Inqilab Logo

ঢাকা, শনিবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৯, ০৩ কার্তিক ১৪২৬, ১৯ সফর ১৪৪১ হিজরী

শহীদ জিয়ার স্বাধীনতা পদক কেড়ে নেয়ার ঘটনা নগ্ন প্রতিহিংসার বহিঃপ্র্রকাশ : মির্জা ফখরুল

আজ ও কাল বিএনপির প্রতিবাদ-বিক্ষোভ কর্মসূচি

প্রকাশের সময় : ৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬, ১২:০০ এএম

স্টাফ রিপোর্টার: জাতীয় জাদুঘর থেকে জিয়াউর রহমানের মরণোত্তর স্বাধীনতার পদক সরিয়ে ফেলার ঘটনাকে সরকারের নগ্ন প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ অভিহিত করে আজ শুক্রবার রাজধানী ঢাকায় এবং আগামীকাল শনিবার সারাদেশে মহানগর-জেলায় জেলায় বিক্ষোভ সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
তিনি বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধে যারা প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের অবদানকে অস্বীকার করে, শুধুমাত্র আদালতের রায়ের ভিত্তিতে যারা পদক সরিয়ে ফেলে, মাজার সরিয়ে ফেলতে চায়, তারাই মূলত স্বাধীনতাবিরোধী। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, এটা কখনোই ইতিহাসে স্থান পায় না। আমরা এই সরকারের এই হীন ও নিষ্কৃষ্টতম কর্মকা-ের তীব্র নিন্দা, ধিক্কার ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। অবিলম্বে এই স্বাধীনতা পদক যথাস্থানে স্থাপন করার আহ্বান জানাচ্ছি।
তিনি জানান, এই কর্মকা-ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে শুক্রবার ও শনিবার সারাদেশে জেলা সদর ও মহানগরে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। ঢাকায় বিক্ষোভ সমাবেশ হবে শুক্রবার  বেলা ৩টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে।
২০০৩ সালে তৎকালীন চারদলীয় জোট সরকার আমলে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার দেয়া হয়।
সরকার সম্প্রতি জিয়াউর রহমানকে দেয়া রাষ্ট্রের বেসামরিক সর্বোচ্চ সম্মান বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়। জাতীয় পুরস্কারসংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ওই সিদ্ধান্তের আলোকে গত বুধবার জিয়ার পদকটি জাদুঘর থেকে সরিয়ে নেয়া হয়।
জিয়ার স্বাধীনতা পদক বাতিল করার সরকারের সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বুধবার জাদুঘর থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক ও রণাঙ্গনের বীর  সেনাপতি জনগণের প্রিয় নেতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীরোত্তমের স্বাধীনতা পদক সরিয়ে ফেলার কার্যকলাপ রাজনৈতিক প্রতিহিংসাপ্রসূত। এই সিদ্ধান্তে শুধু জিয়াউর রহমানকে হেয় করা হচ্ছে না, বরং স্বাধীনতা সংগ্রামে যারা অসামান্য অবদান রেখেছেন, তাদের সকলের জন্য চরম অবমাননাকর। সরকার এহেন সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রমাণ করল যে, সত্যিকারের মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক ছিল না।
তিনি বলেন, বিএনপি মনে করে সরকারের এই সিদ্ধান্ত শুধু সঙ্কীর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নয়, এটা প্রতিহিংসাপরায়ণ, গণবিচ্ছিন্ন ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ। এর ফলে স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে পদকপ্রাপ্ত বরণ্য ব্যক্তিবর্গকে অবমাননা করা হচ্ছে।
জিয়ার স্বাধীনতার পদক কেড়ে নেয়ার সিদ্ধান্তকে দেশের ‘রাজনৈতিক ইতিহাসে নিষ্কৃষ্টতম’ সিদ্ধান্ত অভিহিত করে মির্জা ফখরুল বলেন, এটা খারাপ নজির বহন করবে সবসময়। এই গণবিরোধী ও বাংলাদেশের অস্তিত্ববিরোধী সিদ্ধান্ত দেশকে আরো বিভক্ত করবে এবং দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরো সঙ্কটময় ও জটিল করে তুলবে।
জিয়ার অবদানকে জনগণের হৃদয় থেকে মুছে ফেলা যাবে না দাবি করে তিনি বলেন, জিয়া ও বাংলাদেশ অবিচ্ছেদ্য।
পঞ্চম সংশোধনী বাতিলের বিষয়ে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের দেয়া রায়ের অপব্যাখ্যা দিয়ে সরকারের নানা সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আওয়ামী লীগ আজীবন ক্ষমতায় থাকার জন্য স্বৈরাচারী একনায়কতান্ত্রিক সরকারগুলোর মতোই অবৈধভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার করে চলেছে। যদি পঞ্চম সংশোধনী অবৈধ হয়, তাহলে পঞ্চদশ সংশোধনীর পূর্বে সকল সরকারের সকল কার্যকলাপ কী অবৈধ হয় না? পঞ্চম সংশোধনীর বলেই ১৯৮২ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী বিচারপতি আব্দুস সাত্তারের বিপক্ষে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী ছিলেন বর্তমানে গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, বর্তমানে সংসদে এইচ এম এরশাদ বিরোধী দলের সদস্য। অন্য দিকে সংসদে জাতীয় পার্টির ৩ জন সদস্য সরকারের মন্ত্রী। এটা কিভাবে বৈধ হয়? আপনারা জানেন, বিচারপতি খায়রুল হকের সেই রায়ে পর্যবেক্ষণ ছিলÑ এইচ এম এরশাদের ক্ষমতা গ্রহণও অবৈধ। আওয়ামী লীগের অনৈতিক সরকার শুধু ইতিহাস বিকৃত করছে না, তারা নিজেদের স্বার্থে  দেশের সকল স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করে স্বেচ্ছাচারিতার চরম নজির স্থাপন করে ভিন্ন রঙের একদলীয় শাসন চাপিয়ে দিচ্ছে জনগণের ওপর। বহুমত, বহু পথ ও মুক্তচিন্তাকে কবর দিয়ে ফ্যাসিবাদী একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করছে।
মির্জা ফখরুল বলেন, দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি, অর্থনীতিকে সচল করা, বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমর্যাদা ফিরিয়ে আনাসহ বাংলাদেশকে আর্থনির্ভরশীল করতে জিয়াউর রহমানের অবদানের কথাও তুলে ধরেন তিনি।
নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুুল আউয়াল মিন্টু, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, আহমেদ আজম খান, জয়নাল আবেদীন, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, ছাত্রদল সভাপতি রাজীব আহসান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন