Inqilab Logo

রোববার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১১ আশ্বিন ১৪২৮, ১৮ সফর ১৪৪৩ হিজরী

চমেকে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ

প্রতিবাদে ইন্টার্নিদের কর্মবিরতি

চট্টগ্রাম ব্যুরো | প্রকাশের সময় : ২৯ এপ্রিল, ২০২১, ১২:০০ এএম

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে চিকিৎসকসহ নয়জন আহত হওয়ার ঘটনায় ঘোষণা ছাড়াই কর্মবিরতি শুরু করেছে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। গতকাল বুধবার সকাল থেকে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা কাজে যোগদান থেকে বিরত থাকেন। এতে করোনাকালে হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা মারাত্মক বিঘিœত হয়। কর্তৃপক্ষের সাথে বৈঠকে কোন সমাধান না হওয়ায় কর্মবিরতি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন ইন্টার্নিরা।
মঙ্গলবার রাতে ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ ও ধাওয়া, পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, ইফতার করার জন্য চমেকের সিএমসি ক্যাফেতে অবস্থান নেয় ছাত্রলীগের ২০-৩০ জনের একটি গ্রুপ। তারা নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীনের অনুসারী। ইফতারের একটু আগে শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের অনুসারী হিসেবে পরিচিত ছাত্রলীগের ১০-১৫ জনের আরেকটি গ্রুপ ক্যাফেতে প্রবেশ করে।

তাদের দেখে আগে থেকে অবস্থানকারীরা কট‚ক্তি করলে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে হাতাহাতি, পরে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। এ সময় নওফেল অনুসারী হিসেবে পরিচিত তৌফিকুর রহমান নামে একজনকে মারধর করে নাছির অনুসারীরা। একই সময়ে চমেক ইন্টার্ন ডক্টরস এসোসিয়েশনের আহ্বায়ক নাছির অনুসারী ডা. ওসমান গণির উপর হামলা করে নওফেল অনুসারীরা। ইফতারের পর গোল চত্বর দিয়ে ক্যাম্পাসে আসছিল নাছির অনুসারী সাবেক সভাপতি ডা. ওয়াসিম রানা। একা পেয়ে তার ওপর হামলা করে আহত করে নওফেল অনুসারীরা।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে পাঁচলাইশ থানা পুলিশ। রাতভর ক্যাম্পাস ও ছাত্রাবাসে দুই পক্ষ মুখোমুখি অবস্থানে থাকে। সকাল থেকে কাজে যোগদান থেকে বিরত থাকেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। ইন্টার্ন চিকিৎসদের ডাকা কর্মবিরতি প্রত্যাহারে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক হয়। তবে সেখানে কোনো রকম সমঝোতা হয়নি। তাই দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কাজে যোগ দিবেন না বলে জানিয়েছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা।
চমেক হাসপাতালের পরিচালকের সভাকক্ষে বৈঠকে হাসপাতাল ও চমেক কর্তৃপক্ষ, পুলিশ প্রশাসন এবং দুই পক্ষের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় দুই পক্ষই তাদের উপর হামলার অভিযোগ পাল্টা অভিযোগ করে অভিযুক্তদের গ্রেফতারের দাবি জানান। কিন্তু প্রশাসন দাবি আদায়ের আশ্বাস দিলেও দোষীদের শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত কর্মবিরতি অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়ে দেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা।

বৈঠক শেষ চমেক হাসপাতালে পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হুমায়ুন কবির সাংবাদিকদের বলেন, ইন্টার্ন চিকিৎসকদের দাবি মেনে নেয়ার আশ্বাস দিয়েছি। আশা করছি তারা কাজে যোগদান করবে। করোনা পরিস্থিতিতে হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা অন্য সময়ের চেয়ে কম। তাই ওয়ার্ডে রোগীদের চিকিৎসা দিতে কোনো সমস্যা হচ্ছে না।

চমেক হাসপাতাল ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য সচিব ডা. তাজওয়ার রহমান বলেন, কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক ছিল কিন্তু কোনো সমাধান আসেনি। আমরা কোনো অপরাধীদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে রাজি না। আমাদের দাবি, মঙ্গলবার ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ওপর যারা হামলা চালিয়েছে তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। দাবি মানা না হলে কর্মবিরতি চলমান থাকবে। তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফজলে রাব্বি সুজনের নেতৃত্বে বহিরাগতরা মেডিক্যালে হামলা চালায়। এসময় ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ছাত্রাবাসে আটকে রাখে এবং কাজে যোগ দিতে দেয়া হয়নি। জীবনের নিরাপত্তা না থাকলে আমরা কেন কাজে যোগ দেবো?



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ছাত্রলীগ


আরও
আরও পড়ুন