Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৯, ০২ কার্তিক ১৪২৬, ১৮ সফর ১৪৪১ হিজরী

মহাসড়ক এখন মৃত্যুফাঁদ!

প্রতিদিনই ঝরছে প্রাণ

প্রকাশের সময় : ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬, ১২:০০ এএম | আপডেট : ১১:৪০ পিএম, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

হাসান সোহেল : কথা ছিলো ঈদের ছুটি শেষে কাজে ফেরার। বাড়িতে অপেক্ষায় থাকা চিন্তিত স্বজনদের সাথে নিরাপদে কর্মস্থলে পৌঁছেই ফোন করবে বলে কথা ছিলো। কিন্তু তা আর হলো না। এক নিমেষেই সব শেষ। বলছিলাম গত শুক্রবার প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদ করে কর্মস্থলে ফিরতে গিয়ে নিহত ৫ পোশাক শ্রমিকের কথা। শুক্রবার ভোর চারটায় ঢাকা-বঙ্গবন্ধু মহাসড়কের কালিহাতী উপজেলার পুংলী এলাকায় এই সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন ৫ জন।
তাদের কর্মস্থল গাজিপুরের সফিপুর। সেখানেই যাচ্ছিলেন তারা। কিন্তু সেই যাত্রাই হলো তাদের অন্তিম যাত্রা। ঈদের ছুটির সঙ্গে শেষ হলো জীবনেরও ছুটি। নির্মম মৃত্যুতে শেষ হলো তাদের জীবন যাত্রা। অথচ মহাসড়ক নিরাপদ করতে মন্ত্রী নিত্যদিন সড়ক-মহাসড়কে দৌড়ঝাঁপ করছেন। টিভি ক্যামেরায় সে দৃশ্য দেখানো হচ্ছে। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সড়ক দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক প্রফেসর ড. মোয়াজ্জেম হোসেন ইনকিলাবকে বলেন, চালকদের অতিরিক্ত ডিউটি ও আয় করার প্রবণতা দুর্ঘটনা বাড়ছে। ভাঙাচোরা ও ত্রুটিপূর্ণ সড়ক, ভুয়া লাইসেন্সধারী চালক, গাড়ির অতিরিক্ত গতি, ওভার টেকিং, নিয়ম না মানার প্রবণতা এবং জনসচেতনতার অভাবে বেশি দুর্ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া যানজটে পড়ে সময় ক্ষেপণ হওয়ায় পরবর্তীতে দ্রুত চালিয়ে তা পুষিয়ে নেয়ার মানসিকতাই দুর্ঘটনার কারণ। নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)-এর চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন এ প্রসঙ্গে বলেন, যতদিন পর্যন্ত দেশের রাজনীতি সঠিকভাবে না চলবে ও জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করা না হবে, ততোদিন দুর্ঘটনা রোধ করা সম্ভব হবে না। একই সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অবহেলা, সঠিক ব্যবস্থাপনা, আইনের বাস্তবায়ন, দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ও সচেতনতার উপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
প্রতিদিনই অকালে ঝরছে তাজাপ্রাণ। কেউ বা বরণ করছেন আজীবনের জন্য পঙ্গুত্ব। এ যেন নিত্যদিনের সঙ্গী। আর ঈদ আসলে এটা যেন আরও বেড়ে যায় কয়েকগুণ। এবারও এর ব্যতিক্রম হয়নি। ঈদযাত্রা মানেই যেন সড়ক-মহাসড়কে দুর্ভোগ। ঈদ শেষে কর্মস্থলে ফেরার পথে তেমনি অবধারিত মৃত্যুর মিছিলে পড়েছে দেশের মানুষ। দেশের মহাসড়কগুলোতে প্রতিদিনই দীর্ঘ হচ্ছে মৃত্যুর মিছিল। গত শুক্রবারও নববধূকে তুলে আনতে গিয়ে লাশ হয়েছেন বরসহ অন্তত ২০ জন। গতকালও সড়কে ঝরেছে ১৫টি প্রাণ। টাঙ্গাইল এবং সিলেটের গোলাপগঞ্জের দু’টি মহাসড়কেই ঝরেছে ১২টি তাজাপ্রাণ। ঈদের আগেও প্রায় ৩২ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। সব মিলিয়ে ঈদ কেন্দ্রিক সড়ক দুর্ঘটনায় সারা দেশে প্রায় শতাধিকেরও বেশি মানুষ মারা গেছেন। দুর্ঘটনার কবলে পড়ে এ পর্যন্ত আহত হয়েছেন প্রায় ৫ শতাধিক।
সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে দেশজুড়ে প্রতিবাদ হলেও এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো উদ্যোগ নেই। বরং প্রতিবছরই সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বাড়ছে। অথচ যুদ্ধেও মারা যায় না এত মানুষ। তবুও দেখার যেন কেউই নেই। সড়ক দুর্ঘটনার জন্য ভাঙাচোরা ও ত্রুটিপূর্ণ সড়ক, অদক্ষ ও ভুয়া লাইসেন্সধারী চালক, অতিরিক্ত গতি, ওভার টেকিং, নিয়ম না মানার প্রবণতা এবং জনসচেতনতার অভাবকে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা। একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটলেও দেশে সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিল ও সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধবিষয়ক সেলের ভূমিকা নিয়ে অভিযোগ উঠেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রশিক্ষণ ছাড়াই উৎকোচের বদৌলতে এ দেশে গাড়ি চালানোর লাইসেন্স মেলে। লাইসেন্স ছাড়াই গাড়ি চালানোর ঘটনা ঘটছে অহরহ। তাদের মতে, সড়ক দুর্ঘটনা এড়াতে সরকারকে এসব বিষয়ে বিশেষ গুরুত্বারোপ করতে হবে। একই সঙ্গে ট্রাফিক ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হলে সড়ক দুর্ঘটনা অনেকাংশেই কমিয়ে আনা সম্ভব বলে মনে করছেন তারা। দেশের মানুষের জীবন রক্ষায় এটি সরকারের দায়িত্ব বলে বিবেচিত হওয়া উচিত বলে উল্লেখ করেন বিশেষজ্ঞরা। যদিও নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান বিভিন্ন সময়ে দেয়া বক্তব্যে চালকদের দোষ দিতে নারাজ। তিনি বলেছেন, গরু-ছাগল চিনলেই অশিক্ষিত চালকরাও লাইসেন্স পেতে পারেন।
সূত্র মতে, সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতিটি ঈদে একের পর এক দুর্ঘটনা যেন নিয়তির লিখন হয়ে দাঁড়িয়েছে। চালকদের বেসামাল আচরণের কারণে ঘটছে বেশির ভাগ দুর্ঘটনা। উৎসবরত মানুষকে হঠাৎ করেই গ্রাস করছে প্রিয়জন হারানোর শোক। ঈদুল ফেতরের সময় এ বছর সারা দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছিলেন প্রায় ২শ’ জন। আহতের সংখ্যা ছিল দুই হাজারের বেশি। যাদের অনেককেই সারা জীবন পঙ্গুত্বের অভিশাপ ভোগ করতে হবে। স্বজনদের জীবনে এসব হতাহতের ঘটনা বয়ে আনছে সীমাহীন দুর্ভোগ ও ভোগান্তি।
নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটির (এনসিপিএসআরআর) জরিপ ও পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১০ বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে ৫০ হাজার ৬২৭ জন নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনা ঘটেছে ৪৪ হাজার ৭১৬টি। এতে আহত হয়েছেন ৮২ হাজার ১৫২ জন। ২০০৬ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত গবেষণা করে এ হিসাব বের করেছে এনসিপিএসআরআর। যদিও অধিকাংশ তথ্যই পুলিশের দেয়া। পুলিশ দুর্ঘটনা ও হতাহতের যে হিসাব দেয়, প্রকৃত সংখ্যা এর তিন গুণ বলেও অনেক বিশেষজ্ঞ মত দিয়েছেন।
সড়ক দুর্ঘটনাকে নরহত্যা হিসেবে গণ্য করে দায়ী চালকদের যাবজ্জীবন কারাদ- দেয়ার আইন করা হয়েছিল ১৯৮৫ সালে। কিন্তু শ্রমিক সংগঠনগুলোর চাপে সরকার পরে আইন সংশোধন করে। এখন চালকের ভুলে দুর্ঘটনা হলে তিন বছর কারাদ-ের বিধান আছে। আইনটি যুগোপযোগী করতে ২০০৭ সালে একটি কমিটি করেছিল যোগাযোগ মন্ত্রণালয়। কমিটি আইনের খসড়া তৈরি করে। এরপর আর খসড়াটি আইনে পরিণত করা হয়নি। যে কারণে একটি দুর্ঘটনার পর কয়েক দিন হইচই হলেও বাস্তব কোন পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে না।
২০১১ সালের ১৩ আগস্ট ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার জোকা নামক স্থানে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চলচ্চিত্র নির্মাতা তারেক মাসুদ এবং প্রখ্যাত সাংবাদিক ও এটিএন নিউজের প্রধান সম্পাদক আশফাক মুনীর (মিশুক মুনীর)। সে সময় কিছুদিন এ নিয়ে দেশজুড়ে সড়ক দুর্ঘটনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হলেও ক’দিন পর তা মিইয়ে যায়। সে সময় সড়ক দুর্ঘটনায় চালকের শাস্তি বাড়ানোর দাবি উঠেছিল। এরও আগে থেকে নিরাপদ সড়ক চাই ব্যানারে চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন রাজপথে লড়াই করে যাচ্ছেন সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে। কিন্তু কোনো সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। এখনো সড়ক-মহাসড়কগুলো যেন মৃত্যু ফাঁদ।
তারেক মাসুদ ও মিশুক মুনীরের মৃত্যুর পর এরপর অবশ্য ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন ও জাল ড্রাইভিং লাইসেন্সের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম পরিচালনা করা হলেও এক সময় এসে তা ঝিমিয়ে পড়ে। এছাড়া মহাসড়কের ঝুঁকিপূর্ণ অনেক বাঁক চিহ্নিত করে সংস্কারও করা হয়। কোথাও কোথাও সতর্কীকরণ সংকেতও টানিয়ে দেয়া হয়। এত কিছুর পরও সড়ক দুর্ঘটনা কমছে না।
নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)-এর চেয়ারম্যান চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন ইনকিলাবকে বলেন, ঈদ আসলেই দেশে দুর্ঘটনা বাড়ে। মানুষ যেতে পারবে কি পারবে না তা চিন্তা করে না। উঠতে পারলেই চলে। আর চালক ও গাড়ীর মালিকদেরও এই সময়ে অতিরিক্ত আয়ের প্রবণতাই দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ। তিনি বলেন, চালকদের প্রশিক্ষণ, সড়কগুলো সঠিকভাবে মেরামত এবং রেলের ব্যবস্থা করা গেলে এ থেকে কিছুটা উত্তরণ সম্ভব। ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, যতদিন পর্যন্ত দেশের রাজনীতি সঠিকভাবে না চলবে ও জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করা না হবে, ততোদিন দুর্ঘটনা রোধ করা সম্ভব হবে না বলে মত দেন তিনি। একই সঙ্গে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর অবহেলা, সঠিক ব্যবস্থাপনা, আইনের বাস্তবায়ন, দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ও সচেতনতার উপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সড়ক দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক প্রফেসর ড. মোয়াজ্জেম হোসেন ইনকিলাবকে বলেন, সারাবছরই দুর্ঘটনা ঘটে। তবে ঈদ কেন্দ্রিক দুর্ঘটনা বাড়ার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, চালকদের অতিরিক্ত ডিউটি ও আয় করার প্রবণতা। একই সঙ্গে যানজটে পড়ে সময় ক্ষেপণ হওয়ায় পরবর্তীতে দ্রুত চালিয়ে তা পুষিয়ে নেয়ার মানসিকতার কারণে দুর্ঘটনা বাড়ছে। এছাড়া ভাঙাচোরা ও ত্রুটিপূর্ণ সড়ক, ভুয়া লাইসেন্সধারী চালক, গাড়ির অতিরিক্ত গতি, ওভার টেকিং, নিয়ম না মানার প্রবণতা এবং জনসচেতনতার অভাবে বেশি দুর্ঘটনা ঘটে। তবে এ থেকে উত্তরণে সড়কে যাতে ড্রাইভাররা অতিরিক্ত স্পীডে গাড়ী চালাতে না পারে সে জন্য ডিজিটাল সিগনাল ব্যবহারের উপর গুরুত্বারোপ করেন। এক্ষেত্রে প্রয়োজনে জরিমানা, লাইসেন্সে নেগেটিভ সাইন এবং প্রয়োজনে লাইসেন্স বাতিল করার পরামর্শ দেন ড. মোয়াজ্জেম হোসেন।
তিনি বলেন, আইন আছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে বাস্তবায়নও হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আইন মানা হয় না। আইনের প্রয়োগ হয় না। ড. মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ড্রাইভারদের প্রশিক্ষণ এখনো একটি বড় সমস্যা। ট্রেনিং নিয়ে ড্রাইভার হয়েছে এ রকম সংখ্যা খুবই কম। অধিকাংশ ড্রাইভারই উপযুক্ত ট্রেনিং পাচ্ছে না। তিনি জানান, সচেতনতা বৃদ্ধি, চালকের প্রশিক্ষণ, আইনের সঠিক প্রয়োগের মাধ্যমে ৫০ শতাংশের উপরে দুর্ঘটনা কমানো সম্ভব। আর পরিকল্পিতভাবে সড়ক নির্মাণ, ত্রুটিমুক্ত যানবাহন নিশ্চিত করা এবং এ খাতে গবেষণা-পরিকল্পনার মাধ্যমে দুর্ঘটনা একেবারে কমিয়ে আনা যায়। এজন্য সকলের মধ্যে সমন্বয় থাকা দরকার।
টাঙ্গাইলে পৃথক দুর্ঘটনায় ১১ জনের মৃত্যু
গতকাল টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে দুই পরিবারের ৫ জন, মধুপুরে ৪ জন এবং কালিহাতিতে মাইক্রোবাসের ধাক্কায় ২ জন নিহত হন।
মির্জাপুর উপজেলা সংবাদদাতা জানান, গতকাল শনিবার ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের মির্জাপুর উপজেলার ইচাইলে ট্রাক-বাস মুখোমুখি সংঘর্ষে একই পরিবারের ৩ জন ও মা-ছেলেসহ ৫ জন নিহত ও ২৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ১৪ জনকে মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্র জানায়, কুড়িগ্রাম থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসা জাবালে নুর পরিবহনের যাত্রীবাহী বাস (ঢাকা মেট্রো-ব ১১-৭৭৭২) এবং টাঙ্গাইলগামী ইটবোঝাই (টাঙ্গাইল ট-০২০৩২৯) একটি ট্রাকের মধ্যে শনিবার সকাল সোয়া ৭টার দিকে মহাসড়কের ওইস্থানে মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই এক শিশু ও নারী নিহত হন এবং কমপক্ষে ২৫ জন যাত্রী আহত হন। আহতদের স্থানীয় জনগণ এবং পুলিশ উদ্ধার করে কুমুদিনী হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে আরও ৩ জনের মৃত্যু হয়। মর্মান্তিক এই সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতরা হলেনÑকুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট থানার চরকিরপাশা গ্রামের সুমন মহন্ত (৩৫), তার স্ত্রী মিনিত্রা মহন্ত (২৭), তাদের ভাগ্নে তিতাস রায় (৯), একই জেলার উলিপুর উপজেলার গোড়াইপিয়ার গ্রামের রহিমা খাতুন (৩২) এবং তার ৭ বছরের শিশুপুত্র বায়জিদ মিয়া।
আহতদের মধ্যে ২ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে কুমুদিনী হাসপাতালের পরিচালক ডা. দুলাল চন্দ্র পোদ্দার জানিয়েছেন।
নিহতদের মধ্যে ২ জনের লাশ মির্জাপুর থানায় এবং ৩ জনের লাশ কুমুদিনী হাসপাতাল মর্গে রয়েছে। এদিকে টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক মো. মাহাবুব হোসেন নিহতদের লাশ পরিবহনের জন্য প্রত্যেকে ২০ হাজার ও আহতদের চিকিৎসার জন্য ১০ হাজার টাকা করে অনুদান দেবেন বলে মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুম আহমেদ স্থানীয় সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।
মধুপুর উপজেলা সংবাদদাতা জানান, মধুপুরে বাস-ট্রাক মুখোমুখি সংঘর্ষে ৪ জন নিহত ও ১৭ জন আহত হয়েছে। পুলিশ জানায় গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় মধুপুর পৌরসভার আশুড়া নামক স্থানে টাঙ্গাইল থেকে ছেড়ে আসা প্রান্তিক পরিবহনে যাত্রীবাহী বাস ও মধুপুর থেকে ছেড়ে আসা টাঙ্গাইলগামী ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনার স্থলে মধুপুর উপজেলার টিকরী গ্রামের লিটন (২০) একই গ্রামের সামছুল হকের মেয়ে সালমা (২৫) পোদ্দার বাড়ী গ্রামে সমশের আলীর ছেলে রজব আলী (৬০) ও অজ্ঞাত অনুমান (৩৫) বয়সের এক ব্যক্তিসহ ৪ জন নিহত হন। আহতদের মধ্যে ১০ জন ময়নসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে, ২ জন সৈনিকসহ ৫ জনকে সহীদ সালাউদ্দিন সেনানিবাসের সিএমএইচে ও ২ জন মধুপুর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
রাজাপুরে বাসচাপায় শ্যালক-দুলাভাই নিহত
রাজাপুর উপজেলা সংবাদদাতা : ঝালকাঠির রাজাপুরে যাত্রীবাহী বাসচাপায় মোটরসাইকেল চালক শ্যালক ও আরোহী দুলাভাই নিহত হয়েছেন। শনিবার বিকেলে উপজেলার পিংড়ি গ্রামের মিলবাড়ি এলাকার খুলনা-বরিশাল মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেনÑউপজেলার আলগি গ্রামের সেলিম হাওলাদারের ছেলে সজীব হাওলাদার (১৮) ও পটুয়াখালির রুহুল আমিনের ছেলে খলিল হোসেন (৩৫)। এ ঘটনায় অপর মোটরসাইকেল আরোহী উত্তর পিংড়ি গ্রামের সোবাহান হাওলাদারের মেয়ে শারমিন আক্তার (১৫) আহত হয়েছেন। সজীব ও খলিল সম্পর্কে শ্যালক-দুলাভাই এবং আহত শারমিন সজীবের খালাতো বোন। ঘটনার পর স্থানীয় জনতা আধা ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে গতিরোধকের দাবি করলে পুলিশ তাদের আশ^াস দিয়ে অবরোধ তুলে যান চলাচল স্বাভাবিক করে দেয় এবং বাসটিকে আটক করে।



 

Show all comments
  • শুভ্র ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬, ২:২৭ পিএম says : 0
    ভাষণ দেয়ার লোক আছে সমাধানের নাই।
    Total Reply(0) Reply
  • আশিক ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬, ২:৩৯ পিএম says : 0
    আর কত প্রাণ গেলে কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে সিরিয়াস হবে?
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ