Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার, ১৪ জুন ২০২১, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮, ০২ যিলক্বদ ১৪৪২ হিজরী

রিয়ালের স্বপ্নে চেলসির হানা

স্পোর্টস ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ৭ মে, ২০২১, ১২:০৩ এএম

ঘুরে দাঁড়িয়ে শিরোপার মঞ্চে জায়গা করে নিতে হলে দারুণ কিছু করে দেখাতে হতো রিয়াল মাদ্রিদকে। কিন্তু জিনেদিন জিদানের দলের পক্ষে তা সম্ভব হয়নি। তাদের বিবর্ণ পারফরম্যান্সের বিপরীতে চেলসি ছিল দুর্বার। একাধিক সুবর্ণ সুযোগ নষ্ট করলেও জয় ঠিকই তুলে নিল তারা। রিয়ালকে বিদায় করে তারা উঠে গেল উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে। গতপরশু রাতে ঘরের মাঠ স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে সেমিফাইনালের দ্বিতীয় লেগে ২-০ গোলে জিতেছে টমাস টুখেলের শিষ্যরা। আগের দেখায় রিয়ালের মাঠে ১-১ ড্র করেছিল তারা। ফলে দুই লেগ মিলিয়ে ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে ফাইনালে পা রেখেছে ইংলিশ ক্লাবটি। ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতায় চেলসির বিপক্ষে এ নিয়ে পাঁচবারের মুখোমুখিতে জয়বঞ্চিত রইল রিয়াল। অন্যদিকে প্রথম ক্লাব হিসেবে ছেলে ও মেয়েদের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালে উঠল চেলসি।
প্রথমার্ধে জার্মান ফরোয়ার্ড টিমো ভার্নারের গোলে এগিয়ে যায় চেলসি। দ্বিতীয়ার্ধের শেষদিকে ব্যবধান বাড়ান ইংলিশ উইঙ্গার ম্যাসন মাউন্ট। তবে ক্রসবার বাধা না হয়ে দাঁড়ালে এবং কাই হাভার্টজ, এনগোলো কান্তেরা সুযোগ হাতছাড়া না করলে স্বাগতিকদের জয়ের ব্যবধান অনেক বড় হতে পারত। পাল্টা আক্রমণ নির্ভর কৌশল বেছে নিয়ে পুরো ম্যাচে আধিপত্য দেখায় চেলসি। বিশেষ করে, বিরতির পর স্প্যানিশ পরাশক্তি রিয়ালকে একেবারে চেপে ধরে তারা। অধিনায়ক সার্জিও রামোস একাদশে ফিরলেও চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সফলতম দলটির রক্ষণভাগ ছিল রীতিমতো ছন্নছাড়া। চেলসি আক্রমণ সামাল দেওয়ার উপায় যেন জানা ছিল না তাদের!
মাত্র এক-তৃতীয়াংশ সময় বল পায়ে রেখেও গোলমুখে ১৫টি শট নেয় ব্লুজরা। যার মধ্যে লক্ষ্যে ছিল পাঁচটি। অন্যদিকে, ইউরোপের সর্বোচ্চ ক্লাব আসরের রেকর্ড ১৩ বারের চ্যাম্পিয়ন রিয়ালের সাতটি শটের পাঁচটি ছিল লক্ষ্যে। কাক্সিক্ষত খেলা উপহার দিতে পারেনি লস ব্লাঙ্কোসদের তারকাসমৃদ্ধ মিডফিল্ডার ও ফরোয়ার্ডরাও। তাছাড়া, চেলসির গোলরক্ষক এদুয়ার্দো মেন্দি ছিলেন অসাধারণ ছন্দে। মোট পাঁচটি সেভ করেন তিনি।
পুরো ম্যাচের সুর বাঁধা ছিল প্রথম কুড়ি মিনিটেই। প্রথম কয়েক মিনিটে ধারাল ফুটবল খেলেছে রিয়াল। করিম বেনজেমা, এডেন হ্যাজার্ডরা চেলসির বক্সে বল নিয়ে ঢোকার চেষ্টা করেছেন। চেলসি রক্ষণের কাজটা সেরে মাঝমাঠে খেলাটা গুছিয়ে গোল আদায় করে নেওয়ার মতো আক্রমণ করেছে। রিয়ালের ডান প্রান্ত দিয়ে ম্যাসন মাউন্ট, কাইল হার্ভার্টজরা কাঁপুনি দিয়েছেন রিয়ালের রক্ষণে। ২৮ মিনিটে টিমো ভেরনারের গোলটা তার ফল। নির্ধারিত সময়ের ৫ মিনিট আগে গোল করে চেলসির ফাইনালের খামে সীলমোহর মেরে দেন মাউন্ট। গোটা ম্যাচে দাপিয়ে খেলা কান্তের পাস থেকে পুলিসিচ ক্রস বাড়ান মাউন্টকে। গোল করতে ভুল হয়নি ইংলিশ অ্যাটাকিং মিডফিল্ডারের।
আট মৌসুম পর চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে উঠল টমাস টুখেলের ছোঁয়ায় বদলে যাওয়া দলটি। ২০১১-১২ আসরে বায়ার্ন মিউনিখকে হারিয়ে ইউরোপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল চেলসি। আর তাতেই এবারের ফাইনালটি রূপ পেল ‘অল ইংলিশ’ ফাইনালে। আগের রাতেই প্রথম সেমিফাইনালে পিএসজিকে একই ব্যবধানে হারিয়ে প্রথমবারের মতো প্রতিযোগিতার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে ম্যানচেস্টার সিটি। ২৯ মে ইস্তাম্বুলের আতাতুর্ক অলিম্পিক স্টেডিয়ামের শিরোপা লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে দুই ইংলিশ ক্লাব।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: রিয়ালের স্বপ্ন
আরও পড়ুন
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ