Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার, ১৭ মে ২০২১, ০৩ জৈষ্ঠ্য ১৪২৮, ০৪ শাওয়াল ১৪৪২ হিজরী
শিরোনাম

‘ফেল’ রোনালদো, ‘যোদ্ধা’ নেইমার, ‘লাপাত্তা’ মেসি

স্পোর্টস ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ৩ মে, ২০২১, ১২:০১ এএম

‘নতুন চ্যালেঞ্জ’, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ২০১৮ সালে যখন জুভেন্টাসে আসেন, তখন তুরিনের আকাশ-বাতাসে রীতিমতো আলোড়ন তুলেছিল তার এ কথাটা। কথাটা দিয়ে যে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ বুঝিয়েছিলেন রোনালদো! টানা তিন চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতে দলে আসা খেলোয়াড়ের মুখে এমন কিছু তো আলোড়ন তোলারই কথা। সে লক্ষ্য তো পূরণ হয়ইনি, উল্টো অভ্যাস বানিয়ে ফেলা লিগটাও এবার জিততে ব্যর্থ হয়েছে জুভেন্টাস। গতপরশু রাতে ইন্টার মিলান ক্রোটনেকে ২-০ গোলে হারানোয় নিশ্চিত হয়েছে বিষয়টা।

২০১২ থেকে ২০২০; এই নয় বছরে জুভেন্টাস থেকে কেউ কখনো লিগ শিরোপা কেড়ে নিতে পারেনি। চলতি মৌসুমেও যে হবে সেটাই বা কে ভেবেছিল? যে দলে আছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর মতো তারকা, তাদের থেকে! উল্টো লিওনেল মেসির বার্সেলোনাকে হারিয়ে যখন চ্যাম্পিয়ন্স লিগের গ্রæপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে নকআউটে ওঠে জুভেন্টাস, তখন অধরা চ্যাম্পিয়ন্স লিগটা জেতাও তো মনে হচ্ছিল খুব সম্ভব।
তবে দ্বিতীয় রাউন্ডে এবার জুভেন্টাসের কপাল পুড়েছে পোর্তোর কাছে হেরে। তবে আর সববারের সঙ্গে এবারের পার্থক্য, আগে অন্তত ঘরোয়া আধিপত্য দলকে ইউরোপীয় ব্যর্থতার সান্ত¡না হিসেবে কাজ করত। এবার সেটাও হচ্ছে না। নয় বছর পর লিগটা যে খুইয়ে বসেছে দল! শুধু এখানেই জুভদের দুর্দশার শেষ নেই। বর্তমানে দলটি আছে তালিকার পঞ্চম স্থানে। যদি এখানে থেকেই শেষ করে মৌসুম তাহলে আগামী মৌসুমে খেলা হবে না চ্যাম্পিয়ন্স লিগেও, খেলতে হবে ইউরোপা লিগে!

তার ওপর প্রায় ১০ বছর পর শিরোপাহীন মৌসুমও চোখ রাঙানি দিচ্ছে জুভেন্টাসকে। কোপা ইতালিয়ার ফাইনালে আগামী ১৯ মে রোনালদোরা মুখোমুখি হবেন আটালান্টার। বের্গামোর দলটিকে সেদিন হারাতে না পারলে ২০১০-১১ মৌসুমের পর আবারও শিরোপাহীন এক মৌসুম কাটাবে তুরিনের দলটি। এমন কিছুর জন্য নিশ্চয়ই রোনালদোকে দলে টানেনি জুভেন্টাস!

অন্যদিকে আগামীকাল পিএসজি এ মৌসুমে তাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটি খেলবে। চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালের দ্বিতীয় লেগের সেই ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ ম্যানচেস্টার সিটি। ম্যাচটির জন্য খেলোয়াড়দের সতেজ রাখতে হবে-এ ভাবনা থেকেই কাল লিগে লেঁসের বিপক্ষে ম্যাচে অনেককেই বিশ্রাম দিয়েছেন কোচ মরিসিও পচেত্তিনো। কিলিয়ান এমবাপে এমনিতেই চোটের কারণে খেলতে পারেননি, বিশ্রামে ছিলেন আনহেল দি মারিয়া। তবে নেইমার ঠিকই খেলেছেন লেঁসের বিপক্ষে। আর একটি গোল করে এবং আরেকটি গোলে সহায়তা করে লেঁসের বিপক্ষে ২-১ গোলের জয়ে নায়কও ব্রাজিলিয়ান তারকাই। আর এই পারফরমেন্সে মুখে না বলেও সিটিকে একটা হুমকি দিয়ে রাখলেন এই ব্রাজিলিয়ান তারকা।

ভক্ত-সমর্থকদের আস্থা রাখার আহবান জানালেন এই ব্রাজিলিয়ান, ‘আমি মনে করি প্যারিসের প্রত্যেকের আমাদের ওপর বিশ্বাস রাখা উচিত। আমি আছি সবার সামনে এবং দলের জন্য এই যুদ্ধে আমিই হবো প্রথম যোদ্ধা। আমি আমার সেরাটা দিবো এবং দলকে জেতাতে আমি যে কোনও কিছু করবো, এমনকি এজন্য যদি মাঠে মারাও যেতে হয় মরবো।’ পিএসজি কোচ পচেত্তিনোও লেঁসের বিপক্ষে ম্যাচের চেয়ে বেশি ভাবছেন ম্যানসিটির বিপক্ষে ম্যাচ নিয়ে। প্যারিসের সংবাদমাধ্যমের নজরও সেদিকেই বেশি। তাই তো ম্যাচ শেষ পচেত্তিনোকে তারা প্রশ্ন করেছে এমবাপের চোটের অবস্থা নিয়ে। সেই প্রশ্নের উত্তরে আমার কথাই শুনিয়েছেন পচেত্তিনো, ‘আমি সব সময়ই আশাবাদী। এখনো (এমবাপের সিটির বিপক্ষে) খেলা নিয়ে আশাবাদী। সে দলের সঙ্গে সিটির মাঠে যাবে। তবে আমরা তাকে খেলাব কি না, সেই সিদ্ধান্ত ম্যাচের আগেই নেব।’
স্প্যানিশ লা লিগার পয়েন্ট টেবিলের উঠা-নামার খেলায় গতপরশু কঠিন পরীক্ষা দিতে হয়েছে জিনেদিন জিদানকে। চোট থেকে পুরোপুরি সেরে না ওঠায় অধিনায়ক সার্জিও রামোসকে দলে নেননি। প্রথম পছন্দের লেফটব্যাক ফারলাঁ মেন্দিও চোটে পড়েছেন। রাইটব্যাকেও নেই পছন্দের প্রথম দুজন। সামর্থ্যরে শেষ বিন্দুতে থাকায় মাঝমাঠে মদরিচ ও ক্রুসকেও খেলানো যাচ্ছে না। এত সব সমস্যা নিয়েই আজ ওসাসুনার বিপক্ষে খেলতে নেমেছিল রিয়াল মাদ্রিদ। গত ডিসেম্বরে এই ওসাসুনার বিপক্ষে বরফে ঢাকা এক মাঠে গোলশ‚ন্য ড্র করায় চাকরি নিয়েই শঙ্কায় পড়ে গিয়েছিলেন জিদান। অবশ্য তেমন কিছু হয়নি। ঘরের মাঠে ওসাসুনাকে ২-০ গোলে হারিয়েছে রিয়াল। এই জয়ে শীর্ষে থাকা অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের সঙ্গে পয়েন্ট ব্যবধান দুইয়েই রাখল রিয়াল। এক ম্যাচ কম খেলে রিয়ালের চেয়ে তিন পয়েন্ট পিছিয়ে বার্সেলোনা। মুখোমুখি লড়াইয়ে এগিয়ে থাকায় এ সপ্তাহে অন্তত লিওনেল মেসি থাকবেন লাপাত্তা। কারন বার্সার চেয়ে পিছিয়ে যাওয়ার ভয় নেই রিয়ালের।

সপ্তাহের মাঝে চেলসির বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নস লিগের ম্যাচ, তাই টনি ক্রুস ও লুকা মদরিচকে বিশ্রাম দেওয়ায় মাঝমাঠে সৃষ্টিশীলতার অভাব ছিল। সেটা কাটাতে চার ফরোয়ার্ড নিয়ে নেমেছিলেন জিনেদিন জিদান। করিম বেনজেমার পেছনে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, এডেন হ্যাজার্ড ও মার্কো আসেনসিও।

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ফুটবল


আরও
আরও পড়ুন