Inqilab Logo

শনিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২২, ১৫ মাঘ ১৪২৮, ২৫ জামাদিউস সানি ১৪৪৩ হিজরী

উত্তপ্ত লাভার ঢল আতঙ্ক

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ২৪ মে, ২০২১, ১২:০২ এএম

গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে (ডিআর কঙ্গো) প্রায় দুই দশকের ব্যবধানে আবারও প‚র্ণোদ্যমে সক্রিয় হয়ে উঠেছে নিরাগঙ্গো আগ্নেয়গিরি। ভয়াবহ মাত্রায় উদগিরণ শুরু হওয়ায় প‚র্বাঞ্চলীয় শহর গোমা থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নিচ্ছে প্রশাসন। আগ্নেয়গিরিতে একটি নতুন ফাটল সৃষ্টি হওয়ায় গোমার দক্ষিণের দিকে বয়ে যেতে শুরু করেছে উত্তপ্ত লাভা। সেদিক থেকে শহরের প‚র্ব প্রান্তে অবস্থিত বিমানবন্দরের দিকে এগোচ্ছে লাভার স্রোত। গোমা থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার দ‚রে নিরাগঙ্গো শেষবার জেগে উঠেছিল ২০০২ সালে। সে সময় অগ্ন্যুৎপাতে প্রাণ হারায় আড়াই শ মানুষ। গৃহহীন হয় এক লাখ ২০ হাজার মানুষ। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০ লাখ বাসিন্দার শহরটির রাতের আকাশ নিরাগঙ্গোর আগুনে কমলা রং ধারণ করেছে। জ্বলন্ত লাভার বিস্ফোরণে দ‚র-দ‚রান্তে গিয়ে পড়ছে আগুনের ফুলকি। উত্তপ্ত লাভার ঢলের আতঙ্কে প্রাণ বাঁচাতে শহর ছেড়ে পালাতে শুরু করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দলে দলে হেঁটেই ছাড়ছেন শহর। উদগিরণ শুরু হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর সরকারি ঘোষণা এলেও এর আগেই প‚র্বাঞ্চলে রুয়ান্ডা সীমান্তের উদ্দেশে ছুটতে শুরু করেন হাজারো মানুষ। রুয়ান্ডার প্রশাসন জানিয়েছে, এরই মধ্যে তিন হাজার মানুষ গোমা সীমান্ত পার হয়েছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। বাকিদের অনেকেই শহরের পশ্চিমাঞ্চলের উঁচু এলাকায় গিয়ে আশ্রয় নিচ্ছেন। বার্তা সংস্থা এপিকে জাখারি পালুকু নামের এক নাগরিক বলেন, ‘আমাদের মাথা খারাপ হয়ে যাচ্ছে। সবাই ভয় পেয়ে আছে, পালাচ্ছে। কী করা উচিত আমাদের, বুঝতে পারছি না।’ পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় শহরের বড় অংশজুড়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রাখা হয়েছে। লাভার কারণে বন্ধ হয়ে গেছে গোমার সঙ্গে বেনি শহরের সড়ক যোগাযোগ। বিষাক্ত সালফারের গন্ধ মিশে যাচ্ছে দ‚রের বাতাসেও। ভিরুঙ্গা ন্যাশনাল পার্কে অবস্থিত আগ্নেয়গিরিটির এবারের অগ্ন্যুৎপাতও ২০০২ সালের মতোই ভয়াবহ রূপ নেয়ার পথে বলে সতর্ক করেছেন পার্কটির এক কর্মকর্তা। কর্মীদের উদ্দেশে দেয়া চিঠিতে বিমানবন্দরের কাছে অবস্থানরত প্রত্যেককে অবিলম্বে সরে যাওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন তিনি। এদিকে চলমান পরিস্থিতিতে রাজধানী কিনশাসায় জরুরি বৈঠক করেছেন কঙ্গোর প্রধানমন্ত্রী জ্যঁ-মিখাইল সামা লুকোঁদ। বাসিন্দাদের শান্ত থাকার পরামর্শ দিচ্ছে প্রশাসন। বিবিসি, এপি।

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: কঙ্গো


আরও
আরও পড়ুন
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ