Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০৭ ফাল্গুন ১৪২৬, ২৫ জামাদিউস সানি ১৪৪১ হিজরী

কাশ্মীর নিয়ন্ত্রণে আনতে সেনা উপস্থিতি দ্বিগুণ করার সিদ্ধান্ত

কাশ্মীর ইস্যুতে নয়াদিল্লি সরকারের অভ্যন্তরে সুস্পষ্ট মতভেদ

প্রকাশের সময় : ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬, ১২:০০ এএম

ইনকিলাব ডেস্ক : কাশ্মীরি স্বাধীনতাকামী খুররম পারভেজকে বৃহস্পতিবার গ্রেফতার করা হয়েছে। শ্রীনগরে তার বাড়ি থেকে তাকে গ্রফতার করা হয়। এর আগে, খুররমকে জেনেভা যেতে দেয়া হয়নি। তিনি সেখানে জাতিসংঘের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কাশ্মীরের বর্তমানে ভারত সরকারের সহিংসতার বিষয়টি তুলে ধরার জন্য যেতে চেয়েছিলেন। পুলিশ সুপারিন্টেন্ড ফয়সাল কাইয়ুম তার গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে, কি অভিযোগে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে, সে ব্যাপারে তিনি কিছু বলেননি। ফয়সাল জানান, আমরা বিষয়টি দেখছি এ মুহূর্তে তিনি আমাদের হেফাজতে আছেন। পারভেজের স্ত্রী সামিনা এএফপিকে জানান, পুলিশ গত বৃহস্পতিবার রাতে বাড়িতে ঢুকে তাকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। ভারতের পাবলিক সেফটি আইনের অধীনে কোন অভিযোগ ছাড়াই তাকে ছ’ মাস আটক রাখা হতে পারে।
অপর খবরে বলা হয়, কাশ্মীরে ডা-া দিয়ে ঠা-া করার নীতি গ্রহণ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ভারতীয় মন্ত্রিসভার নিরাপত্তা বিষয়ক কমিটি কাশ্মীরে সেনাবাহিনীর উপস্থিতি দ্বিগুণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রাজ্যপালের শাসন জারি না করে মেহবুবা মুফতির নির্বাচিত সরকারকে সামনে রেখে আরো সেনা পাঠিয়ে আগামী দশ দিনের মধ্যে কাশ্মীর উপত্যকাকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসাই মোদি সরকারের লক্ষ্য। তবে মন্ত্রিসভার ভিতরে ক্ষীণ কণ্ঠে হলেও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংহ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ মোদিকে এই পথের বিপজ্জনক দিকটা বোঝানোর চেষ্টা করছেন। প্রথমত, এই পথে চলে কাশ্মীর আরো উত্তাল হলে তা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতা বলে চিহ্নিত হবে। এই মতকে সমর্থন করেছেন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। দ্বিতীয়ত, এই পথের বিরোধীদের মতে সন্ত্রাসকে সন্ত্রাসের প্রেক্ষিত থেকেই দেখা বাঞ্ছনীয়। তার সঙ্গে ওয়াহাবি ভাবধারার সংযোগ স্থাপন ঠিক নয়। তাতে ওই ভাবধারার সমর্থক উত্তরপ্রদেশের দেওবন্দ গোষ্ঠীকেও উস্কে দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে কাশ্মীর নীতির প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে সমর্থন করছেন বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ।
এদিকে কাশ্মীরে পিডিপির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা এবং সংসদ সদস্য তারিক হামিদ কারার ইস্তফা দিয়েছেন। নিজের দল এবং এমপি পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে কারার অভিযোগ করেন, কাশ্মীরের মানুষের উপর কেন্দ্র অত্যাচার করছে ও কেন্দ্রের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে রাজ্য। এই অবস্থায় তিনি দলের সদস্যপদ এবং সংসদ সদস্য পদ ছাড়ছেন।
গত বৃহস্পতিবার অরুণ জেটলি, সুষমা স্বরাজ, রাজনাথ সিংহ, বেঙ্কাইয়া নায়ডু-এই চার কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে দিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ফোন করে অনুরোধ করেন মেহবুবা মুফতি। তার আবেদন ছিল, কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা যেন সংবাদমাধ্যমের কাছে কাশ্মীর নিয়ে সদর্থক বার্তা দেন। কারণ ‘হিন্দুস্তানের সরকার’ মেহবুবা সরকারকে দিয়ে অত্যাচার চালাচ্ছে, উপত্যকার মানুষের এই ধারণাকে ভ্রান্ত প্রমাণ করা প্রয়োজন। কিন্তু এই সাংবাদিক সম্মেলনের পর মেহবুবার পক্ষে পরিস্থিতি জটিলতর হয়ে ওঠে। রাজনাথ সব পক্ষের সঙ্গে রাজনৈতিক কথায় রাজি হলেও অরুণ জেটলি এই আন্দোলনের সঙ্গে ওয়াহাবি ভাবধারাকে জুড়ে বিশ্ব সন্ত্রাসের এক অঙ্গ হিসেবে কাশ্মীরকে তুলে ধরার চেষ্টা করেন। কাশ্মীর নিয়ে সরকারের ভিতরকার মতভেদও এই ঘটনায় স্পষ্ট হয়ে যায়। রাজনাথ নিজে ফোন করে মেহবুবাকে জানিয়েছেন যে, তিনি নিজেও ব্যক্তিগতভাবে ওয়াহাবি প্রশ্ন তোলার পক্ষপাতী ছিলেন না। এ ব্যাপারে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির গুরুত্বের কথাও মনে করিয়ে দিচ্ছেন পর্যবেক্ষকরা। দি এক্সপ্রেস ট্রিবিউন, এএফপি, এবিপি।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন