Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার, ২১ এপ্রিল ২০১৯, ৮ বৈশাখ ১৪২৬, ১৪ শাবান ১৪৪০ হিজরী।

ইরানের শাসকরা ইসলামের শত্রু -সউদী গ্র্যান্ড মুফতি

আলী খামেনেয়ীর বিবৃতির নিন্দা জিসিসি’র

প্রকাশের সময় : ৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬, ১২:০০ এএম

ইনকিলাব ডেস্ক
ইরানের শাসক এবং দেশটির ধর্মীয় নেতা আলী খামেনেয়ীর কঠোর সমালোচনা করে তাদের ইসলাম ধর্মের শত্রু বলে আখ্যায়িত করেছেন সউদী আরবের গ্র্যান্ড মুফতি আব্দুল আজিজ আল আশ-শেইখ। মক্কা ডেইলির সাথে এক টেলিফোন সাক্ষাতকারে গ্রান্ড মুফতি বলেন, ‘হজ ব্যবস্থাপনা নিয়ে রাজতন্ত্র এবং রাজকীয় ব্যবস্থাপনায় ইরানের সমালোচনা বিস্ময়ের কোনো ব্যাপার নয়’।
তিনি বলেন, আমাদের অবশ্যই বুঝতে হবে- ইরানি শিয়ারা মুসলমান নয়। তারা মেজাইয়ের (জরথ্রুস্ট দেবতা) বংশধর। ইসলামের সঙ্গে তাদের শত্রুতা প্রাচীন। বিশেষ করে বহু আগে থেকে সুন্নি মুসলমানদের শত্রু তারা।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, বিশ্বের সকল প্রান্ত থেকে আগত মুসলিম হজযাত্রীদের জন্য নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ হজ পালন নিশ্চিতে সউদী আরবের প্রচেষ্টা যারা বাধাগ্রস্ত ও নস্যাতের চেষ্টা চালাচ্ছে তাদের সে ঘৃণ্য নীলনকশা সফল হবে না। তিনি আরো বলেন, দু’টি পবিত্র মসজিদ এবং হজযাত্রীদের সেবাদানে সউদী আরব সরকারের প্রচেষ্টার প্রতি বিশ্ব মুসলিমের পূর্ণ আস্থা ও সমর্থন রয়েছে।
এর আগে গত সোমবার সউদী যুবরাজ মোহাম্মদ বিন নায়েফ ইরানের সমালোচনাকে নাকচ করে দিয়ে বলেছেন, তাদের অভিযোগের কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই এবং তারা নিজেরাও জানে যে, ইরানিসহ সব হজযাত্রীদের সেবা প্রদানে সউদী আরবের প্রচেষ্টা অত্যন্ত চমৎকার। মিনায় হজ ব্যবস্থাপনার মহড়াকালে গণমাধ্যমে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
ক্রাউন প্রিন্স বলেন, হজকে সবার জন্য সর্বাধিক নিরাপদ ও আরামদায়ক করতে দুটি পবিত্র মসজিদের খাদেম বাদশাহ সালমান বিন আব্দুল আজিজ কোনো প্রচেষ্টা বাকি রাখেননি। তিনি আরো যোগ করেন যে, হজ বাধাগ্রস্ত করার যেকোনো হুমকি মোকাবিলায় সউদী সরকার দৃঢ় থাকবে। তিনি বলেন, ইরানের হজ মিশন এমন অনুরোধ করেছে যা কি না হজ নীতির লঙ্ঘন। তারা এমন জিনিস দাবি করে আসছিল, যা অন্যসব হজযাত্রীদের নিরাপত্তা বিপন্ন করে তুলত। হজ নিয়ে রাজনীতির কথা বলে চলতি বছর ইরান তাদের হজযাত্রীদের হজ পালন থেকে বিরত রেখেছে।
এদিকে সউদী রাজতন্ত্রের অবমাননা এবং মিথ্যা অভিযোগ এনে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আলী খামেনেয়ীর বিবৃতির নিন্দা জানিয়েছে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ জিসিসি। সউদী প্রেস এজেন্সি গতকাল জানায়, জিসিসি বলেছে, কোন মুসলিম বিশেষ করে একটি ইসলামী দেশের নেতার কাছ থেকে এ ধরনের অশোভন ও অবমাননাকর ভাষা আশা করা যায় না। জিসিসির মহাসচিব ড. আব্দুল লাতিফ বিন রাশিদ আল-জায়ানী বলেন, দু’টি পবিত্র মসজিদের ভূমিতে পবিত্র সময়ে সমগ্র বিশ্বের মুসলিম যখন ইসলামের মহান ইবাদত পালনের লক্ষ্যে একত্রিত তখন একে নিয়ে রাজনীতি করা এবং হজযাত্রীদের উস্কানি দেবার লক্ষ্যেই ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার এ বিবৃতি। তিনি বলেন, হজযাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও হজের সুযোগ-সুবিধা প্রদানে সউদী সরকারের নেতৃবৃন্দ ও জনগণের অক্লান্ত পরিশ্রমের ব্যাপারে মুসলিম বিশ্ব পুরোপুরি সচেতন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ সদস্যভুক্ত দেশগুলো সউদী আরব ও জিসিসি দেশগুলোর বিরুদ্ধে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার অন্যায় ও ধারাবাহিক মিডিয়া প্রচারণামূলক বিবৃতিকে প্রত্যাখ্যান করছে। সূত্র : আরব নিউজ।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন