Inqilab Logo

ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭ জুলাই ২০২১, ১২ শ্রাবণ ১৪২৮, ১৬ যিলহজ ১৪৪২ হিজরী

সালথায় তান্ডবের ঘটনায় আরো ১ জনের মৃত্যু, অজ্ঞাতনামা ৪ হাজার জনের নামে মামলা : আটক-১৩

ফরিদপুর জেলা সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ৭ এপ্রিল, ২০২১, ৭:৫৭ পিএম

ফরিদপুরের সালথা উপজেলার বিভিন্ন সরকারি অফিস ও থানায় তান্ডবের ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। এ মামলায় ৮৮ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও প্রায় ৪ হাজার জনকে আসামি করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৬ এপ্রিল) দিবাগত রাতে সালথা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মিজানুর রহমান বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

এদিকে তান্ডবের ঘটনায় মিরান মোল্যা (৩৫) নামে আহত আরো একজনের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। তিনি উপজেলার ভাওয়াল ইউনিয়নের দরজাপুরুরা গ্রামের আব্দুর রব মোল্যার ছেলে। আজ বুধবার (৭ এপ্রিল) দুপুরে ঢাকার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভাওয়াল ইউপি চেয়ারম্যান ফারুকুজ্জামান ফকির মিয়া। এর আগে এ ঘটনায় জুবায়ের হোসেন (২০) নামে এক যুবক নিহত হয়। মোট দুই যুবকের মৃত্যু হলো এই সহিংসতায়।

এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এ ঘটনায় মোট ১৩ জনকে আটক করা হয়েছে বলে সালথা থানার ওসি (ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) আসিকুর রহমান গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন ।

মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামাল পাশা গণমাধ্যমকে বলেন, উপজেলা পরিষদ ভবন, ভূমি অফিস, মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ও থানা এলাকায় তান্ডবের ঘটনায় ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছে। মামলার এজাহারভুক্ত আসামিসহ ১৩ জনকে ইতোমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার করার জন্য অভিযান অব্যাহত রাখা হয়েছে।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন, মামলার এজাহারভুক্ত আসামি উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের গোপালিয়া গ্রামের ক্বারী ইনছুর শেখের ছেলে মোঃ নুরু শেখ (১৮), বিনোকদিয়া গ্রামের করিম কাজীর ছেলে মোঃ সজিব কাজী (১৯), ইউসুফদিয়া গ্রামের শাহজাহান মাতুব্বরের ছেলে রাব্বি মাতুব্বর (১৯), মিনাজদিয়া গ্রামের আব্দুল মোতালেবের ছেলে মোঃ ইউনুস মাতুব্বর (৬০), ও গোপালিয়া গ্রামের সালাম মোল্যার ছেলে আমির মোল্যা (৩০)। অন্যরা হলেন, ফুকরা গ্রামের গ্রামের সুলতান শেখের ছেলে আবুল কালাম শেখ (৩৫), রিপন শেখ (৩২), ইসরাইল মোল্যার ছেলে ইলিয়াস মোল্যা (২৭), চিলারকান্দা গ্রামের খালেক শেখের ছেলে শহিদুল শেখ (৩২), পিসনাইল গ্রামের গ্রামের ঝিলু ফকিরের ছেলে মোঃ রুবেল ফকির (২৫), সোনাপুর গ্রামের মিজানুর শেখের ছেলে মোঃ রাকিবুল ইসলাম (১৮) ও বিনোকদিয়া গ্রামের আয়ুব মোল্যার ছেলে মোঃ সাইফুল ইসলাম (১৮)।

জেলা প্রশাসক অতুল সরকার গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, সালথার তান্ডবের ঘটনা তদন্তে ছয় সদস্যের দুটি কমিটি করা হয়েছে। এর একটি প্রধান করা হয়েছে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোছা. তাসলিমা আলীকে অপর কমিটির প্রধান করা হয়েছে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোঃ আসলাম মোল্যাকে। আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে এই দুই কমিটিকে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

অপরদিকে ধংসযজ্ঞ শেষে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলেও এলাকার অবস্থা এখনো থমথমে। উপজেলা পরিষদজুড়ে এখন পড়ে আছে শুধুই ক্ষত-বিক্ষত চিহ্ন। উপজেলা সদরের বাতাসে পোড়া গন্ধ, ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে ভাঙা কাঁচ আর আসবাবপত্রের টুকরা। মানুষের চোখে-মুখে আতঙ্কের ছাপ। টানা তিনঘণ্টা তান্ডবে লন্ডভন্ড উপজেলা পরিষদ এলাকা। ঘটনাস্থল ও আশপাঁশের এলাকায় বিপুল সংখ্যাক পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

এলাকাবাসি বলেন, গত সোমবার রাতে চালানো তান্ডবের ঘটনা এখনও চোখে ভাসছে। স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয় আরেক বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম বলেন, সালথা দাঙ্গাপ্রবণ এলাকা হলেও এমন ঘটনা কখনো ঘটতে দেখিনি। এই ধরনের ভয়াবহ তান্ডব প্রথম দেখলো সালথাবাসী। এ কারণে সবাই আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি গত সোমবার সন্ধ্যায় উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের ফুকরা বাজারে লকডাউনের কার্যকারিতা পরিদর্শনে যান উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মারুফা সুলতানা খান হিরামণি। এ সময় সহকারী কমিশনারের গাড়ি থেকে নেমে কয়েক ব্যক্তি বাজারে উপস্থিত কয়েকজনকে লাঠিপেটা করে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়রা হেফাজত নেতা মাওলানা আকরাম আলীকে গ্রেফতার করা হয়েছে, এমন গুজব ছড়িয়ে সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১১ পর্যন্ত কয়েক হাজার মানুষ উপজেলা চত্বরে দেশীয় অস্ত্র ঢাল-কাতরা ও লাঠিসোঁটা নিয়ে প্রবেশ করে বিভিন্ন সরকারি দফতর ও থানায় এই তান্ডব চালায়। মধ্যযুগীয় কায়দায় হামলাকারিরা তিন ঘন্টাব্যাপী ধ্বংসযজ্ঞ চালায়, তাদের এই হামলায় রক্ষা পায়নি উপজেলা পরিষদ চত্বরের গাছপালা ও বঙ্গবন্ধুর মুর‌্যাল। এতে সালথা উপজেলা সদর এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। তান্ডব চলাকালে ইউএনও-এসিল্যান্ডের দুটি সরকারি গাড়ি সম্পর্ণ পুড়িয়ে দেয় তারা। এছাড়াও তিনটি মোটর সাইকেল ভাঙচুর করা হয় ও দুটি মোটসাকেল পুড়িয়ে দেয়া হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ৫৮৮ রাউন্ড শট গানের গুলি, ৩২ রাউন্ড গ্যাস গান, ২২ টি সাউন্ড গ্রেনেড এবং ৭৫ রাউন্ড রাইফেলের গুলি ছুড়ে ।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ফরিদপুর


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ