Inqilab Logo

বুধবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২১, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ২৫ রবিউস সানী ১৪৪৩ হিজরী
শিরোনাম

গাজায় ১১ দিনের যুদ্ধে মানবিক পরিস্থিতির ভয়াবহ অবনতি, স্বজন হারানোর আহাজারি

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ২৩ মে, ২০২১, ৫:৪৪ পিএম

ইসরাইলি বাহিনীর টানা ১১ দিনের নারকীয় তাণ্ডবের পর এখন কিছুটা শান্ত গাজা উপত্যকা। তবে ইসরাইলের পৈশাচিকতার স্পষ্ট ক্ষত পুরো ভুখণ্ডজুড়ে। নির্বিচার হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন নারী এবং নিষ্পাপ শিশুসহ ২৪৩ জন। আহত হয়ে হাসপাতালের বিছানায় কাতরাচ্ছেন বহু মানুষ। তবে যারা প্রাণ নিয়ে নিজ ভিটায় ফিরেছেন, তাদের সঙ্গী হয়েছে স্বজন হারানোর আহাজারি কিংবা মাথা গোজার ঠাঁই হারানোর বেদনা।

গাজার শিশুদের আর্তনাদই বলে দেয়, ইসরাইলি বাহিনীর নৃশংসতার মাত্রা। সন্তান হারানো মায়ের আহাজারি জানান দেয়, গত কয়েক দিনে ইসরাইলি বাহিনীর পৈশাচিকতা। টানা ১১ দিন অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় সাধারণ ফিলিস্তিনিদের ওপর নির্বিচারে হামলা চালানোর পর ইসরাইল যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিলেও এ কয়দিনে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ব্যাপক। নারী ও শিশুসহ ২৪৩ জনের প্রাণহানির পাশাপাশি আহত হয়েছেন বহু মানুষ। তাদের মধ্যে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। অনেকে আবার পঙ্গু হয়ে বিছানায় কাতরাচ্ছেন। ইসরাইলি বর্বর হামলা থেকে বাঁচতে যারা নিজ বাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয় নিয়েছিলেন, যুদ্ধবিরতির পর তাদের অনেকেই পেয়েছেন শুধু কংক্রিটের ধ্বংসস্তূপ। কেউ আবার হারিয়েছেন আপনজন। তবুও এসব নিপীড়িত মানুষের একটিই চাওয়া, স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র। সেখানকার নাগরিকরা বলছেন, আমাদের রক্ত জেরুজালেমের জন্য। আমাদের রক্ত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড রক্ষা করার জন্য। তাদের একজন বলেন, আমার ১১ বছর বয়সী ভাতিজাকে হত্যা করা হয়েছে। কেন তাকে মরতে হলো? বিশ্ব কি কিছুই দেখছে না?

জেরুজালেমের আল আকসা মসজিদে প্রবেশের দাবিতে ফিলিস্তিনিদের বিক্ষোভের জেরে, গেল ১০ মে গাজা ভূখণ্ডে নির্বিচারে বোমা হামলা শুরু করে ইসরাইলি বাহিনী। এর জবাবে ইসরাইলের অভ্যন্তরেও রেকর্ড সংখ্যক রকেট নিক্ষেপ করে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। এদিকে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি বিঙ্কেন আগামী বুধ ও বৃহস্পতিবার ইসরাইল এবং অধিকৃত পশ্চিম তীর সফরে যাবেন বলে জানা গেছে। গাজায় অবকাঠামো পুনর্নির্মাণে সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

১১ দিন পর এই প্রথম গত শুক্রবার রাতে গাজা উপত্যকা ছিল শান্ত। এই রাতে ইসরাইলের দিক থেকে কোনো বিমান হামলা চালানো হয়নি। হামাসের পক্ষ থেকেও কোনও রকেট নিক্ষেপ করা হয়নি। শুক্রবার থেকে যুদ্ধবিরতি বলবৎ হবার পর দ্বিতীয় দিন পর্যন্ত কোনও পক্ষ থেকে সেই সমঝোতা ভঙ্গের অভিযোগ উঠেনি। গাজার বাসিন্দারা তাদের বাড়ির বাইরে বের হয়ে এসেছেন। দেখেছেন কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। শুক্রবারও ধ্বংসস্তুপের নিচ থেকে বেশ কয়েকটি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। সংঘর্ষে অন্তত ২৪৮ ফিলিস্তিনি এবং ১২ ইসরাইলি নিহত হয়েছে। আহত লোকজনকে সরিয়ে নিতে করিডোর তৈরির আহ্বান জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

জাতিসংঘ বলছে, সর্বশেষ এই যুদ্ধে ৮০ হাজারের মতো মানুষ স্থানচ্যুত হয়েছে। তাদের কেউ কেউ এখন নিজেদের বিধ্বস্ত বাড়িতে ফিরে আসার চেষ্টা করছে। তবে গাজায় ইতোমধ্যেই মানবেতর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। ১১ দিনের ইসরাইলি আগ্রাসনে বহু পানির পাইপলাইন ধ্বংস হয়ে গেছে, বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে বিদ্যুৎ সংযোগ। ইসরাইল সীমান্তের একটি জায়গা আংশিকভাবে খুলে দেয়ার পর ৫০টির মতো লরি জরুরি খাদ্য ও চিকিৎসা সামগ্রী নিয়ে গাজায় প্রবেশ করতে সক্ষম হয়েছে। সাহায্য সংস্থাগুলোর ধারণা, ধ্বংস হয়ে যাওয়া বাড়িঘর ও অবকাঠামো পুনরায় নির্মাণ করতে কোটি কোটি ডলার খরচ হবে এবং এই কাজটি করতে লেগে যাবে কয়েক বছর। সূত্র: বিবিসি, রয়টার্স।



 

Show all comments
  • Dadhack ২৩ মে, ২০২১, ৬:০২ পিএম says : 0
    We muslim's are hundred percent responsible destructions of Gazza because 57 so called muslim ruler's are slave of Kafir countries.
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: গাজা


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ