Inqilab Logo

রোববার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২১, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ২৯ রবিউস সানী ১৪৪৩ হিজরী
শিরোনাম

পাঁচশ’ কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট স্থাপন

বিএসএমএমইউ

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ৫ এপ্রিল, ২০২১, ১২:০০ এএম

শ্রবণ প্রতিবন্ধীদের মাঝে কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট স্থাপনে মাইলফলক ছুঁয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসকরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট কার্যক্রমের আওতায় এ পর্যন্ত ৫শ’ জন শ্রবণ প্রতিবন্ধীর কানে কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট স্থাপন করা হয়েছে। কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট পাওয়ার পর এরা সবাই কানে শুনতে ও কথা বলতে পারছে।

সূত্র মতে, কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট একটি উচ্চ প্রযুক্তির সার্জারীর মাধ্যমে রোগীর কানে স্থাপন করা হয়। এখনও পৃথিবীর বহু দেশে এই অত্যাধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি সহজলভ্য হয়নি। বাংলাদেশেও এক সময় এই চিকিৎসার কথা চিন্তাই করা যেতোনা। সেই অসাধ্যই সাধন করেছেন বিএসএমএমইউ’র নাককান ও গলা বিভাগের চিকিৎসকরা। শ্রবণ ও বাকপ্রতিবন্ধীদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে ২০১০ সালে বিএসএমএমইউ ‘কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট কার্যক্রম-বিএসএমএমইউ’ কর্মসূচী চালু হয়। এখানে ২০১১ সালে প্রথম রোগীর কানে সফলতার সঙ্গে কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট স্থাপন করা হয়। এরপর থেকে ধীরে ধীরে এই চিকিৎসকরা কথা ছড়িয়ে পড়ে দেশব্যাপী। গত ৩১ মার্চ ৫শ’ তম রোগীর কানে কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট স্থাপনের মাইলফলক স্পর্শ করে বিএসএমএমইউ। ৫০০তম কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট স্থাপনকরা রোগী নাঈমের বয়স ৩ বছর ৭ মাস। অপারেশনের পর সে ভালো আছে। ৩ সপ্তাহ পর তার সাউন্ড প্রসেসর চালু করা হলে সে কানে শুনতে ও কথা বলতে পারবে। এজন্য তাকে আগামী ২ বছর ভাষা শিক্ষা প্রশিক্ষণ দেয়া হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নব নিযুক্ত ভিসি প্রফেসর ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, সরকার অত্যন্ত ব্যয়বহুল একটি ডিভাইস যার মূল্য একটি টয়োটা গাড়ির সমান, তা বিনামূল্যে বা নামমাত্র মূল্যে শ্রবণ প্রতিবন্ধীদেরকে প্রদান করছে। এটি বাংলাদেশ সরকারের একটি অনন্য মানবিক কর্মসূচী। তিনি শ্রবণ প্রতিবন্ধীদের কল্যাণে বার বার এগিয়ে আসার জন্য প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা -কে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে এই কর্মসূচীটি পরিচালিত হচ্ছে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট ডিভাইস প্রদানসহ অন্যান্য খরচ বহন করে থাকে। প্রতিটি রোগীর কানে কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট স্থাপনে শুধু ডিভাইসের জন্যই ব্যয় হয় ১০ লক্ষাধিক টাকা। কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট চিকিৎসার পথিকৃত বিশ্ববিদ্যালয়ের নাক কান ও গলা বিভাগের প্রফেসর ডা. মো. আবুল হাসনাত জোয়ারদার জানান, ডিভাইসের উচ্চ মূল্য ও প্রযুক্তির অভাবে একটা সময়ে এদেশে কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট স্থাপনের কথা ভাবাই যেতনা। সরকারী অর্থ সাহায্যের পর সেই অবস্থা এখন ধীরে ধীরে বদলেছে। শুধু বঙ্গবন্ধু মেডিক্যালেই ৫০০ জন রোগীর কানে সফল ভাবে কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট স্থাপনের মাইলফলক ছোঁয়া সম্ভব হয়েছে। এখানে দক্ষ স্পিচ থেরাপিস্ট, অডিওলজিস্ট এবং সার্জনের সমন্বয়ে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে জটিল এই চিকিৎসা সহজেই করা সম্ভব হচ্ছে। সব মিলিয়ে বঙ্গবন্ধু মেডিক্যালে এই কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট কার্যক্রম দিনদিন একটি বৃহৎ কক্লিয়ার সেন্টারে পরিণত হয়েছে। প্রফেসর ডা. মো. আবুল হাসনাত জোয়ারদারের নেতৃত্বে এই কর্মসূচীতে সাতজনের একটি সার্জিক্যাল টিম নিয়মিত কাজ করছেন।

বঙ্গবন্ধু মেডিক্যালের সফল কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট চিকিৎসায় স্বপ্ন দেখছে প্রতিবন্ধী শিশু-কিশোরেরা। দিন দিন এটি বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধীদের ভরসাস্থলে পরিণত হয়েছে। চিকিৎসকরা জানান, প্রতি রবিবার ও মঙ্গলবার দুপুর ১২ টা থেকে বঙ্গবন্ধু মেডিক্যালের কক্লিয়ার ক্লিনিকে রোগী দেখো হয়। প্রতি সপ্তাহে ওই দুইদিনে কম করে হলেও ১৫ থেকে ২০ জন রোগী আসেন। এছাড়া প্রতিদিনই নাক কান ও গলা বিভাগে শ্রবণ প্রতিবন্ধীদের দেখে থাকেন চিকিৎসকরা।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: বিএসএমএমইউ


আরও
আরও পড়ুন