Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার, ১৬ মে ২০২১, ০২ জৈষ্ঠ্য ১৪২৮, ০৩ শাওয়াল ১৪৪২ হিজরী
শিরোনাম

তাকওয়া অর্জনের মাস মাহে রমজান

রাশেদ নাইব | প্রকাশের সময় : ১৬ এপ্রিল, ২০২১, ১২:০৭ এএম

মাহে রমজান হলো তাকওয়া অর্জনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাস। আর তাকওয়া হলো হিদায়াত লাভের পূর্ব শর্ত। মাহে রমজানের রোজা রাখার মাধ্যমে তাকওয়া অর্জন করার জন্য সুবর্ণ সুযোগ।

তাকওয়া এবং আল্লাহভীতি অর্জন সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে বলেন : হে মোমিনগণ! তোমাদের জন্য রোজা ফরজ করা হলো, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্বে যারা ছিল তাদের প্রতিও,যাতে করে তোমরা পরহেজগার হতে পারো। (সূরা-২ বাকারা, আয়াত: ১৮৩)।

হিদায়াতের বাণীসংবলিত কোরআন মাজিদ এই রমজান মাসেই নাজিল হয়েছে। আল্লাহর ঘোষণা: রমজান মাস! যে মাসে কোরআন নাজিল হয়েছে মানবের দিশারিরূপে ও হিদায়াতের সুস্পষ্ট নিদর্শন হিসেবে। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যারা এ মাস পাবে, তারা যেন তাতে রোজা পালন করে। আর যারা পীড়িত থাকবে বা ভ্রমণে থাকবে, তারা অন্য সময়ে তা এর সমপরিমাণ সংখ্যায় পূর্ণ করবে। আল্লাহ তোমাদের জন্য সহজ করতে চান, তিনি তোমাদের প্রতি কঠিন করতে চান না। যাতে তোমরা আল্লাহর মাহাত্ম্য ঘোষণা করো যে তিনি তোমাদের হিদায়াত দিয়েছেন সে জন্য এবং যাতে তোমরা কৃতজ্ঞ হও। ( সুরা-২ বাকারা, আয়াত: ১৮৫)।

তাজকিয়ার মাস রমজান : কোরআন নাজিলের উদ্দেশ্য হলো মানবের আত্মশুদ্ধির ব্যবস্থা করা। হজরত ইব্রাহিম (আ.) দোয়া করেছিলেন এই বলে: হে আমাদের পরওয়ারদেগার! তাদের মধ্য থেকেই তাদের কাছে একজন পয়গম্বর পাঠান, যিনি তাদের কাছে তোমার আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করবেন, তাদের কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেবেন এবং তাদের পবিত্র করবেন। নিশ্চয় আপনিই পরাক্রমশালী হিকমতওয়ালা। (সুরা-২ বাকারা, আয়াত: ১২৯)।

এর উত্তরে মহান প্রভু জানান: আল্লাহ ইমানদারদের ওপর অনুগ্রহ করেছেন যে তাদের মাঝে তাদের নিজেদের মধ্য থেকে নবী পাঠিয়েছেন। তিনি তাদের জন্য তাঁর আয়াতসমূহ পাঠ করেন, তাদের পরিশোধন করেন এবং তাদের কিতাব ও কাজের কথার শিক্ষা দেন। (সুরা-৩ আল ইমরান, আয়াত: ১৬৪)। মহান আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: তিনিই নিরক্ষরদের মধ্য থেকে একজন রাসুল প্রেরণ করেছেন, যিনি তাদের কাছে পাঠ করেন তাঁর আয়াতসমূহ, তাদের পবিত্র করেন এবং শিক্ষা দেন কিতাব ও হিকমত। (সুরা-৬২ জুমুআ, আয়াত: ২)
যেমন আমি পাঠিয়েছি তোমাদেরই মধ্য থেকে তোমাদের জন্য একজন রাসুল, যিনি তোমাদের কাছে আমার বাণীসমূহ পাঠ করবেন এবং তোমাদের পবিত্র করবেন, আর তোমাদের শিক্ষা দেবেন কিতাব ও তাঁর তত্ত্বজ্ঞান এবং শিক্ষা দেবেন এমন বিষয় যা কখনো তোমরা জানতে না।
(সুরা-২ বাকারা, আয়াত: ১৫১)। প্রায় সব আসমানি কিতাবই রমজান মাসে নাজিল করা হয়েছে। কারণ রমজান হলো তাজকিয়া বা আত্মশুদ্ধির জন্য অনুক‚ল ও সহায়ক। আর ওহি ও কিতাব নাজিলের উদ্দেশ্যও হলো তাই।

ইহসানের মাস রমজান : হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, একদা রাসূল (সা.) জনসমক্ষে বসা ছিলেন, এমন সময় তাঁর কাছে এক ব্যক্তি এসে জিজ্ঞেস করলেন, ইমান কী? নবী (সা.) বললেন, ইমান হলো আপনি বিশ্বাস করবেন আল্লাহর প্রতি, তাঁর ফেরেশতাগণের প্রতি, কিয়ামতের দিবসে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাতের প্রতি এবং তাঁর রাসুলের প্রতি। আপনি আরও বিশ্বাস রাখবেন মৃত্যুর পর পুনরুত্থানের প্রতি।
আগন্তুক জিজ্ঞেস করলেন, ‘ইসলাম কী? তিনি বলেন, ইসলাম হলো আপনি আল্লাহর ইবাদত করবেন এবং তাঁর সঙ্গে কাউকে শরিক করবেন না, সালাত কায়েম করবেন, জাকাত আদায় করবেন এবং রমজান মাসে রোজা পালন করবেন। ওই ব্যক্তি জিজ্ঞেস করলেন, ইহসান কী? তিনি বললেন, আপনি এমনভাবে আল্লাহর ইবাদত করবেন যেন আপনি তাঁকে দেখছেন, আর যদি আপনি তাঁকে নাও দেখতে পান, তবে নিশ্চয় তিনি আপনাকে দেখছেন। (বুখারি, হাদিস: ৪৮)

রমজানের মাসআলা: রোজা ফরজ হওয়ার বয়স ও শর্ত : রোজা ও নামাজ ফরজ হওয়ার জন্য বয়স মুখ্য নয়, কেউ সাবালকত্ব অর্জন করলেই তার জন্য রোজা ও নামাজ ফরজ হয়ে যায়। বিজ্ঞজনদের মতে, বাংলাদেশের আবহাওয়া ও পারিপার্শ্বিকতায় এটি সাধারণত ছেলেদের ক্ষেত্রে তেরো থেকে পনেরো বছর এবং মেয়েদের ক্ষেত্রে এগারো থেকে তেরো বছরে হয়ে থাকে। এ সময় ছেলেমেয়েদের শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন ঘটে, কণ্ঠস্বর পরিবর্তন হয়, আচরণে পার্থক্য তৈরি হয়, নারী বা পুরুষ সত্তার স্বাতন্ত্র্য সৃষ্টি হয়। এ সময় থেকে রোজা পালন ও নামাজ আদায় করা বাধ্যতামূলক ফরজ হয়। না রাখলে কাজা আদায় করতে হয়, ভাঙলে কাফফারা দিতে হয়। এ সময় থেকে এদের সওয়াব ও গুনাহ লেখা শুরু হয়। অবহেলা করে রোজা না রাখা অনেক বড় গুনাহ। পিতা, মাতা বা অভিভাবক যদি এদের রোজা রাখতে নিরুৎসাহিত করেন বা তাগিদ না দেন তাহলে তাঁরাও গুনাহগার হবেন। তবে কেউ অসুস্থ বা অক্ষম হলে তার জন্য কাজা বা ফিদইয়ার বিধান রয়েছে। (কামুসুল ফিকহ)
আমরা তাকওয়া অর্জনের উপায় সম্পর্কে একটু জেনে নিবো। তাকওয়া বা আল্লাহভীতি অর্জনের প্রধান উপায় হলো আত্মশুদ্ধি। আত্মশুদ্ধি হলো অন্তর সংশোধন, খাঁটি করা, পাপমুক্ত করা, কলুষমুক্ত করা। আল্লাহতায়ালার স্মরণ, আনুগত্য ও ইবাদত ব্যতীত অন্যসব অন্যায় কাজ থেকে অন্তর পবিত্র রাখাকে আত্মশুদ্ধি বলা যায়। মানুষের আত্মিক প্রশান্তি, উন্নতি ও বিকাশ সাধনের জন্যও আত্মশুদ্ধির প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। আত্মশুদ্ধি মানুষকে বিকশিত করে। মহান আল্লাহতায়ালা পবিত্র কোরআনে উল্লেখ করেন, ‘নিশ্চয়ই যে ব্যক্তি আত্মাকে পুতপবিত্র রাখল সেই সফলকাম হবে, আর সে ব্যক্তিই ব্যর্থ হবে, যে নিজেকে কলুষিত করবে। (সূরা শামস : ৯-১০)।

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: মাহে রমজান


আরও
আরও পড়ুন