Inqilab Logo

ঢাকা, শনিবার, ০৮ মে ২০২১, ২৫ বৈশাখ ১৪২৮, ২৫ রমজান ১৪৪২ হিজরী

গরিবের ঘরে এক মাসের রেশন পৌঁছে দিন

রাষ্ট্রচিন্তা আয়োজিত অনলাইন সংবাদ সম্মেলন

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৯ এপ্রিল, ২০২১, ১২:০০ এএম

করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ের সংক্রমণ ঠেকাতে লকডাউন সফল করতে নিম্ন আয়ের মানুষদের বাড়িতে একমাসের রেশন পৌঁছে দেওয়ার প্রস্তাব করেছেন বিশিষ্টজনেরা। গতকাল রোববার রাষ্ট্রচিন্তা আয়োজিত করোনা পরিস্থিতি ও জনজীবনের সংকট বিষয়ে অনলাইন নাগরিক সংবাদ সম্মেলনে তারা এ প্রস্তাব দেন।

প্রফেসর দিলারা চৌধুরী বলেন, করোনা মোকাবিলায় রেশনের ব্যবস্থা করতে হবে। আর এজন্য যে অর্থ ব্যয় তা হবে, রাষ্ট্রের জন্য বড় কিছু নয়। দিন আনে দিন খায়, তাদের খাবারের ব্যবস্থা না করে লকডাউন বিরাট বিপর্যয় ডেকে আনবে। তিনি বলেন, শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে গেছে। দেড় বছর ছেলেরা ক্লাসে নেই। অনেক কিশোর গ্যাঙ হয়ে গেছে, তাদের কিভাবে ক্লাসে ফেরানো হবে, সেটা নিয়েও এখনই ভাবতে হবে।
জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, লকডাউন সফল করতে হলে নিম্ন আয়ের মানুষদের বাড়িতে রেশন পৌঁছে দিতে হবে। অন্যথায় লকডাউন সফল হবে না। আমার গাড়ি চলতে দেবেন আর গরীবের গাড়ি বন্ধ করে দেবেন, এটা হতে পারে না। গণপরিবহন চালু করেন। তবে অর্ধেকের বেশি লোক নিতে পারবে না। গাড়ি আসবে ১০ মিনিট পরপর। পুলিশ, সেনা বিষয়টি নিশ্চিত করবে। তবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে গাড়ি চললে অসুবিধা হবে না। ডাক্তার ছাড়া সকলের ব্যক্তিগত গাড়ি বন্ধ করে দিতে হবে। করোনা মোকাবিলায় সরকারের সহযোগিতা চেয়ে তিনি বলেন, আমরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে চিকিৎসা দিতে চাই। আমাদের ১০০ ডাক্তার দেন। ডাক্তার বিজনকেও সিঙ্গাপুর থেকে দেশে আনতে হবে। জোর দেন ড. ইউনুসকে লাগানোর জন্য। এছাড়া প্রশিক্ষিত লোকবল তৈরি না করে আইসিইউ বেড বাড়িয়ে কোনো লাভ হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেন, সরকার দায়িত্বহীন এটা জানি। তবে এই মাত্রার দায়িত্বহীন আমাকে অবাক করেছে। করোনা মোকাবিলায় মানুষের কল্যাণে দক্ষতা অর্জনের সদিচ্ছা খুব কম আছে। তবে করোনাকে কাজে লাগিয়ে লুটপাটের দক্ষতা তারা ব্যাপক অর্জন করেছে। চট্টগ্রামের শ্রমিক নিহত হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, বিএনপির আমলে আমরা ফুলবাড়ীর ঘটনায় সরকারের পদত্যাগ চেয়েছি। এখন কেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ চাইতে পারি না। তিনি আরো বলেন, আইনে বলা আছে, পুলিশ ছত্রভঙ্গ করার জন্য গুলি করতে পারবে। সেটা তো ফাঁকা গুলি, হাঁটুর নিচে গুলি করতে পারে। পায়ে গুলি করলে তো মানুষ মারা যায় না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে জবাব দিতে হবে, পুলিশ কেন বিএসএফের মতো ট্রিগার হাতে গুলি করছে।
নূরুল হক নূরু বলেন, করোনা মোকাবিলায় রেশনের ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে প্রাইভেট হাসপাতালের ব্যয় সরকারকে অর্ধেক বহন করার প্রস্তাব দেন তিনি। সৈয়দা রিজওনা হাসান বলেন, অর্থের অভাবে হাসপাতালে চিকিৎসা করতে না পেরে যেন কেউ মারা না যায়, সে ব্যবস্থা করতে হবে। এজন্য সকল বেসরকারি হাসপাতালেও চিকিৎসার ব্যয় সরকারকে নিতে হবে।
জোনায়েদ সাকী করোনা মোকাবিলায় সুনির্দিষ্টভাবে ১০ হাজার কোটি টাকার বরাদ্দের প্রস্তাব করেন। যার অর্ধেক যাবে খাদ্যদ্রব্য কেনায়। আর অর্ধেক দেওয়া হবে নগদ। এ সময় তিনি চট্টগ্রামে শ্রমিক হত্যার ঘটনায় তিনি বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানান।
অন্যান্য বক্তারা আরো বলেন, করোনা আসার কথা মার্চে ঘোষণা দেওয়া হয়। কিন্তু সেটা আরো আগে ফেব্রুয়ারি আসে। এরপর আমরা প্রায় দেড় বছর সময় পেয়েছি। কিন্তু করোনা মোকাবিলা সরকার কোনো দক্ষতা অর্জন করতে পারেনি। হাসপাতাল তৈরি আর যন্ত্রপাতি কেনার নামে কেবল লোটপাট চলছে। রাষ্ট্রচিন্তার সদস্য দিদারুল ভূঁইয়ার সঞ্চালনায় আরো বক্তব্য দেন ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, অধ্যাপক আসিফ নজরুল, নূরুল হক নূরু, প্রফেসর দিলারা চৌধুরী, সৈয়দা অ্যাডভোকেট রিজওনা হাসান, জোনায়েদ সাকী, ভাসানী অনুসারী পরিষদের প্রেসিডিয়াম সদস্য নাঈম জাহাঙ্গীর প্রমুখ।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: করোনাভাইরাস


আরও
আরও পড়ুন