Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৮ মে ২০২১, ০৪ জৈষ্ঠ্য ১৪২৮, ০৫ শাওয়াল ১৪৪২ হিজরী

লকডাউনের নামে বিরোধীদল দমনে ক্র্যাকডাউনে নেমেছে সরকার: মির্জা ফখরুল

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৫ এপ্রিল, ২০২১, ৩:৫৮ পিএম

লকডাউনের নামে সরকার বিরোধীদল দমনে ক্র্যাকডাউনে নেমেছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, লকডাউনকে কেন্দ্র করে তারা (সরকার) ক্র্যাকডাউনে নেমে সমস্ত বিরোধীদলের নেতাকর্মী, আমাদের দলের নেতাকর্মী, অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী, অন্যান্য সংগঠনের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করছে, হয়রানি করছে, মিথ্যা মামলা দিচ্ছে। বিরোধীদলের বাড়িতে হামলা করছে। সারাদেশে দলের নেতাকর্মীরা কেউ বাড়িতে থাকতে পারছে না। মির্জা ফখরুল সরকারের প্রতি আহবান জানিয়ে বলেন, অবিলম্বে আমাদের নেতাকর্মীদের মুক্তি দিন এবং তাদের বিরুদ্ধে যে মিথ্যা মামলা দেয়া হয়েছে তা প্রত্যাহার করুন। দেশে একটা গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টি করুন, গণতান্ত্রিক স্পেস তৈরি করুন। অন্যথায় এর খেসারত আপনাদেরকে অবশ্যই দিতে হবে। জনগণের কাছে তার দায়-দায়িত্ব আপনাদেরকে বহন করতে হবে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব এসব কথা বলেন।

২৬ মার্চে স্বাধীনতা সূবর্ণ জয়ন্তী দিন থেকে নানা ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার, যারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়, তারা রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করছে, বিশেষ করে পুলিশ বাহিনীকে ব্যবহার ঢাকা, চট্টগ্রাম, ব্রহ্মণবাড়ীয়াসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় অসংখ্য মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাদের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করতে শুরু করেছে। বিভিন্ন সংগঠনের বিরুদ্ধে হয়রানি অভিযান, রাতে গ্রেপ্তার অভিযান তারা চালিয়ে যাচ্ছে। এখন পর্যন্ত আমরা যে হিসাব পেয়েছি তাতে বিএনপির ১৮১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, পাবনায় একজন গ্রেপ্তার হওয়ার পরে তার মৃত্যু হয়েছে। আমাদের ছাত্রদলের গ্রেপ্তার হয়েছেন ৮১ জন, যুবদলের ৩০ জন, স্বেচ্ছাসেবক দলের ১১ জন। আগে গ্রেপ্তার হওয়া ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি রফিকুল আলম মজনু গতকাল জামিনে মুক্ত হলেও জেলগেট থেকে গ্রেপ্তার করে আবার পুলিশ নতুন করে মামলা দিয়েছে, দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরীকেও একভাবে নতুন করে আরেকটি মামলায় জড়িত করে চারদিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, যে অবস্থাটা তৈরি হয়েছে এটাকে হালকা করে দেখার অবকাশ নেই। আমরা যেটা দেখছি যে, আওয়ামী লীগের যেহেতু গণভিত্তি নেই এজন্য অত্যাচার-নির্যাতন-গ্রেপ্তার-হত্যার মধ্য দিয়েই ক্ষমতায় টিকে থাকতে হবে। সেই কারণে এই পবিত্র রমজান মাসেও তারা এই ধরনের হীন কাজের সঙ্গে লিপ্ত হয়েছে। তাদের চক্রান্ত-ষড়যন্ত্রটা হচ্ছে- তারা যে করেই হোক গ্রেপ্তার-হত্যা-গুম-নির্যাতনের মধ্য দিয়ে বিরোধীদলের সংবিধান সম্মত অধিকার, মত প্রকাশ করার, কথা বলার, লেখার স্বাধীনতা দমন করে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা তারা স্বপ্ন দেখেছিলো অতীতে সেটাকে তারা বাস্তবায়িত করতে চায়- সেই লক্ষ্যে তারা কাজ করে যাচ্ছে।

সরকার হেফাজত ইসলামকে নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়ে কি বিএনপির ওপর নির্যাতন বাড়াচ্ছে কিনা জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে একটা কর্তৃত্ববাদী এক দলীয় সরকারকে পুরোপুরিভাবে প্রতিষ্ঠা করা। সেই লক্ষ্যে তারা শুধু বিএনপি নয়, শুধু বাম জোট নয় বা অন্যান্য দলগুলো নয় বা ইসলামী দলগুলো নয় বা হেফাজত নয়। সকলের উপরে নিপীড়ন-নির্যাতন চালাচ্ছেন যাতে করে কোনো বিরোধী কন্ঠ উচ্চারিত না হয়, ভিন্ন মত না আসে এটাই হচ্ছে তাদের প্রধান লক্ষ্য। পুরোপুরিভাবে একটা কর্তৃত্ববাদী, একদলীয় রাষ্ট্র ব্যবস্থা তৈরি করা এটাই হচ্ছে এই সরকারের লক্ষ্য।

তিনি বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে জনগণ যে স্বপ্ন নিয়ে, আশা-আকাক্সক্ষা নিয়ে এদেশে যুদ্ধ করেছিলেন শহীদ প্রেসিডেন্টে জিয়াউর রহমানের ঘোষণার মধ্য দিয়ে, সেই জাতি সেই দেশের জনগণ কখনোই এই ধরনের কর্তৃত্বাবাদী, একনায়কতন্ত্র, একদলীয় শাসনব্যবস্থা মেনে নেবে না। অবশ্যই দেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই কর্তৃত্ববাদী নির্যাতনকারী সরকার তাকে সরাতে বাধ্য করবে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: মির্জা ফখরুল


আরও
আরও পড়ুন