Inqilab Logo

শুক্রবার, ৩০ জুলাই ২০২১, ১৫ শ্রাবণ ১৪২৮, ১৯ যিলহজ ১৪৪২ হিজরী

ইস্তাম্বুলের তাকসিম চত্বরে নতুন মসজিদ উদ্বোধন করলেন এরদোগান

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ২৯ মে, ২০২১, ১০:৫০ এএম

তুরস্কে গতকাল শুক্রবার এক ঐতিহাসিক ঘটনা ঘটল। দেশটির ঐতিহাসিক শহর ইস্তাম্বুলের তাকসিম চত্বরে গতকাল শুক্রবার (২৮ মে) নতুন মসজিদ উদ্বোধন হয়েছে। উদ্বোধন করেছেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান। ধর্মনিরপেক্ষ অথচ মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ তুরস্কে অনেক প্রচেষ্টার পরও বহু আইনি লড়াই শেষে এ মসজিদটি নির্মাণ করা হয়।
এ মসজিদটির নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০১৭ সালে। তাকসিম স্কয়ারে এ ধরনের মসজিদ এ প্রথম নির্মিত হয়েছে। এটা এমন এক স্থানে অবস্থিত যার আশপাশে বহু খ্রিষ্টান গির্জা আছে। এটা একটি ছোট মসজিদ। ওসমানিয়া আমলের ছোট মসজিদের মতো আকারের এ মসজিদটিতে প্রতি ওয়াক্তে চার হাজার মানুষ একসাথে নামাজ পড়তে পারবেন।
তাকসিম মসজিদটি এমন এক স্থানে অবস্থিত যেখানে প্রতিদিন হাজারো মানুষ ভ্রমণ করতে আসেন। এ মসজিদটি ইসতিকলাল অ্যাভিনিউতে আতাতুর্ক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সামনে অবস্থিত। এখানে একটি অপেরা হাউজ ও অন্যান্য সাংস্কৃতিক বিষয়ের কেন্দ্র স্থাপিত হবে। এটার পশ্চিম পাশে আছে গাজি পার্ক।
এ মসজিদটি উদ্বোধনের অনুষ্ঠানে তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান বলেন, ‘আমি ইস্তাম্বুলের কাসিমপাশা জেলায় বড় হয়েছি। আমার মনে আছে মুসলমানদের একটি ছোট স্থানে খবরের কাগজের ওপর নামাজ পড়তে বাধ্য করা হতো। আমরা এখন আশা করতে পারি যে এ মসজিদটি মুসলিমদের দ্বারা কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে উঠবে। আমরা আরো আশা করি, এ মসজিদটি থেকে সব সময় আজানের ধ্বনি শোনা যাবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এরদোগান বলেন, "ইতোমধ্যে আমাদের মসজিদ ইস্তাম্বুলের প্রতীকগুলোর মধ্যে আলাদা স্থান অর্জন করেছে।"
সেইসঙ্গে মসজিদটি শহরের সংস্কৃতি ও শিল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হবে বলেও জোর দেন এরদোগান। তিনি বলেন, "উপাসনালয় হওয়ার পাশাপাশি তাকসিম মসজিদ হবে ইস্তাম্বুলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক ও শৈল্পিক কেন্দ্র, যার রয়েছে ডিজিটাল গ্রন্থাগার এবং পড়াশুনার স্থান, লাউঞ্জ এবং প্রদর্শনী অঞ্চল।"
দেশটির সরকারি বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি জানিয়েছে, এতে একসঙ্গে ৪ হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারবেন। সেইসঙ্গে এর রয়েছে বিশাল পার্কিং এরিয়া। পাশাপাশি এর সম্মেলন ও প্রদর্শনী হলগুলোও ব্যাপক পরিসরের।
খবরে বলা হয়েছে, মসজিদ কমপ্লেক্সটির বিস্তৃতি প্রায় ২ হাজার ৪৮২ বর্গমিটার বা ২৬ হাজার ৭১৬ স্কয়ার ফুট। আর নির্মিত অংশের পরিসর ১৬ হাজার ৫০০ বর্গমিটার। এছাড়া নামাজের জন্য রয়েছে কাঠের প্রাচীরের প্যানেল।
একইসঙ্গে এতে ক্যালিগ্রাফিস্ট দাভুত বেকটাস এবং মিনিয়েটিউরিস্ট আদেম তুরান-এর কারুকর্ম সম্বলিত কুরআনের শিলালিপিও রয়েছে।
এর একটি দেয়ালে নির্মিত হয়েছে একটি ৮.৫ মিটার উঁচু (প্রায় ২৮ ফুট) মিহরাব। এছাড়াও রয়েছে ৬০টি বাতি সম্বলিত ১২ মিটার ব্যাসের একটি আলোকিত ঝাড়বাতি, যা মসজিদের ৩৯ ফুট উঁচু সিলিংয়ে ঝুলছে। সূত্র : আল আরাবিয়া নিউজ



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ