Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার, ০৭ মে ২০২১, ২৪ বৈশাখ ১৪২৮, ২৪ রমজান ১৪৪২ হিজরী
শিরোনাম

যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া পাল্টাপাল্টি

পুতিনের সাথে দ্বিপক্ষীয় সাক্ষাতের প্রস্তাব বাইডেনের

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ১৮ এপ্রিল, ২০২১, ১২:০২ এএম

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন তার রুশ প্রতিপক্ষ ভ্লাদিমির পুতিনের সাথে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন। রাশিয়ার ওপর নতুন করে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্তে দু’দেশের মধ্যে যখন উত্তেজনা বেড়ে গেছে তখন এ প্রস্তাব দিলেন বাইডেন। রাশিয়ার বার্তা সংস্থা ‘তাস’ জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট বাইডেন শুক্রবার হোয়াইট হাউজে বলেছেন, তিনি ভ্লাদিমির পুতিনকে ২০২১ সালের গ্রীষ্মে ইউরোপে দ্বিপক্ষীয় সাক্ষাতে মিলিত হওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন। সাক্ষাতে তিনি আমেরিকা ও রাশিয়ার মধ্যকার বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে কথা বলতে চান। হোয়াইট হাউজের সংবাদ সম্মেলনে বাইডেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের নাম ভুল করে ‘ক্লুতিন’ বলে উল্লেখ করে যা উপস্থিত সাংবাদিকদের মধ্যে বেশ হাস্যরস সৃষ্টি করে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট এমন সময় পুতিনকে সাক্ষাতের প্রস্তাব দিলেন যখন মস্কোর হুঁশিয়ারি সত্তে¡ও ওয়াশিংটন নতুন করে রাশিয়ার ৩২ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হস্তক্ষেপ ও দেশটিতে সাইবার হামলা চালানোর অভিযোগে এ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া পাল্টাপাল্টি ব্যবস্থা নিয়েছে। এবার কূটনীতিক বহিষ্কার নিয়ে এক দেশ আরেক দেশের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিচ্ছে। প্রথমে রাশিয়ার ১০ জন কূটনীতিককে ত্রুটিপূর্ণ কর্যকলাপের জন্য বহিষ্কার করে ওয়াশিংটন। তার প্রতিশোধ নিতে রাশিয়াও শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের ১০ জন কূটনীতিককে দেশ ছেড়ে চলে যেতে বলেছে। এ খবর দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, এর একদিন আগে মস্কোর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে মার্কিন সরকার। তার জবাবে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সরকার যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে এ নির্দেশ দিয়েছে। যদিও দ্রুততার সঙ্গে মস্কো এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে, এতে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে, কূটনৈতিক সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তবু আলোচনার দরজা উন্মুক্ত থাকবে। পুতিন-বাইডেন সামিটে আলোচনার প্রস্তাব রয়েছে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের। রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, এখনই সময় যুক্তরাষ্ট্রের শুভবুদ্ধি উদয়ের। একই সঙ্গে সংঘাতময় অবস্থা থেকে তাদের ফিরে আসা উচিত। এর অন্যথা হলে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বেদনাদায়ক সিদ্ধান্ত নেয়া হবে এবং তা বাস্তবায়ন করা হবে। এতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এমন অপশন রয়েছে তাদের কাছে। একই সঙ্গে রাশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের কোরে কূটনীতিকের সংখ্যা কমিয়ে মাত্র ৩০০ তে নামিয়ে আনা হবে। উল্লেখ্য, শীতল যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে সম্পর্ক মারাত্মক খারাপ পর্যায়ে পৌঁছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনকে কিলার বা খুনি বলে আখ্যায়িত করেন। এর জবাবে ওয়াশিংটনে নিযুক্ত রাষ্ট্রদ‚তকে পরামর্শের জন্য তলব করে মস্কো। এক মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও ওই রাষ্ট্রদ‚ত যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যাননি। রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, রাশিয়ায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত জন সুলিভানেরও উচিত দেশে ফিরে গিয়ে পরামর্শ করা। ওয়াশিংটন বলছে, গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ, সাইবার হামলা, ইউক্রেনে সেনা মোতায়েন এবং অন্যান্য ত্রুটিপূর্ণ কর্মকান্ডের কারণে রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে রাশিয়া। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন প্রতিনিধি ইমেইলে বলেছে, শুক্রবার রাশিয়া যে পদক্ষেপ নিয়েছে তা উস্কানিমুলক এবং নিন্দনীয়। রয়টার্স, বিবিসি।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া পাল্টাপাল্টি
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ