্রভৃতি ভাষায় হামদ-নাত শরীফ লিখেন। তার প্রতিটি নাত-কাব্যে প্রকাশ পেয়েছে নবী প্রেমের অসাধারণ প্রকাশভঙ্গী। এই কাব্যগ্রন্থের নাম “হাদায়েকে বখশীশ”।

তাঁর রচনাবলীর মধ্যে অন্যতম বিশ্ববিখ্যাত গ্রন্থ হলো- ‘‘আল আতায়া আন নবভীয়্যাহ ফিল ফতওয়া আর রজভীয়্যাহ ’’ সংক্ষেপে যাকে ফতওয়ায়ে রেজভীয়্যাহ বলা হয়। এই গ্রন্থে তিনি লক্ষাধিক সমস্যার সমাধান মুসলিম জাতির সামনে উপস্থাপন করেছেন। বর্তমানে প্রায় ৩০ খন্ডে এটি প্রকাশিত হয়েছে। বিশেষত উর্দু ভাষায় প্রায় ২২০০০ পৃষ্ঠা সম্বলিত, ছয় হাজার আটশত সাত চল্লিশটি প্রশ্নোত্তর এবং ২০৬ টি পুস্তিকা সম্বলিত। এই গ্রন্থটি ফিকহ শাস্ত্রে শুধুমাত্র হানাফি মাযহাবের মহান কীর্তিই নয়, বরং ইলমে ফিকহের ইতিহাসেও এক অনবদ্য কর্ম। বিশ্ব বিখ্যাত ইসলামী চিন্তাবিদ ড. আল্লামা ইকবাল রহমাতুল্লাহি আলাইহি ফিক্হ শাস্ত্রে ইমাম আহমদ রেজা খান রহমাতুল্লাহি আলাইহির স² গবেষণা ও গভীর দৃষ্টিপাতের স্বীকৃতি দিয়ে বলেন- ‘‘ভারত বর্ষে হযরত আহমদ রেজার মত সুস্থ স্বভাব ও মেধাসম্পন্ন ফকীহ আর জন্ম হয়নি। এটি ( ফতওয়ায়ে রেজভীয়্যাহ) তার মেধা, তীক্ষ্ণ বুদ্ধি, উন্নত স্বভাব, অনুধাবন ক্ষমতা ও দ্বীনি জ্ঞানের গভীরতার জ্বলন্ত সাক্ষী। তাই তার পক্ষে সম্ভব হয়েছে আমেরিকার জ্যোতিষীর বিশ্বব্যাপি আতংক ছড়ানো সেই ‘কিয়ামতের পূর্বাভাস’ এর যৌক্তিক খন্ডন ও বৈজ্ঞানিকভাবে ভুল প্রমাণিত করা। তিনি আইনস্টাইন এবং নিউটনের দৃষ্টিভঙ্গির সমালোচনা করে ৩টি বিজ্ঞান বিষয়ক বই যথা-১.আল কালিমাতুল মূলহামাতু ফীল হিকমাতিল মুহকামা লি ওয়ায়ে ফালসাফাতিল মুশামমাহ (১৯১৯ খ্রিঃ) ২. ফাওযে মুবীন দর রদ্দে হরকতে যমীন(১৯১৯ খ্রিঃ) ৩. নযুলে আয়াতে কুরআন বে সাকুনে যমীন ওয়া আসমান (১৯১৯ খ্রিঃ) রচনা করে জ্যোতির্বিজ্ঞানের অঙ্গনে আলোড়ন সৃষ্টি করেন। কেননা, তিনি উক্ত বই সমুহে নিউটন, আইনস্টাইন ও আলবার্ট এফ পোর্ট প্রমুখের প্রচারিত অভিমত খন্ডন করে কুরআনুল করিমের আয়াত দ্বারা প্রমাণ করেছেন যে, পৃথিবী স্থির, সূর্য এবং অন্যান্য গ্রহ-নক্ষত্র পৃথিবীর চারিদিকে নিজ নিজ কক্ষপথে পরিভ্রমণে করছে। এ মতের স্বপক্ষে তিনি ১০৫টি প্রমাণ দাঁড় করেন- যার মধ্যে ১৫টি প্রমাণ পূর্বকার লেখকদের গ্রন্থ থেকে আর ৯০টি দলীল স্বয়ং তিনি নিজেই দাঁড় করেন।
উত্তর দিচ্ছেন : মুহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মাসুম।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন