Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার, ২৩ আগস্ট ২০১৯, ০৮ ভাদ্র ১৪২৬, ২১ যিলহজ ১৪৪০ হিজরী।

ঈদে হাইওয়ে পুলিশের নীরব চাঁদাবাজি

জিম্মি দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার চালকরা

প্রকাশের সময় : ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬, ১২:০০ এএম

মাদারীপুর থেকে আবুল হাসান সোহেল : ঈদে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘেœ করতে সরকার পুরোদমে চেষ্টা করে গেলেও ঠিক তার উল্টো চিত্র দেখা যায়  মাদারীপুরের কাওড়াকান্দি-ভাঙ্গা-বরিশাল-খুলনা মহাসড়কের হাইওয়ে। যানজট নিরসনের নামে সুকৌশলে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে এই হাইওয়ে রুটের পুলিশের বিরুদ্ধে। শুধু ঢাকা-বরিশাল-খুলনা মহাসড়কের ভাঙ্গা থেকে কাওড়াকান্দি ঘাট পর্যন্ত অন্তত ৫টি স্থানে চলছে নীরব চাঁদাবাজি। একদিকে ঘরে ফেরা মানুষের ভিড়, অন্যদিকে পুশিলের হয়রানিÑ সব মিলিয়ে ভয়াবহ দুর্বিষহ অবস্থায় পড়েছে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলায় যাতায়াতকারী বাস-ট্রাক চালকরাও।
সরেজমিন একাধিক বাস-ট্রাক চালকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার যাতায়াতের অন্যতম ব্যস্ততম মহাসড়ক হচ্ছে ঢাকা-বরিশাল-খুলনা মহাসড়ক। প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন চলাচল করে এই রুট দিয়ে। রোজা ও কোরবানির ঈদে অন্য সময়ের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি যাত্রী ও পণ্যবাহী পরিবহন যাতায়াত করে এই রুট দিয়ে। ফলে প্রতিনিয়তই ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়। আর এই সুযোগে এক অভিনব কৌশলে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে স্থানীয় হাইওয়ে পুলিশসহ দালাল চক্র। এ রুটের ভাঙ্গা থেকে কাওড়াকান্দি ঘাট পর্যন্ত  ৫টি স্থানে দফায় দফায় ৫শ’ থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত দিতে হয় পুলিশ ও তাদের দালালদের। ফলে সহজেই মিলে সিরিয়াল বা আগে যাওয়ার টিকিট।
একাধিক ভুক্তভোগী ট্রাক ও বাসের  ড্রাইভার অভিযোগ করে জানান, প্রথমে ভাঙ্গার চৌরাস্তার মোড় থেকে টাকা দিতে হয়। না হলে দ্বিতীয় মালিগ্রাম বাসস্ট্যান্ডে। তৃতীয় পুলিয়ার বাজার এলাকায়। তারপর আড়িয়াল খাঁ ব্রিজের আগে ও পরে। সর্বশেষ পাঁচ্চর বাসস্ট্যান্ডে টাকা না দিলে সেদিন আর সিরিয়াল মেলে না। এসব স্থানে টাকা দিতে কোনো ট্রাক ড্রাইভার রাজি না হলে বিআইডব্লিউটিএর নির্ধারিত ৫০ টাকার স্থলে ৩০০ টাকা পর্যন্ত দিতে হয়। এই অবৈধ টাকা আত্মসাতের সাথে স্থানীয় দালাল, বিআইডব্লিউটিএর কর্মী এবং হাইওয়ে পুলিশ জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। ঈদে কোরবানির পশুবাহী ট্রাক থেকে দুই থেকে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্তও নেয়ার অভিযোগ রয়েছে।
বরিশাল থেকে আসা গরুর ট্রাক ড্রাইভার আমজেদ হোসেন জানান, ভাঙ্গায় পুলিশকে ৫শ’ টাকা দিয়ে আড়িয়াল খাঁ ব্রিজের কাছে আসতেই আরো ৫শ’ টাকা দিতে হয়েছে। পাঁচ্চর আসার পর এক রাত থাকতে হয়েছে, সেখানেও সিরিয়াল পেতে হাইওয়ে পুলিশকে এক হাজার টাকা দিতে হয়েছে। এভাবে চললে আমাদের খুবই আর্থিক ক্ষতির শিকার হতে হয়। পুলিশ বাহিনীর এই নীরব চাঁদাবাজি বন্ধে সরকারের কঠোর হওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
এ ব্যাপারে শিবচর থানা হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদ পারভেজ এসব অভিযোগে পুলিশ জড়িত থাকলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন। সেই সাথে চালকদের অতিরিক্ত অর্থ না দেয়ার পরামর্শও দেন।
অপরদিকে হাইওয়ের পুলিশের ফরিদপুর জোনের সুপার সাজ্জাদ হোসেন জানান, আমরা চাঁদাবাজি বন্ধের ব্যাপারে জিরো ট্রলারেন্সে অবস্থান করছি। যদি কারো বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট অভিযোগ থাকে, তাহলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় আইনে ব্যবস্থা নেয়া হবে। চাঁদাবাজির কোনো সুযোগ এই রুটে নেই, যা হচ্ছে তা কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা মাত্র।
এদিকে মাদারীপুর জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সরোয়ার হোসেন জানান, ঈদে যাত্রীদের নির্বিঘেœ সেবা দিতে আমরা বদ্ধপরিকর। ঈদের আগে ও পরে মোট ১০ দিন বিশেষ সেবা হিসেবে জেলা পুলিশের প্রায় আড়াইশ’ পুলিশ নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। যদি কেউ অতিরিক্ত টাকা দাবি করে, তাহলে আমরা দ্রুত তার ব্যবস্থা নেবো।’
এই সড়কের যানবাহনগুলো কাওড়াকান্দি-শিমুলিয়া নৌরুটে চলাচলকারী ১৭টি ফেরি, ৮৬টি লঞ্চ আর দেড় শতাধিক স্পিটবোড দিয়ে পারাপার হয়। সেখানেও পুলিশি হয়রানি বন্ধের দাবি যাত্রীদের। সব মিলিয়ে এই দুর্বিষহ অবস্থা থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ