Inqilab Logo

ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭ জুলাই ২০২১, ১২ শ্রাবণ ১৪২৮, ১৬ যিলহজ ১৪৪২ হিজরী
শিরোনাম

স্বামীর নির্যাতন সইতে না পেরে আদালতে স্ত্রী

সাভার থেকে স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৮ মার্চ, ২০২১, ৬:১৩ পিএম

স্বামীর অত্যাচার ও নির্যাতন সইতে না পেরে অবশেষে আদালতে মামলা করতে বাধ্য হয়েছেন পোশাক কর্মী স্ত্রী দুই সন্তানের জননী মমতাজ আক্তার। বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে সিআর মামলাটি দায়ের করেনে মমতাজ আক্তার। মামলায় তার স্বামী মজনু মোল্লা জুয়েল ও ননদ ঝানু বেগমকে আসামী করা হয়েছে।

মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১২সালের ১৮ ফেব্রয়ারী এক লাখ টাকা দেনমোহরে তাদের বিয়ের হয়। তখন মজনু ৪লাখ টাকা যৌতুক দাবী করে মমতাজের পরিবারের নিকট। মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে পরিবারের সদস্যরা দেড় লাখ টাকার গহনা ও কাপড় কিনে দেন। বিয়ের কিছুদিন পর মজনু কুয়েত পাড়ি জমায়। সেখানে কিছুদিন হাজতবাস করে দেশে ফিরে আসে। পুনরায় স্ত্রীর সমস্ত গহনা বিক্রি করে দুবাই চলে যায়। ছয় মাস পর আবার সে দেশে চলে আসে। আবার আড়াই লাখ টাকা নিয়ে ওমান যায় মজনু। কিন্তু ওমান গিয়ে স্ত্রীর সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। কোন উপায় না পেয়ে শিশু সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দিতে পোশাক কারখানায় চাকুরী নেয় মমতাজ। এরমধ্যে হঠাৎ মজনু বাড়িতে এসে স্ত্রীর নিকট ব্যবসা করার জন্য ৫লাখ টাকা যৌতুক দাবী করে। যৌতুকের টাকা দিতে অপারগ প্রকাশ করলে মজনু ও তার পরিবারের লোকজন মমতাজকে মারধর করে যৌতুকের টাকা না দিলে অন্যত্র বিবাহ করার কথা বলে চলে যায়।

বাদী মমতাজ আক্তার জানায়, যৌতুকের টাকা দিতে অস্বীকার করায় বাড়িতে এসে মারধর করে। এমনকি সন্ত্রাসী প্রকৃতির লোকজন নিয়ে এসেও নানা হুমকি ধমকি দিচ্ছে। তিনি বলেন, ৭বছরের সুমাইয়া আক্তার ও ৫বছরের মারিয়া আক্তার নামে দুই কন্যা সন্তান নিয়ে এখন মানবেতর দিনযাপন করছি। প্রতিনিয়ত স্বামী ও তার লোকজনের হুমকিতে দিশেহারা হয়ে পরেছি। এরই মধ্যে তিনি জানতে পারেন তার স্বামী গোপনে আরও একটি বিয়ে করেছেন। এসব জানার পর মমতাজ হামলা ও মারধরের বিষয় জানিয়ে আশুলিয়া থানায় একাধিক জিডিও করেছেন। এমনকি আদালতে ভরণপোষণের আরও একটি মামলা করেছেন।

মমতাজ আক্তার দাবী করেন, তাকে ও তার স্বজনদের ফাঁসাতে তার স্বামী মজনু একটি মিথ্যা মামলা আদালতে দায়ের করেছেন। এদিকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ বিভিন্ন জনের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কোন সুরাহা পাচ্ছেনা অসহায় পোশাক কর্মী মমতাজ আক্তার।

এ প্রসঙ্গে জানতে মমতাজের স্বামী মজনু মোল্লা জুয়েলের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: সাভার


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ