Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার, ১৪ মে ২০২১, ৩১ বৈশাখ ১৪২৮, ০১ শাওয়াল ১৪৪২ হিজরী

চীনের সিনোফার্ম বাংলাদেশকে ৬০ লাখ ডোজ টিকা দিতে চায়

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৭ এপ্রিল, ২০২১, ৪:২৫ পিএম

চীনের ওষুধ-প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান সিনোফার্ম বাংলাদেশকে করোনাভাইরাসের ৬০ লাখ ডোজ টিকা দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ও মৃত্যু ঊর্ধ্বমুখী, এমন সময়ে সিনোফার্ম এই প্রস্তাব দিয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তারা বলেন, ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউট ছয় ধাপে তিন কোটি ডোজ টিকা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, কিন্তু তা রক্ষা করতে পারেনি দেশটি। ভারতের সিরাম টিকা দিতে না পারায় করোনা প্রতিরোধে টিকাদান কার্যক্রম চলমান রাখতে টিকার বিকল্প উৎস খুঁজতে শুরু করেছে সরকার। কর্মকর্তারা বলেন, সেই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে কয়েকদিন আগে বাংলাদেশকে ৬০ লাখ ডোজ টিকা দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছে চীনের সিনোফার্ম। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, চীনের সিনোফার্ম একটি বিশ্বাসযোগ্য সূত্রের মাধ্যমে বাংলাদেশকে করোনার ৬০ লাখ ডোজ বিবিআইবিপি-কোরভি ভ্যাকসিন দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা এই বিষয়টির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছি। সমঝোতা চলছে। টিকার মূল্য, কখন দিতে পারবে এবং কতগুলো দিতে পারবেÑএই বিষয়গুলো আমরা জানতে চেয়েছি। সিনোফার্ম এই তথ্যগুলো দিলেই আমরা চীনের টিকা কেনার দিকে অগ্রসর হতে পারব বলে উল্লেখ করেন তিনি।

২০২০ সালের শুরুতে চীনের বেইজিং ইনস্টিটিউট অব বায়োলজিক্যাল প্রোডাক্টস বিবিআইবিপি- কোরভি নামে করোনাভাইরাসের ইনঅ্যাকটিভেটেড টিকা তৈরি করে। চীন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, মিসর, পাকিস্তানসহ বিশ্বের আরও কয়েকটি দেশ এই টিকাটি ব্যবহার করছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এখনো টিকাটির অনুমোদন দেয়নি। তবে, ডব্লিউএইচওর উপদেষ্টা প্যানেল বলেছে, সিনোফার্ম তাদের টিকার কার্যকারিতার মাত্রার ওপর তথ্য উপস্থাপন করেছে।

গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর সিনোফার্ম জানায়, তাদের টিকার কার্যকারিতা ৭৯ দশমিক ৩৪ শতাংশ। এরপরই চীন সরকার টিকাটি ব্যবহারের অনুমোদন দেয়। ডিসেম্বরেরই শুরুর দিকে সিনোফার্ম টিকা ব্যবহারের অনুমোদন দেয় আরব আমিরাত। তৃতীয় ধাপের ট্রায়ালের অন্তবরর্তীকালীন ফলের বরাত দিয়ে তারা জানিয়েছে, টিকাটির কার্যকারিতা ৮৬ শতাংশ।

এ ছাড়াও, বাংলাদেশ সরকার রাশিয়ার স্পুতনিক-ভি টিকার জন্য যোগাযোগ করছে। নিজ দেশের ভেতরে ব্যবহারের জন্য ২০২০ সালের আগস্টে স্পুটনিক-ভি টিকার অনুমোদন দেয় রাশিয়া। রাশিয়ার টিকার আপডেট জানতে চাইলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত রাশিয়ার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এই বিষয়ে কথা বলেছেন। আলোচনা চলমান রয়েছে।

স্থানীয় ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি বেক্সিমকোর মাধ্যমে ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটের কাছ থেকে তিন কোটি ডোজ টিকা কেনার জন্য চুক্তি করেছে বাংলাদেশ সরকার। চুক্তি অনুযায়ী, প্রতি মাসে ৫০ লাখ ডোজ টিকা পাওয়ার কথা। কিন্তু, এ পর্যন্ত সরকার দুই দফায় মাত্র ৭০ লাখ ডোজ পিকা পেয়েছে।

ইতোমধ্যে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে, নিজেদের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানোর জন্য সিরাম ইনস্টিটিউটের তৈরি অ্যাস্ট্রাজেনেকা টিকা রফতানির ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ভারত। বেক্সিমকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নাজমুল হাসান পাপন বলেন, সিরাম আমাদেরকে জানিয়েছে যে, তারা (টিকা) রফতানি করতে প্রস্তুত। কিন্তু, এজন্য ভারত সরকারের কাছ থেকে ছাড়পত্র প্রয়োজন। সিরাম এখনো সে ছাড়পত্রটি পায়নি।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক প্রফেসর ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম বলেন, চলমান টিকাদান কর্মসূচি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্যে আমরা একই ধরনের অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা পাওয়ার জন্যে আপ্রাণ চেষ্টা করছি।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: করোনা


আরও
আরও পড়ুন