Inqilab Logo

শনিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২১, ৩১ আশ্বিন ১৪২৮, ০৮ রবিউল আউয়াল সফর ১৪৪৩ হিজরী

মরে যাওয়ার আগে আসামিদের শাস্তি দেখে চান, সিলেটে রায়হানের মা সালমা

সিলেট ব্যুরো | প্রকাশের সময় : ৫ মে, ২০২১, ২:০৮ পিএম | আপডেট : ৫:১৬ পিএম, ৫ মে, ২০২১

পুলিশী নির্যাতনে ছেলে হারানোর প্রায় ৮ মাস চলছে। আগামী ১১ মে ৮ মাস পূর্ণ হবে সিলেটের আখালিয়া এলাকার যুবক রায়হান আহমদের নির্মম মৃত্যুর। গত বছরের ১১ অক্টোবর মহানগর পুলিশের কোতোয়ারি থানাধীন বন্দরবাজার ফাঁড়িতে নির্মম নির্যাতনে মৃত্যু ঘটে রায়হানের। এদিকে, চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলার অভিযোগপত্র কোর্ট পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে পিবিআই। এতে বরখাস্ত ওই ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) আকবর হোসেন ভূঁঞাসহ ৬ জনের নাম রয়েছে। করোনাকালীন অবস্থা শেষে আদালতের কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর কোর্ট পুলিশ অভিযোগপত্রটি আদালতে দাখিল করবে। আজ বুধবার (৫ মে) পিবিআই তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ সুপার খালেদ-উজ-জামান হস্তান্তর করেন এই অভিযোগপত্রটি। তবে চার্জশিট দাখিল প্রসঙ্গে নিজস্ব অভিব্যক্তি প্রকাশ করেছে নিহত রায়হানের মা সালমা বেগম। চোখের পানিতে সিক্ত রায়হানের মা জানালেন, চার্জশিট দাখিল করতে এত সময় নিলো পুলিশ। পুলিশ আমাদের বললো- ভালো ফলাফল পেতে গেলে একটু ধৈর্য ধরতে হবে, দেরি হবে। আমরা ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করলাম তো ৮ মাস। কিন্তু শুনলাম- চার্জশিটে ২/৩ জনের নাম বাদ দেয়া হয়েছে। তাহলে এই অপেক্ষা করে কী হলো লাভ ? সালমা বেগম আরো বলেন, আপনাদেও হিসেবে রায়হান না থাকার ৭-৮ মাস। কিন্তু আমার কাছে আমার কলিজার টুকরা সন্তান হারানোর পর একেকটি দিন ছিলো যেন একেকটি বছর। তারপরও অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি পাইয়ে দেয়ার মতো চার্জশিট তৈরি করা যদি হয়, তবে অন্তত এই ৮ মাস ধৈর্য ধরা কিছুটা স্বার্থক হবে। রায়হানের মা সালমা বেগম আরও বলেন, জড়িত সব আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। তাহলে আমার ছেলের আত্মা শান্তি পাবে। আমি মরে যাওয়ার আগে আসামিদের শাস্তি দেখে যেতে চাই। আমার ছেলেকে ধরে নির্যাতন করার অধিকার কারো নাই। সে অন্যায় করে থাকলে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশ মারধর করবে কেনো ? আমার ছেলেকে রাত ১টার দিাকে তুলে নেয়। সকাল ৭টার দিকে সে মারা যায়। এই ৬ ঘন্টা ফাঁড়িতে ধরে নিয়ে তাকে নির্মস নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করা হয়েছে। রায়হানের মা বলেন, রায়হান অপরাধ করে থাকলে পুলিশ তাকে ধরার পর অবহিত করবে আমাদের। কিন্তু তা না করে শেষরাতে টাকা চেয়ে ফোন করানো হলো। আর রায়হানের মৃত্যুর পর নিজেদের এক দালালের মাধ্যমে আমাদের কাছে খবর পাঠায় পুলিশ। এসব কেনো করা হলো ? সালমা বেগম বলেন, ইয়াবা-ছিনতাইসহ এখন নানা বিষয়কে রায়হানের সাথে জড়ানো হচ্ছে। রায়হান যেহেতু নেই তাই এমন বিষয়ের সত্যমিথ্যা যাছাই করা সম্ভব নয়। এখন তো সে আর এসবের প্রতিবাদ করতে পারবে না। আমাদের দাবি একটাই, রায়হান হত্যার বিচার চাই।

দাখিলকৃত অভিযোগপত্রে ৬৯জনকে সাক্ষী রাখা হয়েছে। সেই সাথে আলোচিত এই মামলায় ১৬৪ ধারায় ১০জন সাক্ষী আদালতে জবানবন্দী প্রদান করেন। ২২ পৃষ্টার অভিযোগপত্রে ৬জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এদের মধ্যে এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়া, টুআইসি এসআই হাসান আলী, এএসআই আশেকে এলাহী, কনস্টেবল হারুনুর রশিদ, কনস্টেবল টিটু চন্দ্র দাস কারাগারে থাকলেও ঘটনার পর থেকে লাপাত্তা রয়েছেন কোম্পানীগঞ্জের আব্দুল্লাহ আল নোমান নামের এক যুবক। তাকে পলাতক দেখিয়ে অভিযোগপত্রটি কোর্ট পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছেন পিবিআই।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: রায়হান হত্যা


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ