Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৫ জুন ২০২১, ০১ আষাঢ় ১৪২৮, ০৩ যিলক্বদ ১৪৪২ হিজরী
শিরোনাম

আলুতে লোকসান গুনছে কৃষক

হিমাগার সঙ্কটে মুন্সীগঞ্জে বাড়িতে সংরক্ষণ

মঞ্জুর মোর্শেদ, মুন্সীগঞ্জ থেকে | প্রকাশের সময় : ১৯ মে, ২০২১, ১২:০২ এএম

মুন্সীগঞ্জে চলতি মৌসুমে প্রায় ৩৮ হাজার ৩০ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়। মোট আলু উৎপাদন হয় প্রায় ১৪ লাখ ১৬ হাজার মেট্রিক টন। হিমাগারে আলু সংরক্ষণ করতে না পারায় অনেক কৃষক এবং আলু ব্যবসায়ীরা নিজ বাড়িতে মাচা করে, কেউ জমিতে গোলা করে আলু সংরক্ষণ করেছে। উৎপাদন খরচ বেশি পড়ায় এবং ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় প্রান্তিক কৃষক এবারও লোকসান গুনছে। গত এক সপ্তাহে কয়েক দফা বৃষ্টি হওয়ায় জমিতে রাখা গোলার আলু পচে যাচ্ছে।

জেলা কৃষি সস্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে মুন্সীগঞ্জে ৩৯ হাজার ৪শ’ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। জেলার ৬ উপজেলায় মোট ৩৮ হাজার ৩০ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ৯ হাজার ৭৯৫ হেক্টর, টংগীবাড়িতে ৯ হাজার ৯শ’ হেক্টর, সিরাজদিখানে ৯ হাজার ৩৫০ হেক্টর, লৌহজেং ৪ হাজার ১শ’ হেক্টর, গজারিয়ায় ২ হাজার ৪৫৫ হেক্টর এবং শ্রীনগরে ২ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে আলু চায় হয়। মোট আলু উৎপাদনের পরিমান প্রায় ১৪ লাখ ১৬ হাজার মেট্রিক টন।

গত দুই মৌসুমে আলুর ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় প্রান্তিক কৃষক আর্থিকভাবে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। চলতি মৌসুমে জমির বর্গা এবং কোল্ড স্টোরেজ ভাড়া বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষকের আলু চাষে মন প্রতি খরচ গত বছরের চেয়ে বেশি পরেছে। খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় চলতি মৌসুমেও প্রান্তিক কৃষক লোকসান গুনছে।

আলু চাষি বাচ্চু মিয়া জানান, এ বছর আলুর উৎপাদন খরচ পরছে বস্তা প্রতি প্রায় ১ হাজার থেকে ১২শ’ টাকা। জমিতে আলু বিক্রি হয়েছে ৫০ কেজির বস্তা ১ হাজার টাকা। বর্তমানে আড়তে ৫০ কেজির বস্তা বিক্রি হচ্ছে ১২শ’ টাকা। আলু চাষি ফিরুজ শিকদার জানান, এবার সার ব্যবসায়ীরা গত বছরের সার বিক্রি করে। জমিতে ঐ সার ব্যবহার করায় আলু উৎপাদন কম হয়। আলু চাষি জামাল বেপারী জানান, কোল্ড স্টোরেজে আলু রাখতে না পারায় জমিতে গোলা করে আলু রেখে দেই। গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে আলু নষ্ট হয়ে গেছে।

বেতকা একো কোল্ড স্টোরেজের ম্যানেজার মো. দৌলত আহম্মেদ জানান, চলতি মৌসুমে অধিকাংশ কোল্ড স্টোরেজ উত্তরাঞ্চলের আলু দিয়ে ৩০ ভাগ পূর্ণ করেছে। এতে বিলম্বে ওঠা মুন্সীগঞ্জের সব আলু কোল্ড স্টোরেজে রাখার জায়গা হচ্ছে না। জেলায় ৬৮টি কোল্ড স্টোরেজে আলুর ধারণ ক্ষমতা রয়েছে সাড়ে ৫ লাখ টন।

জেলা কৃষি সস্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. শাহ আলম জানান, এখানকার কৃষক প্রধানত ডায়মন্ড জাতের আলু চাষ করে। এ জাতের আলু দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা যায় না। তিনি জানান, কার্ডিনাল আলু লাগানোর জন্য কৃষকদের উৎসাহিত করা হচ্ছে। এ জাতের আলু দিয়ে বিভিন্ন ধরণের চিপিস তৈরি করা যায়। বাড়িতে সংরক্ষণ করা যায় দীর্ঘদিন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন