Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৪ জুন ২০২১, ১০ আষাঢ় ১৪২৮, ১২ যিলক্বদ ১৪৪২ হিজরী

রোজিনা ইসলামের নিঃশর্ত মুক্তি চাই

প্রথম আলো’য় কর্মরত সাংবাদিকদের মানববন্ধন

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৯ মে, ২০২১, ১২:০০ এএম

সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানিয়েছেন প্রথম আলো প্রত্রিকায় কর্মরত তার সহকর্মীরা। তারা মামলা প্রত্যাহার এবং তাকে অপদস্থকারীদের তদন্ত ও দায়ী ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনারও দাবি জানান। গতকাল মঙ্গলবার প্রথম আলো কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত মানববন্ধন থেকে তারা এসব দাবি জানান।

সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে হেনস্তাকারীদের বিচার এবং তার মুক্তির দাবিতে গতকাল এই মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। এতে প্রথম আলোর সাংবাদিক, বিভিন্ন বিভাগে কর্মরত কর্মীরা অংশ নেন। মানববন্ধনে বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিক, সাংবাদিক সংগঠনের নেতা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, উন্নয়নকর্মীরা অংশ নিয়ে সংহতি প্রকাশ করেন।

মানববন্ধনের রোজিনার সহকর্মীরা হাতে ‘বিপন্ন সাংবাদিকতা, কাঁদছে দেশ’, ‘রোজিনা ইসলামের মুক্তি চাই’, ‘স্বাধীন দেশে স্বাধীন গণমাধ্যম চাই’, ‘সৎ ও সাহসী সাংবাদিকতার ভবিষ্যৎ কী’, ‘সাংবাদিকতা অপরাধ নয়’, ‘সাংবাদিকতাসংশ্লিষ্ট কালো আইন বাতিল চাই’, ‘বাকস্বাধীনতা সাংবিধানিক অধিকার’ ইত্যাদি সেøাগান লেখা পোস্টার দেখা গেছে।

পত্রিকাটির ব্যবস্থাপনা সম্পাদক সাজ্জাদ শরিফ বলেন, রোজিনা ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিকতা করছেন। তার সুনাম দেশে ও দেশের বাইরে। সাংবাদিকতার জন্য বহু পুরস্কার পেয়েছেন। তার সাংবাদিকতার মূল শক্তি অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা। করোনার কারণে জনস্বাস্থ্য খাত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। রোজিনা ইসলাম স্বাস্থ্য খাতের নানা অনিয়ম-দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা নিয়ে রিপোর্ট করছিলেন। মামলা আইনের পথেই মোকাবিলা করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা আদালতের প্রতি আস্থাশীল যে আমরা ন্যায়বিচার পাব। রোজিনা ইসলাম একজন সাংবাদিক হিসেবে তার পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে সচিবালয়ে গিয়েছিলেন।

সাজ্জাদ শরিফ বলেন, দেশের সংবিধানে বাকস্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে, বিশেষ করে সংবাদক্ষেত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে ডিজিটাল অ্যাক্টসহ যেসব আইন হয়েছে, সেগুলো রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতার মধ্য দিয়ে যে বাকস্বাধীনতা ও গণতন্ত্র অর্জন করেছি, তার সঙ্গে সুস্পষ্টভাবে বিপরীতমুখী ও সাংঘর্ষিক। এগুলো স্বাধীন সাংবাদিকতার পথকে সংকুচিত করেছে।

পত্রিকাটির সহযোগী সম্পাদক আনিসুল হক বলেন, এটি আইনি প্রক্রিয়ার বাইরেও হতে পারে। রাজনৈতিক সিদ্ধান্তও হতে পারে। রিমান্ডের আবেদন না করলে আমরা রোজিনার জামিনও পেতে পারতাম। রোজিনা ইসলামের নিঃশর্ত মুক্তি চাই, তার বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহার চাই এবং তাকে অপদস্থকারীদের তদন্ত ও দায়ীদের বিচার চাই। তিনি বলেন, যারা রোজিনাকে হেনস্তা করেছে, আটকে রেখেছ, তারা বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেনি। সারা বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিক্ষুন্ন হচ্ছে। সারা বিশ্ব দেখছে, বাংলাদেশে সাংবাদিক নিপীড়নকারী দেশ এবং গণমাধ্যমের মতপ্রকাশের স্বাধীনতাক্ষুন্ন করে এমন একটি দেশ। সাংবাদিকদের স্বাধীনতা চাই, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা চাই। সাংবাদিকতার স্বাধীনতা রাষ্ট্রে সুশাসনের জন্য দরকার। মানববন্ধনে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিসহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা অংশ গ্রহণ করেন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: রোজিনা ইসলাম


আরও
আরও পড়ুন