Inqilab Logo

ঢাকা মঙ্গলবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২০, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ১৫ রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরী
শিরোনাম

আত্রাইয়ের শুঁটকি এলাকার চাহিদা মিটিয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন জেলায়

প্রকাশের সময় : ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬, ১২:০০ এএম

নওগাঁ জেলা সংবাদদাতা
নওগাঁ জেলার আত্রাইয়ে শুঁটকি তৈরিতে এখন চরম ব্যস্ত সময় কাটছে ব্যবসায়ীদের। এলাকাজুড়ে এখন শুধু শুঁটকি তৈরির ধুম পড়েছে। এবার এলাকাজুড়ে বন্যায় বিভিন্ন পুকুর পানিতে ডুবে যাওয়ায় মাছের বিচরণ অনেক বেশি। তাই জলাশয়গুলোতে ধরা পড়ছে দেশীয় প্রজাতির অনেক রকমারী মাছ। আর এ মাছগুলো প্রতিদিন সেই কাকডাকা ভোর থেকে বিক্রি হচ্ছে আত্রাইয়ের ঐতিহ্যবাহী মাছবাজার রেলওয়ে স্টেশনসংলগ্ন মাছের আড়তে। এসব মাছ কিনে শুঁটকি তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন শুঁটকি ব্যবসায়ীরা। গত বছর এলাকায় বন্যা না হওয়ায় দেশীয় প্রজাতির মাছ প্রায় হারিয়েই গিয়েছিল। এজন্য শুঁটকি ব্যবসায়ীরা ব্যাপক লোকসানের শিকার হয়ে আর্থিকভাবে চরম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। সেই লোকসান পুষিয়ে নিতে এবার তারা কোমর বেঁধে শুঁটকি তৈরিতে ঝোঁকে পড়েছে। তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, উত্তর জনপদের মৎস্য ভা-ার হিসাবে খ্যাত স্থানসমূহের মধ্যে আত্রাইও একটি খ্যাত স্থান। প্রতিদিন শত শত টন মাছ আত্রাই উপজেলা থেকে রেল, সড়ক ও নৌপথে দেশের বিভিন্ন জেলায় বাজারজাত করা হয়। সে অনুযায়ী শুঁটকি উৎপাদনেও আত্রাইয়ের যথেষ্ট প্রসিদ্ধ রয়েছে। রাজধানী ঢাকাসহ উত্তরঞ্চলের রংপুর, নিলফামারী, সৈয়দপুর, কুড়িগ্রাম, দিনাজপুরসহ দেশের প্রায় ২০/২৫ জেলাতে বাজারজাত করা হয় আত্রাইয়ের শুঁটকি মাছ। আর এ মাছের শুঁটকি তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করে প্রায় শতাধিক পরিবার। উপজেলার ভরতেঁতুলিয়া গ্রাম শুঁটকি তৈরিতে বিশেষভাবে খ্যাত। এ গ্রামে শতাধিক শুঁটকি ব্যবসায়ী এ পেশার সাথে সম্পৃক্ত। শুধু বর্ষা মৌসুমে শুঁটকি তৈরি করে দেশের বিভিন্ন স্থানে বাজারজাত করে তারা পরিবারের সারা বছরের ভরণপোষণ নিশ্চিত করেন। কিন্তু গত বছর বাজার মন্দা থাকায় এসব শুঁটকি ব্যবসায়ীরা হতাশ হয়ে পড়েছিলেন। কাঁচা মাছের আমদানি কম, বাজারে মূল্য বেশি, অথচ শুঁটকির বাজারে ধস। সবকিছু মিলিয়ে তাদের গত বছরের চালান প্রতি লাভের স্থলে গুনতে হয়েছিল অনেক লোকসান। মাছের ব্যাপক আমদানি, মূল্য কম এবং শুঁটকি বাজার মূল্য বেশি থাকায় তাদের চোখে-মুখে হাসির ঝিলিক ফুটে উঠেছে। ভরতেঁতুলিয়া গ্রামের বিশিষ্ট শুঁটকি ব্যবসায়ী মঞ্জুর মোল্লা বলেন, শুঁটকি ব্যবসার সাথে আমি দীর্ঘদিন থেকে সম্পৃক্ত। শুঁটকি তৈরিতে অর্থ খরচের সাথে সাথে যথেষ্ট শ্রম ব্যয় হয়। শুঁটকি ব্যবসায়ী রাম, মাজেদুল, পচু, গেদা ও ছাত্তার বলেন, সর্বোপরি আমরা রৌদ্র-বৃষ্টি ও মাছের দুর্গন্ধ সবকিছুকে উপেক্ষা করে পরিবার-পরিজন নিয়ে এ পেশা চালিয়ে যাচ্ছি। দেশের বিভিন্ন স্থানে আত্রাইয়ের শুঁটকির চাহিদা আছে। এবারের ব্যবসাটা লাভজনক হবে বলে আমরা আশাবাদী। এ বিষয়ে এলাকার সচেতন মহল মনে করেন ব্যাপক উদ্যোগ নেয়া হলে প্রতি বছর প্রচুর পরিমাণে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের সঙ্গে সঙ্গে দেশের শুঁটকি শিল্পে বিপুলসংখ্যক এ উপজেলার বেকার যুবকের কর্মসংস্থান করা সম্ভব হবে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: আত্রাইয়ের শুঁটকি এলাকার চাহিদা মিটিয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন জেলায়
আরও পড়ুন