Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ নভেম্বর ২০১৮, ০৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক ৪৪ বছরেও কাঙ্খিত রূপ পায়নি : রেহমান সোবহান

প্রকাশের সময় : ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬, ১২:০০ এএম | আপডেট : ১২:১৭ এএম, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

কূটনৈতিক সংবাদদাতা : অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুুল মুহিত বলেছেন, পটুয়াখালীর পায়রা বাংলাদেশের অনেক ভালো একটি সমুদ্রবন্দর হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। আর আমার ধারণা, চীন ও ভারত এই প্রকল্পে একসঙ্গে কাজ করতে পারে। বাংলাদেশ-ভারত সর্ম্পক : উন্নয়ন ও আগামীর চ্যালেঞ্জ শীর্ষক দিনব্যাপী আলোচনার সমাপনী অধিবেশনের বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। রাজধানীর ডেইলী স্টার সেন্টারে একদিনের এই সংলাপটি যৌথভাবে আয়োজন করেছে ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টার ও বেসরকারি সংস্থা আইপিএজি।
বাংলাদেশের সাফল্যের গল্প উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী মুহিত বলেন, দারিদ্র্য বিমোচন বাংলাদেশের সাফল্যের মূলভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে। ২০৩০ সাল নয়, বাংলাদেশ দারিদ্র্য মুক্তির বছর হিসেবে ২০২৪ সালকেই নির্ধারণ করেছে। উন্নয়নের বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে এর আগেই তা সম্ভব হবে।
সামগ্রিক পরিস্থিতি বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের (এফডিআই) জন্য একটি ‘খুব আকর্ষণীয়’ এলাকা। বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত হাট নিয়ে মুহিত বলেন, সীমান্ত হাট খুব বেশি বাড়ানো হয়নি তবে আরো কিছু সীমান্ত হাট বাড়ানো হতে পারে। তিনি বাংলাদেশ, ভারত ও ভুটানের সমন্বয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের মতো বড় খাত নিয়ে বলেন, ভুটানে উৎপাদিত বিদ্যুৎ ভারত হয়ে বাংলাদেশে আসতে পারে।
তবে তিনি ভারতীয় দর্শকদের জন্য বাংলাদেশী টিভি চ্যানেল সম্প্রচারে বাধার ক্ষেত্রে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, এ খাতে বেসরকারী খাতের মাধ্যমে ২০ লাখ রুপির বিরাট ফি ধার্য করে তা আটকে দেয়া হয়েছে।
আলোচনার শুরুতে দুদেশের বিদ্যমান নানান বিষয়াদি তুলে ধরা হয় আয়োজকদের পক্ষ থেকে। সংলাপের শুরুতেই ঢাকাস্থ ভারতীয় ডেপুটি হাইকমিশনার ড. আদর্শ সোয়াইকা সন্ত্রাস দমনে বাংলাদেশের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, জঙ্গি দমনে বাংলাদেশকে পূর্ণ সহযোগিতা দিতে চায় ভারত। এই সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশকে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করবে তার দেশ।
তবে অনুষ্ঠানে সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ-সিপিডির চেয়ারম্যান অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেন, বাংলাদেশ রাষ্ট্র গঠনের পর থেকেই দু’দেশের সম্পর্ক নিয়ে নানারকম সংলাপ হলেও ৪৪ বছরেও তা কাক্সিক্ষত রূপ পায়নি। বাংলাদেশ-ভারতের মাঝে এই সম্পর্ক উন্নয়ন নিয়ে এই সংলাপের শুরু ১৯৭২ থেকে। যদিও তা বাস্তবে খুব বেশি সফলতার মুখ দেখেনি।
আর প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা মশিউর রহমানের মতে, দু’দেশের বাণিজ্য সম্পর্কের অনেক সুবিধাই আদায় করতে পারেনি বাংলাদেশ। তিনি বলেন, ভারতের সাথে বাণিজ্য সম্পর্কের ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত এমন কোনো বিশেষ বাণিজ্য পদ্ধতি আদায় করতে পারেনি যেখান থেকে বাংলাদেশ লাভবান হতে পারে।
অনুষ্ঠানের বিভিন্ন সেশনে আরো বক্তব্য রাখেন, ডেইলী স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম, অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ, ড. আইনুন নিশাত, আইপিএজির চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ মুনির খসরু, সিপিডির নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক মুস্তাফিজুর রহমান, জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ম তামিম, ঢাকায় নিযুক্ত সাবেক ভারতীয় হাইকমিশনার রজিত মিটার, কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রি (সিআইআই) সদস্য পঙ্কজ তান্দন, এসিআই লিমিটেডের এমডি ড. আরিফ দৌলা, এনার্জি এন্ড রিসোর্সেস ইনস্টিটিউটের ফেলো নিত্য নন্দা, ডেইলী স্টারের উপ-সম্পাদকীয় সম্পাদক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহেদুল আনাম, ভারতের দ্য হিন্দুর ডিপ্লোমেটিক এন্ড স্ট্রাটেজিক অ্যাফেয়ার্স এডিটর সুহাসিনী হায়দার এবং আইডিএসএ রিসার্স ফেলো শ্রুতি এস পাটনায়েক প্রমুখ।



 

Show all comments
  • Nannu chowhan ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬, ৫:৫৭ এএম says : 0
    He has done right thing.indian army doing brutal unhuman immoral to the kashmiri people.
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ