Inqilab Logo

ঢাকা, শনিবার, ১৫ মে ২০২১, ০১ জৈষ্ঠ্য ১৪২৮, ০২ শাওয়াল ১৪৪২ হিজরী

কৃষ্ণসাগরে কৌশলগত খাল খননে প্রস্তুত তুরস্ক

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ১২ এপ্রিল, ২০২১, ১২:০০ এএম

ইস্তাম্বুলের ভেতর দিয়ে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি খাল নিমার্ণের জন্য বিশাল একটি প্রজেক্ট নিয়েছে তুর্কি সরকার। এর জন্য ইতিমধ্যেই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেয়া হয়ে গিয়েছে। আঙ্কারায় দলের সংসদীয় বøকের সাথে বৈঠকের পরে এই তথ্য জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেপ এরদোগান।

খালটি ইস্তাম্বুলের উত্তরে কৃষ্ণ সাগরের সাথে দক্ষিণে মারমার সাগরকে যুক্ত করবে। এরদোগানের বরাতে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি জানিয়েছে, ‘আমরা ইস্তাম্বুল খাল খননের জন্য আমাদের বেশিরভাগ প্রস্তুতি শেষ করেছি, যা দেশের অন্যতম বৃহত্তম এবং কৌশলগত অবকাঠামো প্রকল্প হিসাবে বিবেচিত হচ্ছে।’ খালটির দীর্ঘ প্রায় ৪৫ কিলোমিটার, গভীরতা ২১ মিটার এবং প্রস্থ ২৭৫ মিটার হবে বলে জানানো হয়েছে। চলতি গ্রীষ্মেই তুরস্ক এই প্রকল্পের ভিত্তি স্থাপন করবে আশাবাদী এরদোগান। তবে রয়টার্সের মতে, প্রকল্পটি এর ব্যয় এবং পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে সমালোচনায় এনেছে।

প্রসঙ্গত, ‘ইস্তান্বুল খাল’ প্রথম আলোচনায় আসে উসমানীয় সাম্রাজ্যের সুলতান সুলায়মানের সময়। তার পর ১৫৬০ থেকে ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত প্রায় দশ বার ইস্তান্বুলে একটি বিকল্প খাল খননের প্রস্তাব করা হয়। সর্বশেষ ২০১১ সালের নির্বাচনে তখনকার প্রধানমন্ত্রী এরদোগান নতুন করে ইস্তান্বুলের বুক চিরে এই কৃত্রিম জলপথ তৈরির বিষয়টি সামনে নিয়ে আসেন। নির্বাচনী ইশতেহারে এই খাল কাটার ঘোষণা দেন। মারমার সাগর এবং কৃষ্ণ সাগরকে যুক্তকারী এই প্রকল্পের নাম দেয়া হয় ‘ক্যানেল ইস্তান্বুল’ বা ‘ইস্তান্বুল খাল’। সুয়েজ খাল এবং পানামা খালের মত বছরের বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার অর্থ উপার্জনের আশা দেখানো হয় এই খালের মাধ্যমে।

কিন্তু এখানে একটি সমস্যা থেকেই যায়। এই খাল যে দুটি সাগরকে যুক্ত করবে সে দুটি সাগর তো ফসফরাস প্রণালীর মাধ্যমে আগে থেকেই প্রাকৃতিকভাবে যুক্ত! ভূমধ্যসাগর থেকে প্রতি বছর হাজার হাজার জাহাজ এই বসফরাস প্রণালী দিয়েই কৃষ্ণ সাগরে যায়। এবং বিনা টোলে, অর্থাৎ কোন টাকা-পয়সা খরচ না করে ফ্রি পার হয় এ প্রণালী। তাহলে এরদোগান কেন ইস্তান্বুল খাল খনন করতে চাচ্ছেন?

এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এখানে প্রশ্নটার উত্তর কয়েকভাবে দেয়া যায়। প্রথম হচ্ছে, এই নতুন খাল খনন হলে এটার উপার্জন শুধুমাত্র যে জাহাজ পারাপারের ওপরই নির্ভরশীল হবে বিষয়টি তেমন না। যেমন বসফরাস প্রণালী দিয়ে পার হওয়া জাহাজ থেকে ঠিকই কোন টাকা আয় করতে পারছে না সরকার; কিন্তু এই প্রণালী তীর ঘেঁষে গড়ে ওঠা যে বিশাল অর্থনৈতিক কর্মকান্ড, পর্যটন এবং এই সংশ্লিষ্ট যে সমস্ত সেক্টর আছে সেগুলো থেকে প্রতিবছর তুরস্কের অর্থনীতিতে যোগ হয় মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার। ঠিক একইভাবে নতুন খাল খনন হলে এই খনন প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে এর তীরবর্তী এলাকায় সরকারের যে বিশাল পরিকল্পনা আছে যেমন ট্যুরিজম, নতুন করে আবাসিক পরিকল্পনা এবং এর সঙ্গে রিলেটেড আরো অনেক প্রকল্প, এগুলো থেকে প্রচুর পরিমাণে অর্থ উপার্জন হবে।

আর জাহাজ পরিবহনের ক্ষেত্রে বর্তমানে বসফরাসের জাহাজ পরিবহন তুরস্কের নিয়ন্ত্রণে। অর্থাৎ তুরস্ক নির্ধারণ করে বসফরাস দিয়ে প্রতিদিন কতটি জাহাজ যাবে কোন সময় জাহাজ যেতে পারবে, কোন সময় পারবে না। এবং বর্তমানে বসফরাস দিয়ে একটা নির্দিষ্ট সাইজের বড় জাহাজ যেতে পারে না। সুতরাং বড় জাহাজ গুলোর বিকল্প পথ দিয়ে যেতে হবে। আর বর্তমানে একটি জাহাজ বসফরাস পার হওয়ার অনুমতি এবং সিরিয়াল পেতে সময় লাগে এক থেকে তিন দিন।

তুরস্ক এই জাহাজ চলাচলের উপর আরেকটু বিধি নিষেধ করে অর্থাৎ আরেকটু কম জাহাজ চলাচল করায়, জাহাজগুলোকে যদি আরেকটু ওয়েট করায় তাহলে দেখা যাবে এই জাহাজগুলোর তিন দিনেরও বেশি অপেক্ষা করা লাগতে পারে। একটি মালবাহী জাহাজ একদিন দেরী করা মানে ওখানে বিশাল পরিমাণ একটা ক্ষতির বিষয়। সুতরাং এ জাহাজগুলো তখন ভিন্ন পথ দিয়ে যেতে বাধ্য হবে এবং তারা স্বাভাবিক ভাবে বিকল্প রুট ব্যবহার করবে টাকা দিয়ে হলেও। সূত্র : মিডল ইস্ট মনিটর, রয়টার্স, আনাদোলু এজেন্সি।



 

Show all comments
  • তানিম আশরাফ ১২ এপ্রিল, ২০২১, ৩:০৮ এএম says : 0
    ভালো একটা প্রকল্প। সফল ভাবে শেষ হোক।
    Total Reply(0) Reply
  • রুবি আক্তার ১২ এপ্রিল, ২০২১, ৩:০৯ এএম says : 0
    আলহামদুলিল্লাহ, তুরস্ক সব দিক থেকে এগিয়ে যাচ্ছে।
    Total Reply(0) Reply
  • তোফাজ্জল হোসেন ১২ এপ্রিল, ২০২১, ৩:০৯ এএম says : 0
    আমাদেরও এই ধরনের খাল খনন প্রকল্প হাতে নেয়া জরুরি।
    Total Reply(0) Reply
  • বদরুল সজিব ১২ এপ্রিল, ২০২১, ৩:১০ এএম says : 0
    প্রেসিডেন্ট এরদোগানের নেতৃত্বে আজকের তুরস্ক সবদিক থেকে অগ্রসর হচ্ছে, প্রিয় এই নেতার জন্য শুভ কামনা।
    Total Reply(0) Reply
  • মেঘদূত পারভেজ ১২ এপ্রিল, ২০২১, ৩:১১ এএম says : 0
    পরিবেশ রক্ষায় খাল খননের অনেক গুরুত্ব রয়েছে। আমাদেরও উচিত এই ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়ন করা।
    Total Reply(0) Reply
  • সাইফ ১২ এপ্রিল, ২০২১, ৮:৩৪ এএম says : 0
    আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহ আপনাদেরকে সাহায্য করুক। দোয়াকরি আল্লাহ যেন আপনাদেরকে আবার উসমানিয় সাম্রাজ্য ফিরিয়ে দেয়।
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: তুরস্ক


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ