Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৫ আশ্বিন ১৪২৬, ২০ মুহাররম ১৪৪১ হিজরী

দামুড়হুদায় থামছে না পাচার ও বেচাকেনা : মাদকের ছোবলে ধ্বংস হচ্ছে যুবসমাজ উৎকণ্ঠায় অভিভাবক

প্রকাশের সময় : ১৯ জানুয়ারি, ২০১৬, ১২:০০ এএম

দামুড়হুদা (চুয়াডাঙ্গা) উপজেলা সংবাদদাতা : পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে দামুড়হুদা উপজেলাসহ জেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় স্থানীয়দের সাথে নিয়ে মাদকবিরোধী সভা-সেমিনার ও বিজিবি’র পক্ষ থেকে সীমান্তবর্তী এলাকায় অভিযান চালিয়ে মাদকদ্রব্য আটক ও এলাকার মসজিদসহ বিভিন্ন স্থানে মাদক সেবনের কুফল, মাদকের অপব্যবহার ও মাদকের পাচারপরাধে মানুষকে সচেতন করতে নিয়মিতভাবে সভা-সমাবেশ করার পরও কোন ক্রমেই রোধ হচ্ছে না মাদক সেবন ও পাচার। বরং প্রতিদিনই এসব কর্মকা-ে নতুন নতুন মুখের উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে। এমন কোন দিন নেই যেদিন দামুড়হুদা উপজেলার ভারত সীমান্তের কোন স্থানে ভারত বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষীদের মধ্যে মানব পাচারসহ মাদক চোরাচালানী রোধে পতাকা বৈঠক হচ্ছে না। তারপরও মাদকের চোরাচালান ও সেবন হয়ে উঠেছে অপ্রতিরোধ্য। প্রতিদিনই সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী বিজিবি’র চোখ ফাঁকি দিয়ে সীমান্তের বিভিন্ন স্থান দিয়ে ভারত থেকে চোরাপথে ফেনসিডিল, মদ, গাঁজা, হেরোইনসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য। মাদকের ভয়ঙ্কর নীল ছোবলে গোটা এলাকার তরুণ ও যুবসমাজ জর্জরিত। এলাকার অভিভাবকমহল তাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন। জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা জেলার ভারত সীমান্তবর্তী দামুড়হুদা উপজেলার শহর, হাট-বাজার থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রাম পর্যন্ত এখন মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের দখলে। বিজিবি ও পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে সীমান্তপথে ভারত হতে এসব মাদকদ্রব্য পাচার করে উপজেলার সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোর বিভিন্ন চিহ্নিত স্পটে জড়ো করে। সুযোগ বুঝে কিছু অংশ স্থানীয় পয়েন্টগুলোতে বিক্রি করে এবং চালানের সিংহভাগই অভিনব কায়দায় ট্রেন, বাস, ট্রাক, মাইক্রোবাস, প্রাইভেট কার, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহনযোগে চলে যায় রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। আর এসব মাদকদ্রব্য চোরাচালান ও বহনের কাজে এলাকার উঠতি বয়সী কিশোর, যুবক, মহিলা এমনকি স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরাও জড়িয়ে পড়েছে। আবার অনেক সম্ভ্রান্ত ও ধনাঢ্য পরিবারের ছেলেরাও জড়িয়ে পড়ছে এসব ব্যবসায়। বর্তমানে মাদক ব্যবসায়ীরা স্কুল-কলেজের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের স্কুলব্যাগই নিরাপদ মনে করে এদেরকে নগদ টাকার লোভ দেখিয়ে মাদক বহনের কাজে ব্যাপকভাবে ব্যবহার করছে এমন অভিযোগ রয়েছে। প্রতিনিয়ত মাদক নিয়ে নাড়াচাড়া করতে গিয়ে তারাও আসক্ত হয়ে পড়ছে বিভিন্ন ধরনের মাদকে। সেইসাথে অনৈতিক পন্থায় নগদ টাকা হাতে আসায় তারা অভিভাবকদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। সীমান্ত পথে ভারত থেকে গরু আনতে গেলে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষীবাহিনী বিএসএফ বাংলাদেশি রাখালদের গুলি চালিয়ে হত্যা করলেও বাংলাদেশে মাদক পাচারের বেলায় নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে থাকে বলে জানায় অনেকে। সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার আটকবর, মুন্সীপুর, কার্পাসডাঙ্গা, মদনা, সুলতানপুর, দর্শনা পৌর এলাকার জয়নগর, শ্যামপুর, ঈশ্বরচন্দ্রপুর, দর্শনা হল্ট, হঠাৎপাড়া, পরানপুর বেলেমাঠপাড়া, দর্শনা বাসস্ট্যান্ড ও দর্শনার পার্শ্ববর্তী আকন্দবাড়িয়াসহ শহরের হাট-বাজার ও অলিতে-গলিতে প্রায় দেড় শতাধিক স্পটে ফ্রিস্টাইলে এসব মাদকদ্রব্য বিক্রি হচ্ছে। এলাকার ভ্যান-রিকসাচালক থেকে শুরু করে পুলিশ, ডাক্তার, সমাজপতি, ছাত্র-শিক্ষকদের অনেকেই এখন ভয়ঙ্কর এ নেশায় আসক্ত। খুব সহজেই হাতের কাছে এসব মাদকদ্রব্য পেয়ে উঠতি বয়সের যুবক-যুবতী থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সী মানুষ প্রতিনিয়ত নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়ছে। প্রতিদিনই এ লাইনে নতুন নতুন মুখের দেখা মিলছে। শিক্ষিত এবং ভদ্র পরিবারের উঠতি বয়সের যুবকরা উপর্যুপরি নেশার টাকা যোগাড় করতে চুরি ছিনতাইসহ বেছে নিচ্ছে নানা প্রকার অনৈতিক পথ। ফলে ঘটছে সামাজিক অবক্ষয়। অবনতি হচ্ছে এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির। বিজিবি ও পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা বিভিন্ন সময়ে উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে ভারত থেকে সীমান্তপথে আসা এসব মাদকদব্যসহ দু’একজনকে আটক করলেও নানা তদবির ও আইনের ফাঁক-ফোকর দিয়ে বের হয়ে যাচ্ছে। যারা ধরা পড়ে মূলত তাদের বেশিরভাগই টাকার বিনিময়ে মাদকদ্রব্য নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছে দেয়ার বাহক মাত্র। মূল হোতারা বরাবরই ধরা ছোঁয়ার বাইরে থেকে এসব বাহকদেরকে ছাড়িয়ে এনে আবারও চালায় তাদের ব্যবসা। এসব মাদক ব্যবসায়ীদের বেশিরভাগই বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও প্রশাসনের অসাধু লোকজনের সাথে চলাফেরা করে বলে এলাকার নিরীহ সাধারণ মানুষ হয়রানি ও মান-সম্মানের ভয়ে এদের বিরুদ্ধে কিছু বলতে চায় না। সচেতনমহল মনে করেন, জেলার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা পরিচ্ছন্ন মন নিয়ে নানাবিধ কার্যকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করলে সমাজ থেকে মাদক চোরাচালান ও মাদকের ভয়ঙ্কর নীল ছোবল থেকে যুবসমাজকে রক্ষা করা সম্ভব। তাই বিষয়টির প্রতি সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন এলাকার সচেতন অভিভাবকমহল।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন