Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার, ১৪ জুন ২০২১, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮, ০২ যিলক্বদ ১৪৪২ হিজরী

মাগুরায় কর্মহীন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিদের তালিকায় একই পরিবারের ১৫ জন!

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ১৫ এপ্রিল, ২০২১, ৭:১০ পিএম

করোনায় কর্মহীন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিদের জন্যে প্রণোদনার অর্থ বিতরণে মাগুরায় নানা অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। মাথাপিছু ১০ হাজার টাকা করে বরাদ্দ পাওয়া ৪৩৮ জনের তালিকায় মৃত ব্যক্তিসহ একই পরিবারের ৬ থেকে ১৫ সদস্যের নাম স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে দেওয়া হয়েছে। ফলে বাদ পড়েছেন করোনায় কর্মহীন প্রকৃত শিল্পী কলাকুশলীদের অনেকেই।

তালিকায় ৩৫৫ নম্বর ক্রমিকে থাকা সুধা রানী চক্রবর্তী গত ১২ মার্চ মারা গেছেন। অথচ তার নামের চেকে টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। তালিকায় ২৩৮, ২৭২, ২৭৪, ২২৯, ২৫৫, ২৫৬, ২৫৭, ২৬৪, ২৬৫, ২৬৬,২৬৭,২৬৮,২৭০.২৭১.২৩৮ নম্বর ক্রমিকে থাকা ব্যক্তিরা জেলা শিল্পকলার সহ-সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ চক্রবর্তীর নিকটাত্মীয় বলে জানা গেছে। তারা হচ্ছেন জেলার শালিখা উপজেলার তালখড়ি গ্রামের আনন্দ চক্রবর্তী। তার আপন ছোট বোন বীথি চক্রবর্তী। ৫ বছর ধরে সপরিবারে ভারতে রয়েছেন তারা। অন্যরা হচ্ছেন বিশ্বজিৎ চক্রবর্তীর নিকটাত্মীয় পবিত্র কুমার চক্রবর্তী, ইন্দ্রজিৎ চক্রবর্তী, বরুন চক্রবর্তী, ইতি চক্রবর্তী, প্রনয় চক্রবর্তী, প্রিয়াংকা চক্রবর্তী, গোপাল চক্রবর্তী, বন্দনা চক্রবর্তী, প্রদীপ চক্রবর্তী, কার্তীক চক্রবর্তী, সুদীপ্ত চক্রবর্তী, দুলাল ভট্টাচার্য ও ছবি রানী ভট্টাচার্য। তারা কেউই করোনায় কর্মহীন শিল্পী নন।

একইভাবে শিল্পকলা একাডেমীর সংগীত শিক্ষক অজিত রায়ের পরিবারের ৬ জন নারীর নাম দিয়ে টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। তারা হচ্ছেন সন্ধ্যা রানী ঘোষ, প্রিয়া ঘোষ, রিয়া ঘোষ, ডলি ঘোষ, আপন ঘোষ ও লিলি ঘোষ। শহরের কেশব মোড়ের বাসিন্দা বর্তমানে স্বামীর কর্মস্থল ঢাকায় অবস্থানরত স্নিগ্ধা পাল ও তার মায়ের নামে ১০ হাজার করে টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। স্নিগ্ধা পালের স্বামী একজন কাস্টমস কর্মকর্তা। মাগুরা শহরে তার ২টি ফ্ল্যাট, একটি বাড়ি ও একটি বিশাল বাগান বাড়ি রয়েছে। অথচ স্বজনপ্রীতি করে তাকে ও তার মা জোসনা পালকে ১০ হাজার করে মোট ২০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে।

শিল্পকলা একাডেমীর সাধারণ সম্পাদকের অসুস্থতার সুযোগে অফিসে না আসায় সহ-সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী, অজিত রায় এবং জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের একটি অসাধুচক্র একত্রে বসে বিভিন্ন ব্যক্তির নাম ও আইডি নম্বর সংগ্রহ করে নিজ মনগড়া একটি তালিকা চূড়ান্ত করে। তালিকা যাচাই করতে গিয়ে দেখা গেছে, ২২ নম্বর ক্রমিকে অচলা মণ্ডল নামে এক নারীর নাম তালিকায় থাকলেও সেখানে দেওয়া ফোন নম্বরে ফোন দিয়ে ওই নারীর স্থলে সাতক্ষীরা থেকে আব্দুর রহমান নামে এক ব্যক্তি ফোন ধরেন। মাগুরার চিত্রশিল্পী শামসুজ্জামান পান্না, রানী হায়দার, শংকর বিশ্বাসসহ একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেছেন, শিল্পকলার এই প্রণোদনার তালিকায় থাকা নামগুলোর মধ্যে ৭০ ভাগই তালিকা প্রস্তুতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত পছন্দের। এমনকি মুক্তিযুদ্ধ ও সরকারবিরোধী অনেকের নাম এই তালিকায় আছে। যারা কেউ সাংস্কৃতিক ব্যক্তি নন। বিভিন্ন সংগঠনের সদস্য পরিচয়ে তারা এই টাকা পেয়েছে।

অভিযোগ প্রসঙ্গে জেলা শিল্পকলা একাডেমীর সহ-সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিত চক্রবর্তী জানান, আমার পরিবারের সদস্যরা যদি প্রণোদনা পাওয়ার উপযোগী হন, তাহলে তারা টাকা পেতেই পারেন। আমি কোনো স্বজনপ্রীতি বা দুর্নীতি করিনি। এ প্রসঙ্গে জেলা শিল্পকলা একাডেমীর কালচারাল অফিসার মো. জসিম উদ্দিন জানান, শিল্পকলা একাডেমী থেকে নামের তালিকা চেয়ে পাঠানোর পর দ্রুত তালিকা পাঠানো হয়েছে। ফলে কিছুটা অসামঞ্জস্য থাকতেই পারে। তালিকার সবাইকে টাকা দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। তবে একটি তালিকায় একই পরিবারের ১৫ জনের নাম থাকাটা দুর্ভাগ্যজনক বলেন তিনি।

এ ব্যাপারে জেলা শিল্পকলা একাডেমীর জ্যৈষ্ঠ সহ-সভাপতি শামীম আহমেদ খান বলেন, ‘এরকম একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রণোদনার বিপুল পরিমাণ টাকা বন্টনের ক্ষেত্রে ব্যাপক সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত ছিল। জেলা প্রশাসক ড. আশরাফুল আলম জানান, কয়েকজন শিল্প সংস্কৃতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তির মাধ্যমে আমরা চেষ্টা করেছি সর্বোচ্চ সতর্কতার সাথে তালিকা প্রস্তুত করতে। এখানে কোনো অনিয়ম-দুর্নীতি হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: মাগুরা


আরও
আরও পড়ুন