Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৯ আশ্বিন ১৪২৫, ১৩ মুহাররাম ১৪৪০ হিজরী‌

মোবাইল ব্যাংকিংয়ে এজেন্ট নীতিমালা জরুরী

প্রকাশের সময় : ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬, ১২:০০ এএম

স্টাফ রিপোর্টার : মোবাইল ব্যাংকিং দেশের অর্থনীতিতে এনে দিয়েছে এক অন্যরকম গতিশীলতা। প্রান্তিক জনগোষ্ঠী এখন নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে এই ব্যবস্থার উপর। খুব সহজে টাকা লেনদেন করার সুবিধা থাকায় দেশজুড়ে মোবাইল ব্যাংকিং এখন এক বিশ্বস্ত নাম। কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে মোট ২৮টি ব্যাংক মোবাইল ব্যাংকিং-এর অনুমোদন নিলেও এখন পর্যন্ত এজেন্ট নীতিমালা তৈরী করেনি কোন ব্যাংকই। এমনকি স্বয়ং কেন্দ্রীয় ব্যাংকও মোবাইল ব্যাংকিং এজেন্ট সম্পর্কিত কোন নীতিমালা তৈরী করেননি। ফলে নিত্যনিয়মিতভাবে আক্রান্ত হচ্ছে এজেন্ট অথবা মোবাইল ব্যাংকিং সংস্থার কর্মীরা।
মোবাইল ব্যাংকিংয়ে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান ২য় আর আমাদের দেশে বিকাশের অবস্থান অদ্বিতীয়। মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে টাকা পাঠাতে ব্র্যাক ব্যাংকের বিকাশ বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। নীতিমালা না থাকায় মুদি কিংবা স্টেশনারী দোকান অথবা ফুটপাতে মোবাইল ফোনের ফ্ল্যাক্সিলোডের ‘টেবিলে’ দিব্বি এজেন্সি খুলে বসা যায়। ফলে রাজধানীসহ সারা দেশের যেখানে-সেখানে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়েছে টাকা আদান প্রদানের এ ব্যবসার ‘দোকান’।
অরক্ষিত এসব দোকানে প্রতিদিন বিপুল অঙ্কের টাকার লেনদের হয় বলে প্রায়ই দুর্বৃত্তদের হামলার মুখে পড়েন মোবাইল ব্যাংকিংকর্মীরা। ঈদ বা অন্য কোনো উৎসবের আগে টাকা লেনদেন বেড়ে গেলে হামলার ঘটনাও বেড়ে যায়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দুর্বৃত্তরা ধরা পড়ে না কিংবা উদ্ধার হয় না লুট হওয়া টাকা।
ঈদুল আজহা উপলক্ষে, এ রকম বেশ কয়টি ঘটনায় হতাহত হয়েছেন কয়েকজন বিকাশকর্মী। এর মধ্যে গত এক মাসে চারটি ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে একজন নিহত ও পাঁচজন আহত হয়েছেন। এ ব্যবসায় জড়িত ব্যক্তিরা বলছেন, বিকাশকর্মী ও এজেন্সির কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা অহরহ ঘটছে। কিন্তু সেগুলো তেমন প্রচারে আসে না। গাজীপুরের টঙ্গীতে গত সোমবার দিন-দুপুরে এক বিকাশকর্মীকে গুলি করে হত্যার পর টাকা ছিনিয়ে নিয়েছে দুর্বৃত্তরা। ওই কর্মীর নাম শেখ আবদুল হামিদ। পুলিশ জানায়, সোমবার বিকাল তিনটার দিকে টঙ্গীর গাজীপুরা এলাকায় মা মাল্টিমিডিয়া নামের একটি দোকানে বসে বিভিন্ন দোকান থেকে সংগৃহীত টাকা গুণছিলেন আবদুল হামিদ। এ সময় আট-দশজন দুর্বৃত্ত মোটরসাইকেলে এসে তাকে গুলি করে। মাথা ও বুকে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন হামিদ। এরপর দুর্বৃত্তরা তার টাকার ব্যাগ নিয়ে চলে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে টঙ্গী সরকারি হাসপাতালে পাঠায়।
টঙ্গী থানার ওসি মো. ফিরোজ তালুকদার বলেন, এ ঘটনায় টঙ্গী থানায় একটি মামলা হয়েছে। এর আগে রবিবার সাভারের আশুলিয়া এলাকায় দুই বিকাশকর্মীকে গুলি করে ১৫ লাখ টাকা ছিনতাই করে দুর্বৃৃত্তরা। আহত দুই বিকাশকর্মী শুভ ও জাহাঙ্গীর আলম ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
শুভর মামা আদিল জানান, শুভ ও জাহাঙ্গীর মোটরসাইকেল করে এজেন্টদের কাছ থেকে টাকা তুলে আশুলিয়ার বিকাশ অফিসে যাওয়ার সময় কয়েকজন দুর্বৃত্ত তাদের গতিরোধ করে। এরপর তাদের দু’জনের পায়ে গুলি করে ১৫ লাখ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে পালায় দুর্বৃত্তরা।
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মহাসিনুল কাদির বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো অভিযোগ করা হয়নি।
গত আগস্ট মাসে ১০ থেকে ২৫ তারিখের মধ্যে ঘটে এ রকম আরও দুটি ঘটনা। ১০ আগস্ট সাভারের আমতলার সোবাহানবাগ এলাকায় মনিরুজ্জামান (৩৮) নামের এক বিকাশকর্মীকে প্রকাশ্যে গুলি করে দুই লাখ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। আহত বিকাশকর্মী মনিরুজ্জামান জানান, তিনি আমতলা এলাকায় ইবাদত ইলেকট্রনিক্সসহ বিভিন্ন দোকান থেকে দুই লাখ টাকা তুলে হেঁটে সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ডের দিকে রওনা দেন। এ সময় পেছন থেকে আসা তিনটি মোটরসাইকেলে ছয়জন তাকে ধরে পেটে ও পায়ে গুলি করে দুই লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয়। এরপর কয়েকটি ফাঁকা গুলি ছুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। পরে মনিরুজ্জামানকে উদ্ধার করে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে স্থানীয় লোকজন।
দ্বিতীয় ঘটনায় ২৫ আগস্ট রাজশাহীর কাপাশিয়া এলাকার বাংলা ট্র্যাক ক্রিকেট একাডেমির সামনে বিকাশের দুইকর্মীকে গুলী করে তিন লাখ টাকা ছিনতাই হয়। এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ দুই বিকাশকর্মী হলেন রবিউল ইসলাম ও মমিনুল ইসলাম। দু’জনই রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। মমিনুল ইসলাম দাবি করেন, তাদের ব্যাগে থাকা ১২ লাখ টাকার মধ্যে তিন লাখ টাকা নিতে পেরেছে ছিনতাইকারীরা।
এভাবে প্রায় প্রতি মাসেই দেশের কোথাও না কোথাও মেবাইল ব্যাংকিং কর্মীদের গুলি করে টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে। তবে এসব ঘটনার প্রায় সব ক্ষেত্রেই থানায় মামলার নজির খুব কম। ফলে পুলিশের কাছে এর কোনো সঠিক পরিসংখ্যান নেই। এদিকে সঠিক নীতিমালা না থাকায় দেশজুড়ে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে তোলা লাখ লাখ এজেন্ট থেকে টাকা সংগ্রহকারী কর্মীদের নিরাপত্তায় কোনো ব্যবস্থা নেই সংশ্লিষ্ট ব্যাংকসমূহ বা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের। দেশের অর্থনীতিতে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের ব্যাপক অবদান থাকলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংক কেনো তাদের নিরাপত্তায় কোন জোরদার পদক্ষেপ বা সঠিক নীতিমালা তৈরী করছে না।
এমন প্রশ্নের জবাবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র শুভঙ্কর সাহা ইনকিলাবকে বলেন, এই বিষয়ে নীতিমালা তৈরীর জন্য কিছু ধরে কাজ চলছে। দ্রুততার সহিত এহা যেন সম্পন্ন হয়, তার জন্য বিষয়টি গভর্নর স্যারের দৃষ্টিগোচর করার চেষ্টা করবো।
এ ব্যাপারে ঢাকা মহানগর পুলিশের জনসংযোগ ও গণমাধ্যম শাখার অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মোহাম্মদ ইউসুফ আলী বলেন, ‘অতিরিক্ত টাকা লেনদেনের ক্ষেত্রে আমরা জনসাধারণকে বলে থাকি পুলিশের সহযোগিতা নেয়ার জন্য। কোনো বিকাশকর্মী পুলিশের সহযোগিতা চাইলে সেই সুবিধা পাবেন।’
গত এক মাসে কজন বিকাশকর্মী ছিনতাইকারীর খপ্পড়ে পড়েছেন সেই পরিসংখ্যান আছে কি না জানতে চাইলে এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, যেসব ঘটনায় থানায় মামলা হয়, সেসব ঘটনার তথ্য পুলিশের কাছে থাকে। কিন্তু অনেক ঘটনা পুলিশকে জানানো হয় না। সে ব্যাপারে কোনো তথ্য পুলিশের কাছে থাকে না। তবে ঈদ আসলে আক্রমণটা একটু বাড়ে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ