Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৩ মে ২০২১, ৩০ বৈশাখ ১৪২৮, ৩০ রমজান ১৪৪২ হিজরী

উন্নয়নশীল দেশের টিকা তৈরির পথ রুদ্ধ করছে ধনীরা

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ২১ মার্চ, ২০২১, ১২:০২ এএম

উন্নয়নশীল দেশগুলো যাতে তাদের নিজেদের জন্য টিকা উৎপাদনের সক্ষমতা অর্জন করে সেই সহায়তার প্রস্তাব আটকে দিচ্ছে যুক্তরাজ্যসহ অন্যান্য ধনী দেশগুলো। বিবিসি নিউজনাইট অনুষ্ঠানে এ সংক্রান্ত নথি ফাঁস হয়েছে। বেশ কয়েকটি দরিদ্র দেশ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে বলেছিল তাদের সহায়তা করতে। আন্তর্জাতিক আইনের বিধান অনুযায়ী দরিদ্র দেশগুলোকে এই সহায়তা দেয়ার কথা থাকলেও ধনী দেশগুলো তা উপেক্ষা করছে। এই তথ্য পাওয়া গেছে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার একটি ফাঁস হওয়া অনুলিপি থেকে। এই ধনী দেশগুলির মধ্যে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশও রয়েছে। জাস্ট ট্রিটমেন্টের ডায়ারমেড ম্যাকডোনাল্ড বলেন, ‘ভাষাসহ এমন আরও অনেক বিষয় রয়েছে, যার কারণে একটি দেশের পক্ষে অভ্যন্তরীণভাবে আরও বেশি টিকা এবং ওষুধ উৎপাদন করা সহজ হয়। এর মধ্যে এমন উদ্যোগও থাকবে যা অর্থায়নের বিষয়টিকে সহজতর করবে। অন্যদিকে যুক্তরাজ্য এ ধরনের প্রগতিশীল প্রস্তাবগুলো সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছে।’ জাস্ট ট্রিটমেন্ট মূলত রোগীদের একটি গোষ্ঠী যারা ওষুধের সুষ্ঠু সরবরাহের জন্য কাজ করে। যুক্তরাজ্য সরকারের একজন মুখপাত্র বলেছেন, বিশ্বব্যাপী মহামারির জন্য একটি আন্তর্জাতিক সমাধান প্রয়োজন। যুক্তরাজ্য বিশ্বজুড়ে কোভিডের টিকা এবং এ রোগের চিকিৎসা নিশ্চিতের লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছে। সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছে। ওই মুখপাত্র বলেন, চলতি বছর উন্নয়নশীল দেশগুলো যেন করোনাভাইরাসের এক কোটি ডোজ টিকা পায় তা নিশ্চিতের জন্য যে আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা চলছে, তার অন্যতম অনুদান প্রদানকারী দেশ হলো যুক্তরাজ্য। এসব ওষুধের সরবরাহ সাশ্রয়ী মূল্যে নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সরকার কখন হস্তক্ষেপ করবে কিংবা হস্তক্ষেপ করবে কিনা, সেটি একটি দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা। তবে বিভিন্ন দেশের টিকা ও ওষুধ সংগ্রহের সক্ষমতার বিষয়টি মহামারির সময়ে উঠে এসেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসে মৃত্যু রোধ করতে এবং মানুষের মধ্যে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলতে ভ্যাকসিনের ন্যায়সঙ্গত প্রবেশাধিকার অপরিহার্য। ওষুধ নীতি এবং মেধাসত্ব আইন বিশেষজ্ঞ এলেন টি’হোয়ান বলেছেন, বিশ্বব্যাপী ওষুধ প্রস্তুত করার সক্ষমতা রয়েছে প্রয়োজনের তিন ভাগের এক ভাগ। এসব টিকা ধনী দেশগুলোতে উৎপাদিত হয় এবং সাধারণত ধনী দেশগুলোই তা সংরক্ষণ করে থাকে। উন্নয়নশীল দেশগুলো বলছে, তারা এই সুযোগের ভাগ চায়। কেবল টিকার অংশই নয়, এই টিকাগুলো উৎপাদনের অধিকারও চেয়েছে তারা। একটি টিকা তৈরির জন্য আপনার কেবল ওই পেটেন্ট বা সরঞ্জামের প্রয়োজন তা নয়, আপনার এই টিকা উৎপাদনের অধিকারও থাকতে হবে। কিভাবে এটি তৈরি করতে হয় সে সম্পর্কে আপনার জ্ঞান থাকতে হবে। কারণ টিকা উৎপাদনের প্রযুক্তি বেশ জটিল। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এই পেটেন্টগুলো পাশ কাটিয়ে যাওয়ার এখতিয়ার নেই। তবে তারা টিকা সরবরাহ কিভাবে জোরদার করা যায় তা বের করতে বিভিন্ন দেশকে সমন্বিত করার চেষ্টা করছে। আলোচনার মধ্যে রয়েছে পেটেন্ট পাওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক আইনের বিধান ব্যবহার করা এবং দেশগুলোকে তাদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জনে সহায়তা করা। তবে ওষুধ শিল্পগুলো বলছে, পেটেন্ট রক্ষা করা না গেলে কোভিড এবং অন্য যে কোনও রোগের চিকিৎসায় ভবিষ্যতে বিনিয়োগ করার ক্ষমতা বাধার মুখে পড়বে। এই মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের ওষুধ শিল্পের প্রতিনিধিরা তাদের উদ্বেগ জানাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে চিঠি লেখেন। এতে বলা হয়, ‘এই সুরক্ষাগুলো তুলে নিলে মহামারির বিরুদ্ধে বৈশ্বিক প্রচেষ্টা বাধাগ্রস্ত হবে।’ প্রতিনিধিরা বলেছেন, এটি এমন বিভ্রান্তি সৃষ্টি করবে যা টিকার নিরাপত্তার ব্যাপারে মানুষের মধ্যে আস্থাহীনতার সৃষ্টি করবে এবং তথ্য ভাগাভাগিতে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো টিকার নিরাপত্তার বিষয়ে প্রশ্ন উঠলে উৎপাদনও ঝুঁকির মুখে পড়বে। এতে অন্যরাও একমত। ভ্যাকসিন ইমিউনলজির বিশেষজ্ঞ অ্যান মুর ভবিষ্যতের গবেষণায় পেটেন্ট কেমন প্রভাব ফেলবে তা নিয়ে চিন্তিত। তিনি বলেন, সময়ের সাথে সাথে আমরা দেখছি যে অনেক কম সংস্থা এবং বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এই টিকা উৎপাদনের সাথে আছে। কারণ এতে লাভ খুব কম। ওষুধ কোম্পানিগুলো জানিয়েছে যে, তারা মহামারি মোকাবিলায় আর্থিক অনুদান ও ওষুধ দিয়েছে। তবে ওষুধ নীতি এবং মেধাসত্ব আইন বিশেষজ্ঞ এলেন টি’হোয়ান বলেন, এটি স্পষ্ট যে মহামারির কঠিন মুহ‚র্তটি শেষ হওয়ার পর এই টিকাগুলোর দাম বাড়ানোর দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা রয়েছে। সুতরাং উন্নয়নশীল দেশগুলো বলছে যে, আমাদের এখন এসব টিকা তৈরির দক্ষতা অর্জন করা আরও বেশি প্রয়োজন। বিবিসি।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: টিকা


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ