Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৮ মে ২০২১, ০৪ জৈষ্ঠ্য ১৪২৮, ০৫ শাওয়াল ১৪৪২ হিজরী

এক লাখ টন চাল কম উৎপাদনের শঙ্কা

বোরো ক্ষেতে হিট শক

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২০ এপ্রিল, ২০২১, ১২:০২ এএম

দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে বোরো ক্ষেতের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ‘হিট শক’ বা গরম ঝড়ো বাতাসে যে পরিমাণ ধান নষ্ট হয়েছে, তাতে চালের উৎপাদন এক লাখ মেট্রিক টন কমার আশঙ্কা করছে সরকার।
সরকারের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে, কয়েক ঘণ্টার ‘হিট শকে’ তিন লাখ কৃষকের ২১ হাজার হেক্টর জমির ধান নষ্ট হয়েছে। তবে চলতি মৌসুমে নতুন করে ৭৮ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হওয়ায় গতবারের চেয়ে ধান উৎপাদন কমবে না। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রায়ও কোনো প্রভাব পড়বে না বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান।

সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে কৃষিমন্ত্রী মো. আব্দুর রাজ্জাক জানিয়েছেন, গত দুই সপ্তাহ ধরে হাওড় অঞ্চলে বোরোর আগাম ফলন কাটাও শুরু হয়েছে। এবার বোরোতে ২ কোটি ৫ লাখ মেট্রিক টন চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। হিট শকে ক্ষতিগ্রস্ত যেসব কৃষক আসন্ন আউশ রোপণের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন তাদেরকে প্রয়োজনীয় এবং পর্যাপ্ত বীজ ও সার দেওয়ার পাশাপাশি কৃষি ক্ষেত্রে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্তি এবং আগামী বোরো মৌসুমে তাদেরকে বিশেষ প্রণোদনা দেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার। কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আসাদুল্লাহ বলেন, হিট শকে ২১ হাজার হেক্টর জমির সফল নষ্ট হয়েছে। এতে করে এই বোরো মৌসুমে এক লাখ মেট্রিক টন ধান কম উৎপাদন হতে পারে। কৃষকদের দিক থেকে তিন লাখের মত কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এবার সারা দেশে ৭৮ হাজার হেক্টর জমি বেশি আবাদ হয়েছে। আবার হিট শকে ২১ হাজার হেক্টর জমি যখন ক্ষতি হয়েছে সেই হিসেব করলেও গতবারের চেয়ে এবার আবাদী জমি বেশিই রয়েছে। মাঠে ফলনও ভালো হয়েছে। এই ফসলটি উঠার আগে যদি আর কোনো দুর্যোগের কবলে না পড়ে তাহলেও গতবারের চেয়ে এবার ফলন বেশি হবে, ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রায় কোনো ধরনের সমস্যা হবে না। বোরো ধানের ফুল ফোটার সময়ে গত ৪ এপ্রিল ‘হিট শক’ বা গরমের হাওয়ায় পুড়ে ফলনের এই ক্ষয়ক্ষতি হয়। গরম ঝড়ো হাওয়ার কারণে ফুল ফোটার অপেক্ষায় থাকা ধানে চিটা হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোর মধ্যে নেত্রকোনো, কিশোরগঞ্জ, গোপালগঞ্জ, ময়মনসিংহ, নড়াইল এলাকার কৃষকই বেশি। এছাড়া দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও এই গরম ঝড়ো বাতাসে সামান্য ক্ষতি হয়েছে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মেসবাহুল ইসলাম জানান কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নেত্রকোনা, মদন, খালিয়াজুড়ি, কেন্দুয়া, কিশোরগঞ্জের নিকলী, করিমগঞ্জ, সদর এলাকা ঘুরে দেখেছেন। ইতোমধ্যে ধান গবেষণা ইনিস্টিটিউট (ব্রি) ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে তীব্র তাপদাহের এমন পরিস্থিতি ‘হিট শক’ থেকে ধানের ফুল বাঁচাতে জমিতে পানি ধরে রাখা এবং পরবর্তীতে পাতাপোড়া থেকে রক্ষা বিশেষ স্প্রে ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: হিট শক
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ