Inqilab Logo

ঢাকা, শনিবার, ১৫ মে ২০২১, ০১ জৈষ্ঠ্য ১৪২৮, ০২ শাওয়াল ১৪৪২ হিজরী

ঈদে বন্ধ দূরপাল্লার বাস-ট্রেন-লঞ্চ

লকডাউন বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ বিধিনিষেধ বাড়ল ১৬ মে পর্যন্ত জেলায় জেলায় চলবে সিটি সার্ভিস

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ৫ মে, ২০২১, ১২:০২ এএম

করোনাভাইরাস সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে চলমান ‘লকডাউন’ বা বিধিনিষেধের মেয়াদ আগামী ১৬ মে পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তবে লকডাউনের মধ্যে দূরপাল্লার পরিবহন, ট্রেন ও লঞ্চ আগের মতোই বন্ধ থাকবে। আগামী ৬ মে থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে জেলার মধ্যে গণপরিবহন চলবে। তবে এক জেলার বাস অন্য জেলায় প্রবেশ করতে পারবে না। এবারের লকডাউন কঠোরভাবে বাস্তবায়নের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরাসরি নির্দেশনা দিয়েছেন।

গতকাল সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে ভার্চুয়াল মন্ত্রিসভা বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রী ও সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলনকক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

এবার ঈদে বাড়ি ফেরায় মানুষের ভোগান্তি বাড়বে কি না- এ প্রশ্নে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ঈদে সরকারি ছুটি তো তিন দিন, এর মধ্যে দুই দিন পড়ছে শুক্র ও শনিবার। তিন দিনের বাইরে কোনো ছুটি দেয়া হবে না। সরকারি অফিস বন্ধ সেগুলোর বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত আছে কি না- এমন প্রশ্বের জবাবে খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, যেগুলো যেভাবে আছে সেভাবেই থাকবে। লকডাউন কঠোরভাবে বাস্তবায়ানের জন্য প্রধানমন্ত্রী সরাসরি নির্দেশনা দিয়েছেন।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, মানুষকে মাস্ক পরাতে সরকার কঠোর অ্যাকশনে যাচ্ছে। আজ থেকে পুলিশ ও সিটি কর্পোরেশন এবং প্রশাসন দেশের প্রত্যেকটি মার্কেটে সুপারভাইজ করবে। যদি কোনো মার্কেটে বেশি লোক হয়, তা কন্ট্রোল করা যাবে না, তবে মাস্ক ছাড়া যদি বেশি লোকজন ঘোরাফেরা করে, তাহলে প্রয়োজনে সেসব মার্কেট বন্ধ করে দেব। দোকান মালিক সমিতি এ বিষয়ে সহযোগিতা করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।

গত রোববার স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একটা মিটিং হয়েছে এবং সেখানে সিদ্ধান্ত হয়েছে, আজ মন্ত্রিসভাল বৈঠকে তা অনুমোদন দিয়েছে। আজ থেকে পুলিশ, সিটি করপোরেশন ও ম্যাজিস্ট্রেট দেশের প্রত্যেক মার্কেট সুপারভাইজ করবেন। যদি কোনো মার্কেটে মাস্ক ছাড়া লোকজন ঘোরাফেরা করে তাহলে প্রয়োজনে আমরা সেসব মার্কেট বন্ধ করে দেব। এটা ক্লিয়ারলি বলে দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি আমাদের কো-অপারেট করবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন এবং ওনারা নিজেরাও এটা সুপারভাইজ করবেন।

তিনি জানান, আর ৬ মে থেকে গণপরিবহন জেলার ভেতরে চলাচল করতে পারবে। যেমন- ঢাকা জেলার মধ্যে থাকতে হবে। আন্তঃজেলা চলাচল করবে না। ওনারা আমাদের কথা দিয়েছেন, কোনোভাবে গণপরিবহনে স্বাস্থ্যবিধি ভায়োলেট করা হবে না। যদি করা হয় তাহলে বন্ধ করে দেয়া হবে। এটা আমরা দেখবো। লঞ্চ ও ট্রেন বন্ধ থাকবে। যেহেতু ওগুলো এক জেলা থেকে আরেক জেলায় যায়। সুতরাং, বন্ধ থাকবে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রাইভেটের কোনো ইন্ডাস্ট্রি এই সময়ে বন্ধ করা যাবে না। যেগুলো যেভাবে আছে সেগুলো ওভাবেই চলবে।

কঠোর বিধিনিষেধের দ্বিতীয় ধাপে গত ১৪ এপ্রিল থেকে দেশে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের হওয়ার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়, যা ‘সর্বাত্মক’ লকডাউন নামে পরিচিতি পায়। এই বিধিনিষেধের মধ্যে জরুরি সেবা দেওয়া প্রতিষ্ঠান ছাড়া সরকারি-বেসরকারি অফিস ও গণপরিবহন আগের মতই বন্ধ আছে। তবে উৎপাদনমুখী শিল্প কারখানা স্বাস্থ্যবিধি মেনে কাজ চালাতে পারবে। শুরুতে লকডাউনে শপিংমলসহ অন্যান্য দোকান বন্ধ রাখার নির্দেশনা থাকলেও জীবন-জীবিকার কথা বিবেচনা করে গত ২৫ এপ্রিল থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে দোকান ও শপিংমল খোলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

সড়ক, নৌ ও রেলপথে দূরপাল্লার যাত্রী বহন বন্ধ থাকলেও বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) ইতোমধ্যে ‘অতি ঝুঁকিপূর্ণ’ বিবেচিত দেশগুলো বাদে অন্য সব গন্তব্যে কঠোর শর্তসাপেক্ষে নিয়মিত বাণিজ্যিক ফ্লাইটে যাত্রী পরিবহনের অনুমতি দিয়েছে। লকডাউনের মধ্যে ব্যাংকে লেনদেন চলছে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত। সতর্কতার অংশ হিসেবে সীমিত জনবল দিয়ে বিভিন্ন শাখা চালু রেখেছে ব্যাংকগুলো।



 

Show all comments
  • Alvi Hasan ৪ মে, ২০২১, ১২:৪৮ এএম says : 2
    শুধুমাত্র রাত ১০ থেকে রাত ২ টা পর্যন্ত দুরপাল্লার বাস ছেড়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া যেতে পারে ৬০% এক্সট্রা ভাড়া দিয়ে দুই সিট এ এক জন বসতে দিয়ে একটা কোম্পানির টোটাল ১০ টা বাস চলাচল করবে এই ৪ ঘন্টায় বাস কাউন্টার গুলোর যথাযথ পর্যবেক্ষণ সাপেক্ষে কারন মানুষ ঠিকই মাইক্রো বাস এ ১২ জন যাতায়াত করতেসে(ফেসবুক গ্রুপ গুলো খুজলেই পাবেন),বাস এ যাতায়াত মাইক্রো থেকে অনেক safe
    Total Reply(0) Reply
  • Mahfuzur Rahman ৪ মে, ২০২১, ১২:৫০ এএম says : 2
    শপিংমল খোলা রেখে যদি পুলিশ দিয়ে তদারকি করা যাই, তাহলে গনপরিবহন চালু করে পুলিশ দিয়ে তদারকি করা হোক। প্রতেক গারিতে একজন করে পুলিশ নিয়োগ দেওয়া হোক।
    Total Reply(0) Reply
  • Moin Khan ৪ মে, ২০২১, ১২:৪৭ এএম says : 0
    এমনটাই হওয়া উচিত।করোনা তার ভয়াল থাবা ক্রমেই বিস্তার করছে, যা কারো নিয়ন্ত্রণে নাই। ভারতে মারাত্মক পরিস্থিতি। তাই সবার বাঁচার স্বার্থেই আমাদের একটু ত্যাগ স্বীকার করা দরকার।
    Total Reply(0) Reply
  • চন্দ্র বিন্দু ৪ মে, ২০২১, ১২:৫১ এএম says : 0
    তাহলে সকল অফিস,গার্মেন্টস বন্ধ করে দেয়া হোক এই লকডাউন শেষ না হওয়া পর্যন্ত।। এসব প্রতিষ্টান বন্ধ না করলে আর লকডাউন দিয়া কিতা হইবু
    Total Reply(0) Reply
  • Mohammad Shohel ৪ মে, ২০২১, ১২:৪৪ এএম says : 0
    করোনা ভাইরাসকে হয়রানি করছে সরকার। সুতরাং এই ভাইরাস সরকারকে মোটেই ছার দিবে না।
    Total Reply(0) Reply
  • Anwar Hossen Anik ৪ মে, ২০২১, ১২:৪৫ এএম says : 0
    করোনা'টা আসলেই খুব'ই ডিস্টার্ব ।
    Total Reply(0) Reply
  • Morshed Anam ৪ মে, ২০২১, ১২:৫০ এএম says : 0
    এমন করে বাড়াতে বাড়াতে ডিসেম্বর পর্যন্ত কাটিয়ে দিয়েন। জীবিকার অভাবে দেশের সব মানুষ মারা যাক সমস্যা নাই, কিন্তু আমরা ২০২১ সাল পুরা লকডাউন চাই।
    Total Reply(0) Reply
  • Solaiman Islam ৪ মে, ২০২১, ১২:৪৮ এএম says : 0
    দুই কোটি জনগনের শহর ঢাকা শহরে গণপরিবহন চললে করোনা সংক্রামিত হবে না, কিন্তু দূর পাল্লার পরিবহন চললে করনো হবে, এটাই বাংলাদেশি সাইন্স
    Total Reply(0) Reply
  • Mdshahjahanali ৪ মে, ২০২১, ১২:৪২ এএম says : 0
    সবাই বুঝে কিসের লকডাউন এ
    Total Reply(0) Reply
  • Rony Shikder ৪ মে, ২০২১, ১২:৪৯ এএম says : 0
    এটি একটি বৈজ্ঞানিক সিদ্ধান্ত। লকডাউন মানে শুধু দূরপাল্লার যানবাহন চলবে না,,,করোনা নিয়ন্ত্রনে সময়োপযোগী উদ্দ্যোগ,, ইতোমধ্যে বিভিন্ন দেশের প্রেসিডেন্ট গন আমাদের বৈজ্ঞানিক দের সাথে যোগাযোগ করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।।
    Total Reply(0) Reply
  • MD. Shibbir Ahmed Sajib ৪ মে, ২০২১, ১২:৪৯ এএম says : 0
    ঈদের দ্বিতীয় দিন বিয়া করার কথা ছিল! এখন ঢাকা থেকে বাড়িতে যাওয়াই সম্ভব হচ্ছে না! বিয়াটা বুঝি ভেঙ্গেই যাবে
    Total Reply(0) Reply
  • Md. Rabiul Islam ৪ মে, ২০২১, ১২:৫১ এএম says : 0
    আমি এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। এই ধরণের লক ডাউনের বৈজ্ঞানিক কোনও যুক্তি নাই। ঢাকার মধ্যে গাড়ি চলাচল করা মানে প্রায় দুই কোটি মানুষ পরস্পরের সংস্পর্শে আসা। সেখানে কোন সমস্যা নাই। আর দূর পাল্লার বাস চললেই সমস্যা?? এদিকে বাস বন্ধ থাকলেও মাইক্রো যোগে যে কোনও জায়গায় যাওয়ার সুযোগ তো থাকছেই। আবার গার্মেন্টস শ্রমিকদের মাত্র তিন দিনের ছুটির কথা বলা হচ্ছে। আরে ভাই এই গার্মেন্টস শ্রমিকরা সবচেয়ে কম ছুটি কাটিয়ে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় (দশ, বারো, ষোল, ঘন্টা প্রতিদিন )ধরে সারা বছর কাজ করে আর আশায় থাকে দুই ঈদে একটু বিশ্রামের জন্য। গতবারের মতো এবারও সেই আশার গুড়ে বালি।
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: করোনাভাইরাস

১২ মে, ২০২১

আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ