Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার, ১৪ মে ২০২১, ৩১ বৈশাখ ১৪২৮, ০১ শাওয়াল ১৪৪২ হিজরী

মির্জা আব্বাসের বক্তব্যের ব্যাখ্যা চেয়েছে বিএনপি

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২২ এপ্রিল, ২০২১, ৮:২৬ পিএম

নিখোঁজ নেতা এম ইলিয়াস আলীর ব্যাপারে একটি ভার্চুয়াল আলোচনায় বিস্ফোরক মন্তব্যের জন্য দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে বিএনপি। তিনি ওই আলোচনা সভায় তার বক্তব্যে প্রকৃত পক্ষে কি বোঝাতে চেয়েছেন সে বিষয়ে সুস্পষ্ট দিতে বলা হয়েছে। দলের এক নেতা ওই গুমের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে বলে যে বক্তব্য দিয়েছেন তিনি সে ব্যাপারেই মূলত তার বক্তব্য জানতে চাইবে স্থায়ী কমিটি। শনিবার দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

গত শনিবার দলের ভার্চ্যুয়াল এক অনুষ্ঠানে ইলিায়াস আলীর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা উল্লেখ করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, ‘আমি জানি, আওয়ামী লীগ সরকার ইলিয়াস আলীকে গুম করেনি। তাহলে গুমটা কে করল? এই সরকারের কাছে এটা আমি জানতে চাই।

ইলিয়াস আলী গুম হওয়ার আগের রাতে দলের কার্যালয়ে এক ব্যক্তির সঙ্গে মারাত্মক বাগবিতন্ডা করেন বলে বক্তব্যে বলেন মির্জা আব্বাস। স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বিএনপির মহাসচিবের প্রতিও আহ্বান জানিয়ে বলেন, ইলিয়াস আলীর গুমের পেছনে দলের অভ্যন্তরে লুকায়িত ‘বদমায়েশগুলো’কে চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিন।

মির্জা আব্বাসের ওই বক্তব্যের পর বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে নানা ধরণের জল্পনা-কল্পনা ও ধোঁয়াশা। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে। বিশেষ করে মির্জা আব্বাস নিখোঁজ নেতা এম ইলিয়াস আলীর ‘গুম’ হওয়ার পেছনে দলের কোন নেতাকে দায়ী করছে সে বিষয়টি নিয়েও নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

দলীয় সূত্র জানায়, ওই বক্তব্যের জন্যই বৃহস্পতিবার বিকেলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বক্তব্যের ব্যাখ্যা চেয়ে মির্জা আব্বাসকে চিঠি দেন। তবে তাকে শোকজ করার যে গুজব তা সঠিক নয়।

চিঠিতে মির্জা আব্বাসকে বলা হয়, আপনার বক্তব্য এই জনমতকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। যার পরিপ্রেক্ষিতে দলের নেতা-কর্মীরা আপনার বক্তব্যের ব্যাপারে আপনার কাছে ব্যাখ্যা প্রত্যাশা করছে যে আপনি কী বলতে চেয়েছিলেন।

অবশ্য, ইতোমধ্যে মির্জা আব্বাস বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়েছেন। দলের স্থায়ী কমিটির তিন সিনিয়র সদস্যও বিষয়টি মির্জা আব্বাসের স্বভাবসুলভ বক্তব্যের বহিঃপ্রকাশ। এটি ভিন্নভাবে দেখার সুযোগ নেই। ওই নেতার বক্তব্যে তারেক রহমান আশ্বস্ত হয়েছেন। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে এখনো দলের কিছু নেতার মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে। দলের নেতা-কর্মীদের অধিকাংশ-ই মনে করেন, বিএনপির রাজনীতিতে আব্বাসের এমন বক্তব্যে দেওয়ার ঘটনা নতুন নয়। দলের ত্যাগী নেতা হিসেবে তার ব্যাপারে কারও দ্বিমত নেই। বিএনপির রাজনীতিতে ইলিয়াস আলী তার ঘনিষ্ঠ ছিলেন। তাই ব্যাপারে তিনি সব সময় দুর্বল। তার ঘটনায় তিনি আবেগপ্রবণ হয়ে ওই বক্তব্য দিয়েছেন।

চিঠির বিষয়ে জানতে চাইলে মির্জা আব্বাস বলেন, নানা মাধ্যমেই শুনেছি চিঠির কথা, তবে আমি এখনো কোন চিঠি পায়নি। তাই চিঠির বিষয়ে কিছুই বলার নেই। যদি চিঠি হাতে পাই তখন এ বিষয়ে কথা বলবো।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: মির্জা আব্বাস


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ