Inqilab Logo

শুক্রবার, ৩০ জুলাই ২০২১, ১৫ শ্রাবণ ১৪২৮, ১৯ যিলহজ ১৪৪২ হিজরী

দু’মাসেই ফাটল

মুজিববর্ষের উপহার

রুবাইয়া সুলতানা বাণী, ঠাকুরগাঁও থেকে : | প্রকাশের সময় : ২০ এপ্রিল, ২০২১, ১২:০৩ এএম

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে গৃহহীনদেরকে প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে দেয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাড়িতে ফাটল দেখা দিয়েছে। ফলে আতঙ্কে কাটছে এসব বাড়ি ঘরে আশ্রয় নেয়া মানুষগুলোর দিন। স্থানীয়দের অভিযোগ নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে ঘর নির্মাণ করায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগ অস্বীকার করে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ঘরগুলো দ্রুতই মেরামত করা হবে। মাত্র দু’মাস আগে সরকারের আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর বুঝে পান জেলার ভ‚মিহীনরা। পাকা ঘর পেয়ে খুশিতে আত্মহারা হলেও গত শুক্রবার রাতের সামান্য ঝড়ো বাতাসের কবলে পড়ে আশ্রয়ণ প্রকল্পের বেশ কয়েকটি ঘরের দেয়াল ও মেঝে ফেটে যায়। এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে জেলার হরিপুর উপজেলার বজ্রমতলি (শান্তির নীড়) গ্রামে আশ্রয়ণ প্রকল্পের প্রথম দফায় গড়ে ওঠা ১৩৩ টি ঘরের মধ্যে বেশ কয়েকটির। ঘর পাওয়া দরিদ্র মানুষগুলোর চোখে মুখে এখন দুঃশ্চিন্তার ভাজ। আসন্ন কাল বৈশাখী ঝড়বৃষ্টির সামনে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ফাটল ধরা ঘরে থাকা তাদের সুখের স্বপ্ন কেড়ে নিয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের তথ্য মতে, প্রথম দফায় প্রতিটি ঘরের জন্য এক লাখ ৭১ হাজার টাকা ব্যয় ধরে বজ্রমতলি (শান্তির নীড়) গ্রামে ১৩৩টি ঘর নির্মাণ করা হয়। আর এসব ঘর ভ‚মিহীনদের মাঝে বুঝে দেয়া হয় গত ফেব্রুয়ারিতে।

স্থানীয়দের অভিযোগ অনেকটাই তড়িঘড়ি করে ঘরগুলো নির্মাণ ও মানসম্মত উপকরণ ব্যবহার না করার কারণেই সামান্য দুর্যোগে ঘরের এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। আর এসব ফাটল ধরা ঘর বসবাসের অনুপযোগী হওয়ায় ঘর ছেড়ে অন্যত্র বসবাস শুরু করেছেন অনেকে। অন্যদিকে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই হচ্ছে পানিবদ্ধতা। সরকারের ঘর পাওয়া রফিকুল ইসলাম, সাবেরা খাতুন, দুলাল, সেলিমসহ অনেকে জানান, সামান্য বাতাসে বেশ কয়েকটি ঘর ফেটে গেছে একটি কারণে তা হলো ঘর নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। এখন ছেলে মেয়ে নিয়ে এসব ফাটল ধরা ঘরে থাকতে ভয় লাগছে। অনেকে ঘর ছেড়ে বাইরে থাকছে। আমরা ভ‚মিহীন গরিব মানুষ বলেই ঘর পেয়েছিলাম কিন্তু এমন ঘর পেলাম যে ঘরে থাকা এখন ঝুঁকির ব্যাপার হয়ে দাড়িয়েছে। আমরা এ বিষয়ে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। সেই সাথে আমাদেরকে ভাল মানের ঘর তৈরি করে দেয়া হোক। আর যারা ঘর নির্মাণে অনিয়ম করেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি করছি।

ঘরগুলোতে ফাটল দেখা দিয়েছে স্বীকার করে হরিপুর উপজেলা চেয়ারম্যান জিয়াউল হাসান মুকুল জানান, সবকিছুই নির্বাহী অফিসার করেছেন বলে জানিয়ে ঘরগুলো টেকসই না হয় তাহলে তো ব্যর্থতাই বলা যায় বলে স্বীকার করেন তিনি। হরিপুর উপজেলার নির্বাহী অফিসার আব্দুল করিম জানান, প্রথম ধাপের কাজ ছিল বলেই তাড়াহুড়ো করতে হয়েছে। অনিয়মের অভিযোগ এড়িয়ে তিনি দ্রুত ফাটল ধরা ঘরগুলো মেরামত করে বসবাসের উপযোগী করে তোলা হবে বলে জানান।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: মুজিববর্ষের উপহার

২০ এপ্রিল, ২০২১
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ