Inqilab Logo

ঢাকা সোমবার, ১৯ এপ্রিল ২০২১, ০৬ বৈশাখ ১৪২৮, ০৬ রমজান ১৪৪২ হিজরী

সক্রিয় রোগী ৯ লাখের বেশি : শীর্ষে মহারাষ্ট্র

ভারতে সোয়া লাখ পেরলো দৈনিক সংক্রমণ

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ৯ এপ্রিল, ২০২১, ১২:০৪ এএম

ভারতের দৈনিক করোনা সংক্রমণ এবার সোয়া লাখ ছাড়িয়ে গেল। করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ের জেরে গত সোমবার প্রথমবারের জন্য আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছিল ১ লাখের গন্ড। মঙ্গলবার তা একটু কমে। বুধবার তা হয়েছিল ১ লাখ ১৫ হাজার। গতকাল তা হল ১ লাখ ২৬ হাজার ৭৮৯ জন। ভারতে একদিনে আক্রান্তের নিরিখে এ সংখ্যা এখনও অবধি সর্বোচ্চ। রোজ এই সংখ্যক আক্রান্ত বৃদ্ধির জেরে ভারতে সক্রিয় রোগীর সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বৃদ্ধি পেয়ে পেরিয়ে গেল ৯ লাখের গন্ডি। গতকাল ভারতের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী ভারতে সক্রিয় রোগীর সংখ্যা ৯ লাখ ১০ হাজার ৩১৯।

করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের জেরে দিনে দিনে খারাপ হচ্ছে মহারাষ্ট্রের পরিস্থিতি। গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় সেখানে আক্রান্ত হয়েছেন ৫৯ হাজার ৯০৭ জন। সে রাজ্যের বিভিন্ন জেলার পাশাপাশি খারাপ হচ্ছে মুম্বাইয়ের অবস্থা। দৈনিক মৃত্যুও ওই রাজ্যে বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সেখানে মৃত্যু হয়েছে ৩২২ জনের। ভারতের মোট সক্রিয় রোগীর অর্ধেকেরও বেশি শুধু মহারাষ্ট্রেই।

গত এক সপ্তাহে মহারাষ্ট্রের পাশাপাশি কর্নাটক, ছত্তীশগড়, দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ, পাঞ্জাব, তামিলনাড়ুর মতো রাজ্যগুলির পরিস্থিতিরও অবনতি হচ্ছে। এগুলোর মধ্যে সবথেকে খারাপ অবস্থা ছত্তীশগড়ে। গত ২৪ ঘণ্টায় সেখানে আক্রান্ত হয়েছেন ১০ হাজার ৩১০ জন। করোনার প্রথম পর্বেও এত খারাপ পরিস্থিতি ছিল না এই রাজ্যে। কর্নাটকেও দিন দিন অবনতি হচ্ছে করোনা পরিস্থিতির। একই অবস্থা রাজধানী দিল্লিতেও। গত ২৪ ঘণ্টায় সেখানে নতুন আক্রান্ত ৫ হাজার ৫০৬ জন। এ বছরে যা এখনও অবধি সর্বোচ্চ। উত্তরপ্রদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়েছেন ৬ হাজারের বেশি। মধ্যপ্রদেশেও কোভিড পরিস্থিতির দ্রæত অবনতি হচ্ছে। সেখানে দৈনিক আক্রান্ত ৪ হাজার ছাড়িয়েছে। তামিলনাড়ুতেও তা প্রায় ৪ হাজার, গুজরাট এবং কেরালায় সাড়ে ৩ হাজার। গত ক’দিনে তেলেঙ্গানা, পশ্চিমবঙ্গ, রাজস্থান, অন্ধ্রপ্রদেশ, হরিয়ানাতে বেড়েছে দৈনিক আক্রান্ত। ওই রাজ্যগুলো বৃহস্পতিবার দৈনিক আক্রান্ত আড়াই হাজারের আশপাশে। বিহার, ঝাড়খন্ড, উত্তরাখন্ডে দৈনিক আক্রান্ত এক হাজার ছাড়িয়েছে। হাজারের কম হলেও ওড়িশা, গোয়া, জম্মু ও কাশ্মীর, হিমাচল প্রদেশেও ভারতের দৈনিক আক্রান্ত বাড়ছে।

এই নতুন আক্রান্ত বৃদ্ধি ভারতের সক্রিয় রোগীর সংখ্যাকে হু হু করে বাড়িয়ে দিচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতে সক্রিয় রোগীর সংখ্যা বেড়েছে ৬৬ হাজার ৮৪৬। এখন ভারতে মোট সক্রিয় রোগী রয়েছেন ৯ লাখ ১০ হাজার ৩১৯ জন। গত বছর সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে ভারতে সক্রিয় রোগীর সংখ্যা ছিল সবথেকে বেশি। তার পর থেকে অল্প অল্প করে হলেও তা কমতে শুরু করে। কমতে কমতে এ বছর ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে তা দেড় লাখের নীচে নেমেছিল। তারপর এই দেড় মাসের মধ্যে সক্রিয় রোগী এই পরিমাণ বাড়ল।

সক্রিয় রোগীর পাশাপাশি ভারতে দৈনিক মৃত্যুও বেড়েছে গত দেড় সপ্তাহে। গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতে মৃত্যু হয়েছে ৬৮৫ জনের। এ নিয়ে করোনাভাইরাস ভারতে প্রাণ কাড়ল ১ লাখ ৬৬ হাজার ৮৬২ জনের। ভারতের মোট মৃত্যুর অর্ধেকই মহারাষ্ট্রে। পাঞ্জাব, কর্নাটক, উত্তরপ্রদেশ, তামিলনাড়ু এবং দিল্লিতেও বেড়েছে দৈনিক মৃত্যু। যদিও ভারতে টিকাকরণ চলছেও জোরকদমে। গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতে টিকা পেয়েছেন ৩১ লাখ ২১ হাজার ১৯৯ জন। এ নিয়ে ভারতে মোট ৯ কোটি ১ লাখ ৯৮ হাজার ৬৭৩ কোভিড টিকার ডোজ দেয়া হয়েছে।

এদিকে দেশে কোভিড টিকার দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বৃহস্পতিবার দিল্লির অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস (এমস)-এ এই টিকা নেন তিনি। টিকার প্রথম ডোজ নেওয়ার ৩৭ দিন পরে দ্বিতীয় ডোজ নিলেন তিনি। টিকাকরণের দ্বিতীয় পর্যায় শুরু হওয়ার পরে গত ১ মার্চ প্রথম ডোজ নিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী।

নিজের টিকা নেয়ার একটি ছবি টুইট করে মোদি অনুরোধ করেছেন, টিকা নেওয়ার যোগ্য হলে যেন দ্রুত তা নিয়ে নেন সবাই। টুইটে মোদি বলেন, ‘এমস-এ কোভিড-১৯ টিকার দ্বিতীয় ডোজ নিলাম। ভাইরাসকে হারানোর যে কয়েকটি উপায় রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম এ টিকা। যদি আপনি টিকা নেওয়ার যোগ্য হন তা হলে তাড়াতাড়ি টিকা নিয়ে নিন’।

বৃহস্পতিবার টিকা নেওয়ার সময় মোদির সঙ্গে দু’জন নার্স ছিলেন। তাঁদের মধ্যে একজন পি নিভেদা। গতবার তিনিই মোদিকে টিকা দিয়েছিলেন। এবার প্রধানমন্ত্রীকে টিকা দেন নিশা শর্মা নামের এক নার্স। সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা।

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: করোনা


আরও
আরও পড়ুন