Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার, ২০ জুন ২০২১, ০৬ আষাঢ় ১৪২৮, ০৮ যিলক্বদ ১৪৪২ হিজরী

‘প্রাকৃতিক সম্পদ ধ্বংস করে উন্নয়ন টেকসই হবে না’

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২৯ এপ্রিল, ২০২১, ১২:০০ এএম

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মো: শাহাব উদ্দিন বলেছেন, করোনা মহামারি আমাদের শিখিয়েছে আমরা যতই অর্থ-সম্পদে বিত্তশালী হই না কেন, প্রকৃতির বিরুদ্ধে লড়াই করে টিকে থাকা যায় না। জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় মূল উপকরণগুলো আসে প্রকৃতি থেকে। আমরা বুঝতে পেরেছি প্রাকৃতিক সম্পদের ভান্ডারকে ধ্বংস করে কোনো উন্নয়নই টেকসই হবে না।

গতকাল ইয়ুথনেট ফর ক্লাইমেট জাস্টিস এবং পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থা আয়োজিত ‘রোড টু গ্লাসগো : আমাদের পৃথিবীর পুনরুদ্ধার ও জলবায়ু সুরক্ষা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় অনলাইনে যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

মো: শাহাব উদ্দিন বলেছেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ পৃথিবী গড়তে বিশ্ব সম্প্রদায়কে এখনই উদ্যোগী হতে হবে। বাংলাদেশের পরিবেশের দৃশ্যমান উন্নয়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় সরকার নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছে। এটি বিশ্ব দরবারে স্বীকৃতি পেয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণে বর্তমান সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে। বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি রোধে বিশ্ববাসীকে জলবায়ু পরিবর্তন, অভিযোজন ও গ্রিন হাউস নির্গমন কমিয়ে আনতে ব্যক্তিগত ও সামষ্টিকভাবে এগিয়ে আসতে হবে।

পরিবেশ মন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশের সমুদ্র উপক‚লীয় এলাকা এবং উত্তর-প‚র্বাঞ্চলের হাওর এলাকা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সমুদ্র পৃষ্টের উচ্চতা ১ মিটার বেড়ে গেলে আমাদের দেশের ১৭ ভাগ ভূমি পানিতে তলিয়ে যাবে। এতে প্রায় তিন কোটি মানুষ তাদের আবাসন হারাতে পারে।

জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী বলেন, প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের ফিরে আসার পর প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের উদ্যোগ জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি প্রশমনে বিশ্বনেতৃবৃন্দকে একসঙ্গে কাজ করার সুযোগ করে দিয়েছে। আর এই প্ল্যাটফর্মে জো বাইডেন জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর বিশ্ব ফোরামে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর মুখপাত্র প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে তার পাশে রাখতে চেয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে জো বাইডেনের আগ্রহের মূল কারণ ছিল, জলবায়ু পরিবর্তনে বিশ্বব্যাপী যে পরিবর্তিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে তার সঙ্গে খাপ-খাওয়াতে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের কিছু আশাব্যঞ্জক কৌশল আছে।

পরিবেশমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির বিষয়টি নির্দিষ্ট কোনো অঞ্চলে সীমাবদ্ধ থাকে না। গরিব ও স্বল্পোন্নত দেশগুলোর খাপ খাওয়ানোর সক্ষমতা কম বলে সেগুলো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মূলত এই কারণে, বাংলাদেশ প্রথম দেশ হিসেবে ২০০৮ সালে জলবায়ু পরিবর্তন কৌশল ও কর্মপরিকল্পনা (বিসিসিএসএপি) গ্রহণ করে। জলবায়ুর পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশের অর্থনীতির ওপর প্রভাব এবং দেশের উপকূলীয় অঞ্চলগুলোর ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে সরকার জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় নিজস্ব অর্থায়নে ৪০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি ক্লাইমেট ট্রাস্ট তহবিল গঠন করে। নিজস্ব অর্থায়নে গঠিত ক্লাইমেট চেইঞ্জ ট্রাস্ট ফান্ডের মাধ্যমে জলবায়ু অভিযোজনমূলক বিভিন্ন সফল কর্মকান্ডের মাধ্যমে বাংলাদেশ বিশ্বের নজর কেড়েছে।

তিনি উল্লেখ করেন, জলবায়ু মোকাবিলায় প্রতিবছর আমরা প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলার অর্থ ব্যয় করি, যা মোট জিডিপির ২ দশমিক ৫ শতাংশ। শুধু তাই নয় ২০১৫ থেকে ২০৩০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ এই খাতে ব্যয় করবে আরও চার হাজার কোটি ডলার।

আলোচনায় আরও যুক্ত ছিলেন পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) চেয়ারম্যান ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ, নেদারল্যান্ডে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত রিয়াজ হামিদুল্লাহ, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (পরিবেশ অনুবিভাগ) মো: মনিরুজ্জামান, অ্যাকশন এইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির, জেন্ডার ও মানবাধিকার কর্মী শীপা হাফিজা, ক্লাইমেট ফাইন্যান্স অ্যান্ড ক্লাইমেট ইন্ডিউসড মাইগ্রেশন প্রকাশ, ব্রিটিশ কাউন্সিলের আইবিপি ম্যানেজার আবুল বাশার, পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি কাসমির রেজা প্রমুখ।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন