Inqilab Logo

মঙ্গলবার, ২৬ অক্টোবর ২০২১, ১০ কার্তিক ১৪২৮, ১৮ রবিউল আউয়াল সফর ১৪৪৩ হিজরী

টেকসই বেড়িবাঁধ : কাফনের কাপড় পরে এ কেমন অবস্থান কর্মসূচি?

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ২৮ মে, ২০২১, ৪:৫৩ পিএম

দু’দিন আগে দেশের উপকূলীয় অনেক এলাকা ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’ এর আঘাতে প্রায় লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। ‘ইয়াস’ এর প্রভাবে উপকূলীয় সাতক্ষীরার শ্যামনগর ও আশাশুনি উপজেলার বেশ কিছু এলাকায় বেড়িবাঁধ ভেঙে পানি ঢুকেছে। এতে ফসলের ক্ষতি হয়েছে বেশি। তাই শুক্রবার সকাল ১০টায় উপকূলীয় শ্যামনগর উপজেলার পাতাখালি পয়েন্টের ভেঙে যাওয়া বেড়িবাঁধের ওপর টেকসই বেড়িবাঁধের দাবিতে কাফনের কাপড় পরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে এলাকাবাসী।


তারা জানান, শ্যামনগর ও আশাশুনি উপজেলার বেশ কিছু এলাকায় বেড়িবাঁধ ভেঙে যাওয়ায় বহু পুকুর ভেসে মাছের খামারিরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ঘরবাড়ি-রাস্তাঘাট সবকিছু পানিতে তলিয়ে গেছে। জরাজীর্ণ বেড়িবাঁধে বুধবার থেকে উত্তাল নদ-নদীর ঢেউ আচড়ে পড়ে এখন কঙ্কালসার বেড়িবাঁধ কোনো মতে টিকিয়ে রেখেছে উপকূলবাসী। বছরের পর বছর ধরে টেকসই বেড়িবাঁধের দাবি জানিয়ে আসলেও সেই দাবি বরাবরই উপেক্ষিত থেকেছে। কর্মসূচিতে নেয়া উপকূলবাসী- ভাসতে চাই না, বাঁচতে চাই। একবারই মরবো, বারবার নয়। আমাদের জীবনের কি কোন মূল্য নেই? জলবায়ু তহবিল কাদের জন্য? উপকূলের কান্না কি চিরদিনের? কর্তৃপক্ষ মরে গেছে, আমরা বেঁচে করবো কি? নিরাপদে বাঁচার, নাই কি আমার অধিকার? বাস্তভিটা ছেড়ে, ভাসানচরে যাবো না- ইত্যাদি প্লাকার্ড প্রদর্শন করেন। উপকূলের শিক্ষার্থীদের সংগঠন ম্যানগ্রোভ স্টুডেন্ট সোসাইটির আয়োজনে এই কর্মসূচিতে টেকসই বেড়িবাঁধের দাবিতে উপকূলের সর্বস্তরের মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া প্রকৌশলী ইয়াছির আরাফাত বলেন, বিগত ১২ বছর ধরে উপকূলের মানুষ ভাসছে। প্রতিবারই এমন পরিস্থিতিতে কর্তাব্যক্তিরা শুধু আশ্বাসের কিছু মুখস্ত বুলি আওড়ান। আমরা নানান ধরনের মেগা প্রকল্পের নাম শুনে আসছি, কিন্তু দুঃখের বিষয় এখনো পর্যন্ত কোন কার্যকর উদ্যোগ আলোর দেখা পায়নি। আমরা উপকূলের মানুষ টেকসই বেড়িবাঁধসহ এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান চাই। যদি সেটা সম্ভব না হয়, তাহলে অত্র অঞ্চল পরিত্যক্ত ঘোষণা করে অত্র অঞ্চলের মানুষকে নিরাপদ স্থানে স্থানান্তরিত করার দাবি জানাই। ভুক্তভোগী স্থানীয় রবিউল ইসলাম জানান, আম্ফানে ঘর বাড়ি সব ভেঙে গেছে। গত ৪ বছরে ৫ বার ঘর বানাতে হয়েছে। মাছের ঘের ডুবে গেলে সর্বস্বান্ত হয়ে যাই। একটু ঘুরে দাঁড়াতে না দাঁড়াতে আবার শুয়িয়ে দিল আমাদের। আর যাবারও জায়গা নেই। বলারও জায়গা নেই।

উপকূলীয় এলাকার ৮ হাজার কিলোমিটারেরও বেশি বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে। ২০০৭ সালে ঘূর্ণিঝড় সিডর ও ২০০৯ সালে আইলার পর উপকূল এলাকার এসব বাঁধের অনেক জায়গা ভেঙে গিয়েছিল, অনেক জায়গা বানের তোড়ে ভেসে গিয়েছিল; কিন্তু তার বড় অংশ এখনো যথাযথভাবে মেরামত হয়নি। গোটা উপকূলীয় এলাকা এখনও অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। এসময় উপস্থিত ছিলেন ম্যানগ্রোভ স্টুডেন্ট সোসাইটির সভাপতি আরিফুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক শাহিন বিল্লাহ, তরিকুল ইসলাম, মুহতারাম বিল্লাহ, মুতাসিম বিল্লাহ, হাসানুল বান্না প্রমুখ। প্রতীকী লাশ হয়ে প্রতিবাদ জানান মাসুম বিল্লাহ, ইয়াসির আরাফাত, সালাউদ্দিন, মাহি ও সালাউদ্দিন জাফরী।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: কর্মসূচি


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ