Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার, ১৯ মে ২০২১, ০৫ জৈষ্ঠ্য ১৪২৮, ০৬ শাওয়াল ১৪৪২ হিজরী

বাগেরহাটে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে খোলা মাঠে হাট-বাজার

বাগেরহাট জেলা সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ৬ এপ্রিল, ২০২১, ৭:২১ পিএম

করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে মানুষের মধ্যে সামাজিক দূরত্ব বাড়াতে বাগেরহাটের জনসমাগম হওয়া বড় বড় হাটবাজারগুলোকে স্থানান্তর করা হয়েছে। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

মঙ্গলবার (০৬ এপ্রিল) সকাল থেকে বাগেরহাট জেলার বিভিন্ন হাট বাজার সামাজিক দূরত্ব মেনে খোলা মাঠে বসতে শুরু করেছে। দুপুরে বাগেরহাট সদর উপজেলার অন্যতম বড় হাট খানজাহান আলী দরগার হাটে দেখা যায় নির্দিষ্ট স্থানে কোন ব্যবসায়ীর চটি (দোকান) নেই। বাজারের নির্ধারিত স্থানের পাশে ষাটগম্বুজ ইউনিয়ন পরিষদের সামনে রনবিজয়পুর ফুটবল মাঠের মধ্যে দুই শতাধিক ব্যবসায়ী পণ্য নিয়ে বেচা-বিক্রি করছেন। স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা হাট বাজারগুলো পরিদর্শন করছেন। খোলাবাজারে হাট-বাজার স্থানান্তর হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে ক্রেতা বিক্রেতা ও স্থানীয়দের মাঝে। জেলার ৯ উপজেলার দেড় শতাধিক বড় হাটবাজার খোলা স্থানে নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।

খানজাহান আলী দরগার হাটে ডিম বিক্রির জন্য খোলা মাঠে বসা রকিবুল ইসলাম বলেন, হাটের মধ্যে আমাদের স্থায়ী তাঁবু থাকে। সেখানে নির্দিষ্ট স্থানে প্রতি হাটের দিন আমরা কেনা-বেচা করি। হঠাৎ করে করোনা সংক্রমণের কারণে মাঠের মধ্যে বসতে বলা হয়েছে। রোদের মধ্যে বসে বিক্রি করছি। কষ্ট হলে মানসিক দিক থেকে শান্তি পাচ্ছি। শুনেছি এভাবে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে পারলে করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধ করা যাবে।

সবজি বিক্রেতা আল আমিন বলেন, সকালে মালামাল নিয়ে এসে শুনি মাঠের মধ্যে দোকান বসাতে হবে। মাঠের মধ্যেই সবকিছু নিয়ে বসে পড়েছি। ক্রেতারাও আসছে। প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী মাস্ক না থাকলে আমরা বিক্রি করছি না। এক বারে শুধু একজনকেই আসার জন্য অনুরোধ করছি।

বাজার করতে আসা সিরাজুল ইসলাম বলেন, করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে প্রশাসন যে উদ্যোগ নিয়েছে আমরা তাকে সাধুবাদ জানাই। রোদের মধ্যে কষ্ট করে কেনা-বেচা করতে হচ্ছে সত্যি, তারপরও হাটে যে প্রচুর ভিড় থাকে এখানে সে ভিড় নেই। যে কেউ ইচ্ছে করলেই ভিড় এড়িয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে তার প্রয়োজনীয় ক্রয়-বিক্রয় শেষ করতে পারবেন।

বাগেরহাট সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সরদার নাসির উদ্দিন বলেন, করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় জনসমাগমের বড় স্থল হাটবাজারগুলোতে যাতে সবাই দূরত্ব মেনে বাজারঘাট করতে পারে সেজন্য একেক হাটের বাস্তবতা বুঝে স্থানান্তর করেছি। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা সুন্দরভাবে হাটবাজার গুলোতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার চেষ্টা করছি।

বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক আনম ফয়জুল হক বলেন, স্বাস্থ্য বিধি ও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে সকল উপজেলার হাট-বাজার গুলোকে খোলা মাঠে স্থানান্তর করতে বলা হয়েছে। এই বিষয়ে সকল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। উন্মুক্ত স্থানে বসা বাজারগুলোতে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে মনিটরিং ও সচেতনা বৃদ্ধির জন্য মাস্ক বিতরণ অব্যাহত রাখা হয়েছে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: বাগেরহাট


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ