Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৯, ০২ কার্তিক ১৪২৬, ১৭ সফর ১৪৪১ হিজরী

দর্শনা কেরু চিনিকলের কোয়ার্টারসহ ভূমিকম্প ঝুঁকিতে শতাধিক আবাসিক স্থাপনা

প্রকাশের সময় : ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬, ১২:০০ এএম

নূরুল আলম বাকু, দামুড়হুদা (চুয়াডাঙ্গা) থেকে

চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় দেশের ঐতিহ্যবাহী কেরু চিনিকলের মিল ক্যাম্পাসের মিলহাউস, জেনারেল অফিস, ডিস্ট্রিলারি বিল্ডিং, হাইস্কুল বিল্ডিংসহ শ্রমিক-কর্মচারীদের বসবাসের কয়েক শত আবাসিক কোয়ার্টার ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এছাড়াও চলতি বছরের গোড়ার দিকে চিনিকল কর্তৃপক্ষের মৌখিক নির্দেশে জনৈক ঠিকাদার অবৈধ পন্থায় অপরিকল্পিতভাবে মিল বাউন্ডারির পুকুর থেকে ড্রেজিং করে বিপুল পরিমাণ বালি উত্তোলনের ফলে মিলের স্থাপনাসমূহ ধসে পড়ার আশঙ্কা আরও ঘনিভূত হয়েছে। ফলে যে কোন সময় এসব স্থাপনা ধসে পড়ে ঘটতে পারে সম্পদহানিসহ মিলের কর্মকর্তা, শ্রমিক-কর্মচারীসহ শত শত মানুষের প্রাণহানির ঘটনা। সম্প্রতি পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত, নেপাল ও মায়ানমারে বেশ কয়েকটি শক্তিশালী ভূমিকম্প সংঘটিত হওয়ার পর ভূ-তত্ত্ববিদরা বাংলাদেশেও যেকোন সময় বড় ধরনের ভূমিকম্পের আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন যা দেশ-বিদেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত হয়েছে। বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আগেই কোটি কোটি টাকার রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও শত শত মানুষের প্রাণ রক্ষা করতে এখনই ব্যবস্থা নেয়া দরকার বলে মনে করছেন সচেতনমহল। জানা গেছে, ১৯৩৮ সালে চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদার দর্শনায় দেশের সর্ববৃহৎ চিনিকল ও ডিস্ট্রিলারির সমন্বয়ে কেরু অ্যান্ড কোম্পানি স্থাপিত হয়। ওই সময় মিলের বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণের পাশাপাশি শ্রমিক-কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের আবাসন সুবিধা দিতে মিল বাউন্ডারিতে আবাসিক কোয়ার্টার নির্মাণ করা হয়। এ সময় কুলি লাইন, দারোয়ান লাইন, বাবু লাইন এবং এস পি লাইন ইত্যাদি আলাদা আলাদাভাবে কোয়ার্টার নির্মাণ করা হয়। পরবর্তীতে কর্পোরেশন লাইন, টেডি লাইন, ইউনিয়ন লাইনসহ আরও কিছু কোয়ার্টার নির্মাণ করা হয়। কর্মকর্তাদের জন্য বাংলোপাড়ায় নির্মাণ করা হয় বেশ কিছু কোয়ার্টার। এসব কোয়র্টারের মধ্যে একেবারে ড্যামেজ হয়ে যাওয়ায় মিল কর্তৃপক্ষ কয়েক বছর আগে কুলি লাইনটি সম্পূর্ণভাবে ভেঙে ফেলে। বর্তমানে টেডি কোয়ার্টারের অবস্থাও শোচনীয়। এসপি লাইনের কোয়ার্টারের ছাদে দেয়া অ্যাসবেস্টররের শিটগুলো অনেক স্থানে ভেঙে গেছে। খসে পড়ছে দেয়ালের চুন সুরকির প্লাস্টার। বাবু লাইনের ছাদেরও প্লাস্টার খসে পড়ছে। সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারের অভাবে পৌনে একশ বছর আগে নির্মিত এসব স্থাপনার মধ্যে মিলহাউস, জেনারেল অফিস, ডিস্ট্রিলারি বিল্ডিং, হাইস্কুল বিল্ডিংসহ আবাসিক কোয়ার্টারগুলোর বেশিরভাগই বর্তমানে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ফাটল ধরেছে ছাদসহ দেয়ালের বিভিন্ন স্থানে। সারা বছরই খসে পড়ে দেয়ালসহ ছাদের প্লাস্টার। দরজা জানালাগুলো উঁই পোকার আক্রমণে ভেঙে পড়েছে। কোয়ার্টারের অনেক স্থানে বটগাছ গজিয়ে দেয়ালে ফাটল ধরেছে। বর্ষা মৌসুমে একটু বৃষ্টিতেই অধিকাংশ কোয়র্টারের ছাদ চুঁইয়ে পানি পড়ে ঘর ভেসে যায়। ভিজে নষ্ট হয় আসবাবপত্রসহ মূল্যবান জিনিসপত্র। ঘরের স্যাঁতসেঁতে পরিবেশের কারণে এসব স্থলে কর্মরত ও বসবাসকারীরা সার বছরই ভোগে সর্দি, কাশিসহ ঠা-াজনিত নানা সমস্যায়। তার পরও চাকরির কারণে বাধ্য হয়েই শত অসুবিধাসহ জীবনের ঝুঁকির মধ্যে কোম্পানির শ্রমিক-কর্মচারীরা এসব জায়গায় কাজ করেন। সেই সাথে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর অবস্থায় বসবাস করেন এসব ব্যবহার অনুপযোগী আবাসিক কোয়ার্টারে। অভিযোগ আছে, কর্মকর্তাদের আবাসিক কোয়ার্টারের জন্য সহজেই সংস্কার কাজ হলেও শ্রমিক-কর্মচারীদের আবাসিক কোয়ার্টারের ক্ষেত্রে সে সুযোগ হয়ে ওঠে না। প্রতিবছর মিলের বিভিন্ন স্থাপনাসহ জরাজীর্ণ এসব কোয়ার্টার সংস্কারের নামে নানাভাবে কোম্পানির বিপুল অংকের অর্থের তছরূপ হলেও কাজের কাজ কিছুই হয় না। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এসব কোয়ার্টারে বসবাসকারীদের বেশ কয়েকজন জানান, প্রায় এক যুগ আগে গণপূর্ত বিভাগ এ সমস্ত কোয়ার্টার বসবাসের অযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত করে কেরু কর্তৃপক্ষকে জানায়। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে কেরু কর্তৃপক্ষ বিষয়টি চেপে রেখে নুতন করে আবাসিক কোয়ার্টার নির্মাণ না করে এসব পরিত্যক্ত কোয়ার্টার ভাড়া দিয়ে শ্রমিকদের কাছ থেকে প্রতিবছর লাখ লাখ টাকা ভাড়া আদায় করছে। বছর ত্রিশেক আগে মিল বাউন্ডারির রেলবাজার সংলগ্ন দোতলা বিল্ডিংটি নির্মিত হয়। বিল্ডিংটি নির্মাণে বিভাগীয় কর্মকর্তাদের দুর্নীতি ও ঠিকাদারের নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রীর ব্যবহারের কারণে অল্প সময়েই এর আয়ুস্কাল শেষ হয়ে গেছে। বিল্ডিংটি ১২টি পরিবার বসবাসের উপযোগী হলেও বর্তমানে আছে মাত্র ৮টি পরিবার। ওই বিল্ডিংয়ে বসবাসকারীরা জানান, বিল্ডিংটির অবস্থা এতই খারাপ যে, বর্ষাকালে এখানে বসবাস করার মত কোন অবস্থা নেই। তাই এবার বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই ৪টি পরিবার এ সমস্ত বাসা ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন